৫৯ জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে আগামীকাল রবিবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ

57

ec logo

২৫ জেলার ৯০ আসন ঝুঁকিপূর্ণ ; * নিরাপত্তার দায়িত্বে সাড়ে ৪ লাখ আইন-শৃংখলা সদস্য ; * তিন জেলায় হেলিকপ্টার দিয়ে নজরদারি

বিরোধী দলের বর্জনের মুখে ৫৯ জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে আগামীকাল রবিবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সাড়ে চার লাখ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। নির্বাচনী সামগ্রী প্রেরণ ও নজরদারীর জন্য পার্বত্য অঞ্চলের ৩ জেলার ৩৩ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে হেলিকপ্টার। নির্বাচনে কমপক্ষে ২৫টি জেলার ৯০টির মতো আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব আসনে বিরোধী জোটের নির্বাচন প্রতিরোধে গঠিত সংগ্রাম কমিটি, জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটাররা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে যাতে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে, তার জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি নির্বিঘ্নে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

আগামী ৫ জানুয়ারি ৫৯টি জেলার ১৪৭টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের সব আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় এসব জেলার কোনো আসনে ভোট হবে না। মোট ৯ কোটি ১৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ৯৭৭ জন ভোটারের মধ্যে এবার ভোট দিবেন ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন। ১৪৭ আসনে মোট ভোটকেন্দ হচ্ছে ১৮ হাজার ২০৮টি। আর ভোটকক্ষ ৯১ হাজার ২১৩টি। এ আসনগুলোতে ১২টি রাজনৈতিক দলের মোট ৩৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। নির্বাচনে দায়িত্বে আছেন রিটার্নিং অফিসার ৫৯, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ২৮৭ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ১৮ হাজার ২০৮, সহকারী প্রিজাইডিং ৯১ হাজার ২১৩, পোলিং অফিসার ১ লাখ ৮২ হাজার ৪২৬, ইলেকটরাল ইনকোয়ারি কমিটি ১০৩ (২ সদস্য), জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৭ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২৯৪ জন।

ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছে কমিশন। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ব্যালট মুদ্রণ করে তা কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সামগ্রী ভোটকেন্দ্রে নেয়া হবে। যে ৫৯ জেলার ১৪৭ আসনে নির্বাচন হচ্ছে তার মধ্যে ২৫টি জেলার ৯০টির মতো আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নির্বাচনে বিরোধী জোটের নাশকতার পাশাপাশি কিছু আসনে প্রার্থীর লোকজন পেশীশক্তি ব্যবহার করতে পারে। আর বেশিরভাগ আসনেই বিএনপি-জামায়াত মিলিতভাবে নির্বাচন বানচালে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

নাশকতাপ্রবণ জেলাগুলো হলো ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, যশোর, মেহেরপুর, খুলনা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার। নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

এবার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাড়ে চার লাখ সদস্যের বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী ৫০ হাজার, পুলিশ ৮০ হাজার, র্যাব সাড়ে আট হাজার, বিজিবি ১৬ হাজার, আনসার আড়াই লাখ ও কোস্টগার্ড ২০০। ভোটকেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ। মহানগর এলাকার বাইরের সাধারণ ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশসহ ১৪ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন পুলিশসহ ১৪ জন দায়িত্বে থাকবেন। মহানগর এলাকার প্রতি কেন্দ্রে তিন পুলিশসহ ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচ পুলিশসহ ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশ গতকাল থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে, অবস্থান করবে ভোট গ্রহণের পরদিন পর্যন্ত। আনসার বাহিনী গত বুধবার থেকে দায়িত্বে আছে। আর সশস্ত্র বাহিনী ২৬ ডিসেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করছে। তারা মাঠে থাকবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও আর্মড পুলিশ ১ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবে।

বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও আনসারের সাথে সমন্বয় করে বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারের চাহিদা মত বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। সারাদেশের ভোটকেন্দে সাড়ে ১৬ হাজার বিজিবি সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তবে সীমান্ত এলাকা থেকে কোন বিজিবি সদস্যকে ভোট কেন্দে র দায়িত্ব দেয়া হয়নি। শুধু বিজিবি’র নতুন ইউনিট ও ব্যাটালিয়ন এবং পার্বত্য এলাকা থেকে কিছু বিজিবি সদস্যকে ভোট কেন্দে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান  জানান, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তায় র্যাবের সকল সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। তবে র্যাব থাকবে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে।

সরঞ্জামের বিশেষ নিরাপত্তা

ভোটকেন্দ ও ভোটের সামগ্রিক মালামালের বিশেষ নিরাপত্তা কার্যকর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সব ভোট কেন্দ্রের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করে সব ধরনের যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ভোট কেন্দে র চারপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের টহলও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী সরঞ্জামের নিরাপত্তা বিবেচনায় আগামী সকালে ভোট গ্রহণের আগে স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকিতে তা ভোটকেন্দে পৌঁছানো হবে।

যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭৮ অনুসারে ভোট গ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা হতে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা (গতকাল সকাল আটটা থেকে ৭ জানুয়ারি বিকাল চারটা পর্যন্ত) পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও সমাবেশ করা যাবে না। এ সময়ে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, ভোটার ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের ভয়-ভীতি বা অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। এ ধরনের অপরাধের জন্য দুই থেকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান আছে। আজ শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি/অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজিবাইক, ইঞ্জিনবোট ও স্পিডবোটের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। মহানগর এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও জিপ চলাচলের উপর উক্ত নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়াও গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে জাতীয় হাইওয়ের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

তিন জেলায় হেলিকপ্টার

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির তিন আসনের মোট ৩৩টি ভোটকেন্দ্র নির্বাচনী সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনা-নেয়ার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। গতকাল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ৪টি, বান্দরবানে ১৬টি এবং রাঙ্গামাটিতে ১৩টি কেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সামগ্রী ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরদারি করা হবে।

নতুন সাজে নির্বাচন কমিশন

প্রধান বিরোধীদল নির্বাচনে অংশ না নিলেও সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে কেন্দ করে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে কমিশনে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে চারিদিকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুক্রবার থেকেই কমিশন প্রাঙ্গণে টানানো হয়েছে বিশেষ ধরনের শামিয়ানা। রাতের জন্য করা হয়েছে আলোকসজ্জাও। রাত হতেই নির্বাচন কমিশন প্রাঙ্গণ রঙিন হয়ে উঠছে নানা রঙের আলোয়। নির্বাচনের পরেরদিন সোমবার পর্যন্ত কমিশনের এ সাজসজ্জা থাকবে। সাংবাদিকদের জন্য নির্মিত মিডিয়া সেন্টারও আজ উন্মুক্ত করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সকাল ১১টায় এটির উদ্বোধন করবেন।

ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র স্থাপন

রিটার্নিং অফিসারদের থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ভোট গ্রহণ চলাকালে পরিস্থিতি প্রতিবেদন ও ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ করতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশ কেন্দ ‘ স্থাপন করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে সর্বশেষ বেসরকারি ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত এ কেন্দে র কাজ অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে। এছাড়া রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) পদ্ধতিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমেও সারাদেশের ফলাফল সংগ্রহ করবে কমিশন। ইতিমধ্যে সারাদেশে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এজন্যে সফটওয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ করছে ভারত ও ভুটান

