৬ শীর্ষ জঙ্গিকে ধরতে ডিএমপির পুরস্কার ঘোষণা

12

জনতার নিউজ

৬ শীর্ষ জঙ্গিকে ধরতে ডিএমপির পুরস্কার ঘোষণা

বিগত কয়েক বছরে সংগঠিত ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক হত্যাকাণ্ডে জড়িত জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ৬ সদস্যকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য সর্ব-সাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ জন্য ২ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সংগঠক তাদের সংগঠনে শরিফুল, সাকিব, শরিফ, সালেহ, আরিফ ও হাদী-১ নামে পরিচিত।

এই ছয়জনের মধ্যে শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী-১ এবং সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী-২ এর জন্য পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

বাকি চারজনের প্রত্যেকের জন্য দুই লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এই চারজন হলেন- সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আব্দুস সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সালমান ওরফে সাদ, শিহাব ওরফে সুমন ওরফে সাইফুল এবং সাজ্জাদ ওরফে সজিব ওরফে সিয়াম ওরফে শামস।

সন্ধান দাতাকে এই পুরস্কার দেয়া হবে জানিয়ে পুলিশের ঘোষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে সংগঠিত ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে’ তদন্ত করে আসছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি বাড্ডার সাতারকুল ও মোহাম্মদপুরে দুটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা বিভাগ জানতে পারে- আস্তানা দুটি আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের ‘সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ ও ‘বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

“ওই অভিযানে গ্রেপ্তার আনসারউল্লাহর দুই সদস্যের দেওয়া তথ্য ও সেখান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন নথির ভিত্তিতে  ঢাকার আশকোনা ও দক্ষিণখানে তাদের আরও দুটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে এবিটির ছয়জনের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে।”

পুলিশ বলছে, ওই ছয়জন গতবছর ঢাকায় লেখক অভিজি রায় থেকে শুরু করে সর্বশেষ কলাবাগানে অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয়ের মতো বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

গতবছর ফেব্রুয়ারিতে অভিজিত খুন হওয়ার পর একে একে খুন হয়েছেন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নীলয়, অভিজিতের বইয়ের প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদ।

এর আগে যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর কয়েক দিনের মাথায় খুন হয়েছিলেন ব্লগার রাজীব হায়দার।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া সমপ্রতি জানান, ব্লগার, প্রকাশক হত্যায় সারা দেশে এ পর্যন্ত ২১টি মামলা হয়েছে, যার ১৬টিতে দোষীদের শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ।

অভিজিত্ রায় ও ফয়সল আরেফিন দীপনের হত্যাকারীদের ‘কেউ কেউ’ দেশ ছেড়ে গেছে বলেও সে সময় জানিয়েছিলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here