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এখনো ভারত ও ভুটান পর্যবেক্ষণে সম্মত হয়েছে। মালদ্বীপ ও পাকিস্তান থেকে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে নেপাল, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ইতিমধ্যে ভুটানের দুইজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। ভারতের দুইজন পর্যবেক্ষক আজ রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন। এর আগে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কমনওয়েলথ, ওআইসি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের ২২টি সংস্থার ১০ হাজার ২০৫ জন, এবং অন্যান্য ৮টি সংগঠনের ৩ হাজার ১৩৬ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ঢাকা বিভাগের দশটি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। এসব আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৭টি। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ। ঢাকা-১ আসনে ১৭৭টি, ঢাকা-৪ আসনে ৭৩টি, ঢাকা-৫ আসনে ১৪৫টি, ঢাকা-৬ আসনে ৯৮টি, ঢাকা-৭ আসনে ১২০টি, ঢাকা-১৪ আসনে ১৫২টি, ঢাকা-১৬ আসনে ১৩৭টি, ঢাকা-১৭ আসনে ১১৯টি, ঢাকা-১৮ আসনে ২০০টি এবং ঢাকা-১৯ আসনে ১৪৬টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ জেলায় ১১টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান, জেলার ৫টি আসনে ৫১৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৩৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক-মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী জানান, ময়মনসিংহ জেলায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ যৌথ বাহিনী ও অতিরিক্ত সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যৌথবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিমসহ সকল ধরনের প্রস্তুতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।

জামালপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, জামালপুর জেলার চারটি আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২৫টি। এর মধ্যে ৩১৮টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। জামালপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ ভোট কেন্দ্র জেলা শহর থেকে দূরে। এর মধ্যে ৮৯টি কেন্দ্র রয়েছে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরে অবস্থিত। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ না হওয়ায় কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে কোন ধরনের ভোট কারচুপি বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ৩৭টি মোবাইল টিম কাজ করবে। এছাড়া নদীপথে যাতায়াতের জন্য প্রচুর নৌযানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করা যায়।

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার তিনটি আসনে ৩৯৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে শেরপুর-১ আসনে ১৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬টি, শেরপুর ২ আসনে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি এবং শেরপুর-৩ আসনে ১১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬২টি ভোট কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসন এসব গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলতে নারাজ। প্রশাসনের ভাষায়, ১৭৮টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে কোন ধরনের সহিংসতার আশংকা করছে না স্থানীয় প্রশাসন। জেলার রিটার্নিং অফিসার জাকির হোসেন বলেন, যেসব কেন্দ্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা অপ্রতুল সেখানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার তিনটি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৩৭০টি। এর মধ্যে ২৫৭টি কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রশাসন এ কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলতে নারাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন বয়কটকারীদের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এসব কেন্দ্রে সহিংসতা চালাতে পারে। তবে যেকোন সহিংসতা রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসার মো. আনিসুর রহমান মিয়া।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার তিনটি আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৫৭টি। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কিছু কিছু কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার দুটি আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা হচ্ছে ২৬৫টি। এর মধ্যে ২০৭টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের কেন্দ্রগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রশাসন চিহ্নিত করেছে। রিটার্নিং অফিসার সাইফুল হাসান বাদল জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার তিনটি আসনের ৪০১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩২৭টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের দুর্গাপুর উপজেলায় ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি এবং কলমাকান্দা উপজেলায় ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা-বারহাট্টা) আসনের নেত্রকোনা সদরের ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ এবং বারহাট্টা উপজেলার ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে কেন্দুয়া উপজেলার ৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি এবং আটপাড়া উপজেলার ৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০১টি। এর মধ্যে ৬১টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকাবাসী এসব কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতার আশংকা প্রকাশ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার মনোজকান্তি বড়াল বলেন, আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোন অবনতি না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বসানো হয়েছে ১০টি চেকপোস্ট। রয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মোট ১২০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলের ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুর-৪ (সদরপুর-চরভদ্রাসন-ভাঙ্গা) আসনের ৩টি উপজেলার মোট ১৬৬টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রশাসন ৫৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে সদরপুর উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে পদ্মা ও আড়িয়াল খার চরাঞ্চলের ১৩টি ও অন্যান্য অঞ্চলের ১৪টি মোট ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ, চরভদ্রাসন উপজেলার ২২টি কেন্দ্রের মধ্যে পদ্মাচরাঞ্চলের ৯টি ও ভাঙ্গা উপজেলার ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে আজিমনগর, কালামৃধা ও চান্দ্রা ইউনিয়নের ২১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রশাসন চিহ্নিত করেছেন।

বরিশালের তিন আসনে

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ ২২৬টি

বরিশাল অফিস জানায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার সংসদীয় ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে নির্বাচন হবে। এই তিন আসনে ভোট কেন্দ ২৯১টি। এর মধ্যে ২২৬টি ভোট কেন্দ কেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ১শ’টি ভোট কেন্দে র মধ্যে ৭৬টি কেন্দ ঝুঁকিপূর্ণ। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ৮৭টি ভোট কেন্দে র মধ্যে ৫৯টি কেন্দ ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া বরিশাল-৪ (হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ১০৪টি ভোট কেন্দে র মধ্যে ৯১টি ঝুঁকিপূর্ণ।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দে র তালিকা তৈরির সাথে সংশ্লি¬ষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, যে সকল ভোট কেন্দে র চারপাশে সীমানা প্রাচীর নেই কিংবা ভোটকেন্দ ঘেঁষে চলাচলের পথ রয়েছে, এছাড়া নদীর তীরে ও যাতায়াত সমস্যা রয়েছে সেগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ হিসেবে ধরা হয়েছে।

পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, জেলার ৭ উপজেলায় নির্বাচনের জন্য ৪ হাজার ২শ’ পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ৬৩টি মোবাইল টিম নির্বাচনী এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও সকল কেন্দ ই স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার শহীদুল আলম জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দে র তালিকা নির্বাচনী এলাকার সংশ্লি¬¬ষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা ঐ এলাকার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের দিন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ গুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পরিস্থিতি অবহিত করার জন্য জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। গোলযোগ বা কোনো প্রকার ভোট কারচুপির খবর পেলে যে কেউ কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করতে পারবে। সে অনুযায়ী পুলিশ ও র্যাব ছাড়াও সেনাবাহিনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোট কেন্দে র জন্য ৫ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সড়ক পথে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌপথে কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের দিন ২৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য ৪ জন এডিসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলাভিত্তিক ইউএনও এবং ওসিদের নেতৃত্বে তদারকির সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ভোলার ২ টি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৫টি

ভোলা (দক্ষিণ) সংবাদদাতা জানান ঃ জেলার ৪টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে দু’টি নির্বাচনী আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোলা-২ আসনে ১০২টি ভোট কেন্দ রয়েছে। এরমধ্যে ৫৪টি ভোট কেন্দ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভোলা-৩ আসনে ৯৮টি ভোট কেন্দে র মধ্যে ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ গুলোর মধ্যে ভোলা -২ আসনের দৌলতখান উপজেলায় ১৪টি ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৪০টি। ভোলা-৩ আসনের লালমোহন উপজেলায় ৩০টি ও তজুমদ্দিন উপজেলায় ১১টি।

পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান  জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দে সার্বক্ষণিক একজন বাড়তি পুলিশ অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও সকল ভোট কেন্দে নিরাপদে ভোটাররা যাতে ভোট প্রদান করতে পারেন সে লক্ষ্যে কোস্টগার্ড ও র্যাবের পাশাপাশি পুলিশের টিম রাখা হয়েছে। সর্বাত্মক পরিস্থিতি ভোটারদের অনুকূলে রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

পটুয়াখালীর ২টি আসনের

২৪১ কেন্দে র সবই ঝুঁকিপূর্ণ

পটুয়াখালী সংবাদদাতা জানান, জেলার ৪টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে দু’টি নির্বাচনী আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পটুয়াখালী-১ আসনে ভোট কেন্দ ১৪৪টি, পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোট কেন্দ ৯৭টি। সবকটি ভোট কেন্দ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, সকল কেন্দ কেই এবার ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সকল কেন্দে ই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও র্যাবকে ম্যাজিস্ট্রেট’র নেতৃত্বে এমন স্থানে রাখা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ভোট কেন্দে পৌঁছাতে পারে। সর্বত্রই প্রশাসনের নজরদারিতে থাকছে সকল ভোট কেন্দ । পুলিশ ও আনসার ইতিমধ্যেই ভোট কেন্দে রওনা হয়ে গেছে। র্যাব ও সেনাবাহিনী’র টিম প্রয়োজনীয়ভাবে মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

ঝালকাঠির ১টি আসনে

২৯ কেন্দ ঝুঁকিপূর্ণ

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে ৮৭টি ভোট কেন্দে র মধ্যে রাজাপুরের বেশিরভাগ ভোট কেন্দ ই রয়েছে ঝুঁকিতে।

রাজাপুরে ৪৮টি ভোট কেন্দে র মধ্যে ২৯ টি কেন্দ কম বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ভোট কেন্দ রয়েছে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বেসরকারি একাধিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় ব্যালটবাক্স ছিনতাইসহ বড় ধরনের অঘটনের আশংকা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ভোট প্রতিরোধ কমিটি গঠনসহ জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীরা একত্রিত হওয়ারও খবর শোনা যাচ্ছে। উপজেলার মঠবাড়িয়ার ডহরশঙ্কর, হাইলাকাঠি, মানকিসুন্দর, পশ্চিম বাদুরতলা, বড়ইয়ার চল্লিশকাহনিয়া, পালট নিজামিয়া, শুক্তাগড়ের পিংড়ি, বামনখান, সাংগর, শুক্তাগড় বাজার, কাঠিপাড়া, সাতুরিয়ার কদুতলা, দক্ষিণ তারাবুনিয়াসহ অন্তত ২০টি ভোট কেন্দে ভোট বানচাল করতে ব্যালটবাক্স ছিনতাইনহ বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা বলেন, নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবত্ থাকবে। এছাড়া কাঠালিয়ার ৩৯টি আসনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৮টি।

খুলনা বিভাগে ২৪ আসনে ১৭২০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা বিভাগে ১০টি জেলায় ২৪টি আসনে ১ হাজার ৭০২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টও ওই কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে।

যশোরের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সম্পর্কে দুই রকম তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক বলেছেন ২৭২টি এবং পুলিশ সুপার ২৬৯টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করেছেন। যশোর জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনের ৪টিতে মোট ৫০৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। পুলিশ সুপার জয়দেব ভদ্র জানান, ২৬৯টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে দুই থেকে তিন জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবেন। এর বাইরে ৫ জন করে পুলিশ ও মহিলা আনসার সদস্য ছাড়াও চৌকিদার-দফাদাররা প্রত্যেক কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রের বাইরে প্রতি ইউনিয়নে পুলিশের মোবাইল দল ছাড়াও র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল দল থাকবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রত্যেক থানায় এএসপির নেতৃত্বে ২টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স অবস্থান করবে। উপদ্রুত যেকোনো কেন্দ্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, সব কেন্দ্রকেই আমরা সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি থাকবে। প্রার্থীরা বেশকিছু অভিযোগ দিয়েছেন। সেগুলোকেও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচনী ৪টি এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৯টি মোবাইল কোর্ট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৪টি সামারি ট্রায়াল দায়িত্ব পালন করবে। তাদের সম্পূর্ণ বিচারিক ক্ষমতা থাকবে।

সাতক্ষীরা ১ ও ২ আসনে মোট ২৭৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কোন কেন্দ্র নেই। তবে তালা উপজেলা ও সদরে ৫/৬টি সামান্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র থাকলেও তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, যে কোন ঘটনা মোকাবেলা করার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং অফিসার নাজমুল আহসান জানান, সাতক্ষীরার যে দুটি আসনে নির্বাচন হচ্ছে তার কোনটিতেও ঝুঁকিপূর্ণ কোন কেন্দ্র নেই। তবে সাতক্ষীরা-১ (তালা কলারোয়া) আসনের তালা উপজেলায় এবং সাতক্ষীরা ২ (সদর) আসনের সদর উপজেলায় ৫/৬ টি কেন্দ্র সামান্য ঝুঁকিপূর্ণ আছে। তবে তা আমলে আনার মত নয়।

খুলনার ৩টি সংসদীয় আসনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। আজ শনিবার সকালে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব বুঝে নিবেন। সূত্রমতে, খুলনার ৩টি আসনে ৩৬০টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৩০টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) বিভূতি ভূষণ ব্যানার্জী জানান, খুলনা-১ আসনের ৯৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রে জেলা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ, ২ জন সশস্ত্র আনসার, ১০ জন আনসার এবং ১ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে (ঝুঁকিপূর্ণ) একজন পুলিশ সদস্য বেশি থাকবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন দাকোপ-বটিয়াঘাটায় দায়িত্ব পালন করবেন ৫৫০ জন পুলিশ সদস্য। আর যে সব এলাকায় নির্বাচন হচ্ছে না সেখানে ৪৫৭ জন এবং ১৪২ জন পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে পুলিশ লাইনে প্রস্তুত থাকবে। দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় দুইটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং যথাক্রমে ৬টি ও ৫টি মোবাইল টিম থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্সে ১২ জন এবং মোবাইল টিমে ৬ জন করে সদস্য থাকবেন। বটিয়াঘাটায় ২ প্লাটুন বিজিবি, দাকোপে ৩ প্লাটুন কোস্টগার্ড এবং ৬০ জন সেনা সদস্য দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি। কেএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) রাশিদা বেগম জানান, নগরীর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ, ২ জন সশস্ত্র ও ১০ জন নিরস্ত্র আনসার থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে (ঝুঁকিপূর্ণ) পুলিশ থাকবে ৫ জন করে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন নগরীতে দুই হাজার ২৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স ছাড়াও ৫২টি মোবাইল টিম রাজপথে দায়িত্ব পালন করবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের দিন বটিয়াঘাটা ও খুলনা শহরে ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। অতিরিক্ত আরও এক প্লাটুন রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে মোতায়েন থাকবে। এছাড়া খুলনা-১ আসনে র্যাবের ২টি টিম এবং নগরীর দুটি আসনে আরও ৬টি টিম সার্বক্ষণিক টহল দিবে।

ঝিনাইদহ জেলায় ৪টি আসনে ভোট কেন্দ্র ৫শ’ ৪১টি। এরমধ্যে ৪শ’ ৭০টি কেন্দ্রকে পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হয়েছে। পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, এবার ভোট কেন্দ্রগুলোর নজিরবিহীন নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় দেড় হাজার পুলিশ ও এক হাজার অস্ত্রধারী আনসার মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ৩ জন করে সশস্ত্র রক্ষী থাকবে। তাদের সাথে থাকবে ১০ জন করে লাঠি হাতে আনসার। প্রতি ইউনিয়নে থাকবে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি’র মোবাইল টিম। ম্যাজিস্ট্রেদের নেতৃত্বে আরো ভিজিলেন্স টিম থাকবে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। রিটার্নিং আফিসার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা জেলা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশ আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন ও ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর সাথে আছে র্যাবের একটি কোম্পানী।

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের নির্বাচনে ১০৯টি ভোট কেন্দ্রে মধ্যে মোরেলগঞ্জের ২৯টি এবং শরণখোলায় ৫টি ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক তালুকদার পঞ্চকরণ, দৈবজ্ঞহাটী, রামচন্দ্রপুর, চিংড়াখালী, হোগলাপাশা, বনগ্রাম, হোগলাবুনিয়া, খাউলিয়া ইউনিয়নের ৩০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চুয়াডাঙ্গায় দুটি আসনে ১৯৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ফোর্স থাকবে। মোট ৫৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে এক জন করে ম্যাজিস্র্বেট থাকবে। এছাড়া সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রাখা হবে। পুলিশ সুপার রাশীদুল ইসলামও একই কথা জানান।

মাগুরা-১ আসনে ১৪০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মাগুরা জেলা প্রশাসক মাসুম আহমেদ এবং পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নড়াইলে একটি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র হলো ৭৯টি। জেলা প্রশাসক আব্দুল গাফফার খান এবং পুলিশ সুপার মো. মনির হোসেন জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলায় তিনটি আসনের ৩৯৩টি ভোট কেন্দ্রের ২৫১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে চিহ্নিত ঝঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও ভোটারদের নির্বিঘ্ন গ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তামূলক প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, কুষ্টিয়ার তিনটি আসনের সব কয়টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি পুলিশ ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ বিজিবি, র্যাব সেনা সদস্যের টহল ও বাড়তি নজরদারি থাকবে।

মেহেরপুর ২টি আসনে ৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ

মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর উপজেলা) আসনে ৯৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মেহেরপুর-২ (গাংনী উপজেলা) আসনের ৮০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা রিটার্নিং অফিসার মাহমুদ হোসেন জানান, নির্বাচনী প্রস্তুতি শতভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রামের সব আসনকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলার পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এখানকার সব আসনকেই সমান ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার আয়োজন করেছি। প্রত্যেকটি এলাকাতেই পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সন্দ্বীপ উপজেলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে নৌবাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ সুপার বলেন, বিরোধী দল ৪৮ ঘন্টা হরতালের ডাক দেয়ায় প্রতিটি স্থানকেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করছি। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত স্থানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার ১৬৩টি ভোট কেন্দে র মধ্যে ১০৩টি কেন্দ কে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৭টিকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সে অনুযায়ী এসব কেন্দে অতিরিক্ত নিরাপত্তার আয়োজন রাখা হয়েছে।

সিলেট অফিস জানায়, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আসনে মোট ২ হাজার ২২৪টি কেন্দে র মধ্যে ৬শ’ ভোটকেন্দ কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সিলেট রেঞ্জে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াত হোসেন ইত্তেফাককে জানান, বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচির কারণে প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ কেই বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে ৬শ’ কেন্দ কে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২শ’ কেন্দ কে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভোট কেন্দে চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হচ্ছে। রেঞ্জের নিজস্ব ৪ হাজার পুলিশের সাথে র্যাব, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম পুলিশের মোট ৬ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে নির্বাচনী দায়িত্বে। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকছে সেনাবাহিনী।

সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১০ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হয়ে গেছেন। বাকি ৯টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।

রাজশাহীর দু’টি আসনের

সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর ২টি আসনের ২১৭টি ভোট কেন্দ্রের সবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১৫৩টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের মোহনপুরে ৪২টির মধ্যে ৩৮টি এবং পবার ৭৬টির মধ্যে ৩৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে রাজশাহী-৬ (চারঘাট ও বাঘা) আসনে চারঘাটে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি এবং বাঘার ৪৯টির মধ্যে ৪২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

রাজশাহী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আয়েন উদ্দিন (নৌকা), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ মেরাজ উদ্দিন মোল্লা (কলস) এবং জেলা জাতীয় পার্টি (এ) শাহাবুদ্দিন বাচ্চু (লাঙ্গল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে রাজশাহী-৬ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ শাহরিয়ার আলম (নৌকা) দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রায়হানুল হক (প্রজাপতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঝুঁকিতে বগুড়ার দুটি আসনের

২৪১টি ভোট কেন্দ্র

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার যে দুটি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে সেই দুটি আসনের প্রায় সব ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। জেলার ৭টি আসনের মধ্যে এবার বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত দুটি আসনে মোট ২৬৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ২৪১টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে যে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবার বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

পুলিশ সুপার মো:মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, আইন-শৃংখলা বাহিনীর ৩৪টি দল মাঠে থাকবে। এর মধ্যে আর্মড পুলিশের ২২টি, থানা পুলিশের চারটি ও র্যাবের ৮টি দল রয়েছে। এই চারটি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবে চার প্লাটুন বিজিবি।

দিনাজপুরের ৫টি আসনের

৪৮৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

দিনাজপুর এ ৬৭২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দিনাজপুর ১ আসনের (বীরগঞ্জ-কাহারোল) ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৮টি, সদর ৩ আসনের ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি, ৪ আসনের (খানসামা-চিরিরবন্দর) ১২০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১টি, ৫ আসনের (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) ১৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি এবং ৬ আসনের (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর) ১৬২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নূরুজ্জামান তালুকদার জানান, নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা রক্ষায় ৬৭২টি ভোট কেন্দ্রের জন্য ১৩ হাজার ২৫৪ জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার এবং লাঠিধারী পুরুষ ও মহিলা আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২ জন অস্ত্রধারী পুলিশ, ২ জন অস্ত্রধারী আনসার, ১০ জন পুরুষ আনসার ও ৬ জন মহিলা আনসার সমন্বয় ২০ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের

৫৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের ৫৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সার্বক্ষণিক টহল থাকবে। এছাড়া আনসার বাহিনীকেও নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হবে।

রংপুরে ৭৬টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুরের ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ৩টি আসনের মধ্যে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৪৭১টি। এর মধ্যে ৭৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ফরিদ আহাম্মদ জানান, ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিগ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধায় ২৮০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনের নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন অফিস। ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৪৬৫টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৮০টি। জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম রোহেল জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ২৮০টি কেন্দ্রের জন্য প্রশাসনিকভাবে যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পিরোজপুর-৩ আসনে

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ ৪৭

পিরোজপুর অফিস জানায়, জেলার তিনটি আসনের মধ্যে শুধু একটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মঠবাড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-৩ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ১৬৯০৭১। কেন্দ সংখ্যা ৭৭। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ হচ্ছে ৪৭টি এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি।

রিটার্নিং অফিসার এ. কে. এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ নিরাপত্তা টিম থাকবে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য টহলে থাকবে। এদের সাথে ১৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান জানান, সেনাবাহিনীর পাঁচটি ও বিজিবি’র চারটি টিম বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে। দাউদখালী, তুষখালী ও সাপলেজা ইউনিয়ন উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এসব এলাকায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় কেন্দ ভেদে প্রয়োজনীয় সশস্ত্র পুলিশসহ নিরস্ত্র আনসার ও ভিডিপি মোতায়েন করা হচ্ছে। তুষখালীর জানখালী তোফেল আকন উচ্চ বিদ্যালয়, দাউদখালীর গিলাবাদ ও বড়হারজি অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দে র মধ্যে রয়েছে বলে জানা যায়।

বরগুনার দুটি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ

ভোটকেন্দ্র ১৯০টি

বরগুনা সংবাদদাতা জানান, জেলার দুটি নির্বাচনী আসনের ২৮৮ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৯০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে বরগুনা-১ আসনের সদর উপজেলায় ৬৭টি, আমতলীতে ২২ ও তালতলীতে ১৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। বরগুনা-২ আসনের পাথরঘাটায় ৪৫, বেতাগীতে ৩০ ও বামনায় ১১টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মেহেরপুরে ২টি আসনে ৬১টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর উপজেলা) আসনে ৯৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ভোট কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ। মেহেরপুর-২ (গাংনী উপজেলা) আসনের ৮০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকবে। মেহেরপুর -১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন দোদুল (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেরপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম (ফুটবল) ।

এদিকে মেহেরপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এমএ খালেক (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেন (ফুটবল) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী আব্দুল হালিম (বাইসাইকেল)। জেলা রিটার্নিং অফিসার মাহমুদ হোসেন জানান, নির্বাচনী প্রস্তুতি শতভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃংখলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here