২৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেত্রী মানুষ মারার আয়োজন করেছেন। প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

16

pmপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেতা বাংলার জনগণকে কখনোই শান্তিতে থাকতে দেন না। তার কাজই হচ্ছে অশান্তি সৃষ্টি করা। বিজয়ের এই মাসেও তিনি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছেন। জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা করছেন। এর আগে আমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ থেকে বিতাড়িত করার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আল্টিমেটামে কোন কাজ হয়নি। আগামী ২৯ ডিসেম্বর আবারও তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করে মানুষ মারার আয়োজন করছেন। শেখ হাসিনা সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাহস নিয়ে নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেয়ার জন জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবেই। কোন শক্তি এ নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। তিনি বলেন, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন। উচ্চ আদালত জামায়াতকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এই যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে আসেননি। তিনি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুরে পৃথক পৃথক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ এই জনসভার আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় গতকাল বিকালে এখানে পৌঁছেন। ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় আসার পথে তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা, সদরপুর, মোকসেদপুরে পৃথক পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

টুঙ্গিপাড়ায় জিটি হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতার সমালোচনা করে বলেন, উনার জন্ম ভারতের শিলিগুড়িতে। এজন্য বাংলাদেশের প্রতি তার কোন দরদ নেই। জামায়াতকে উনি ছাড়তে পারেন না। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় একের পর এক হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি দিচ্ছেন। ঘর-বাড়ি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করছেন। মানুষ হত্যা করছেন আগুনে পুড়িয়ে। তাদের সহিংসতার হাত থেকে অবোলা পশু পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। পেট্রোল বোমা মেরে গরু হত্যা করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা প্রতিহিংসার আগুনে সব কিছু জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি করে অঢেল টাকা কামিয়েছেন। আর জরিমানা দিয়ে সেই কালো টাকা সাদা করেছেন। তার দুই ছেলে দেশ থেকে লুণ্ঠিত টাকা বিদেশে পাচার করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তার ছেলেদের অর্থ পাচারের ব্যাপারে সাক্ষ দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা কথায় কথায় আন্দোলনের হুমকি ও আল্টিমেটাম দেন। উনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে দেশ ও ক্ষমতা ছাড়া করার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। আমাকে হত্যা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জঙ্গি, সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী ও পরাজিত শক্তিকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে নামেন। এ আন্দোলন করতে গিয়ে তার হুমকি-ধামকি আর আল্টিমেটামের কোন শেষ নেই। কিন্তু কোন হুমকি-ধামকি আর আল্টিমেটামে কাজ হবে না।

দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মাটিতে আমার জন্ম। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণ কিছু পায়। আর তাই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে বিগত পাঁচ বছরে আমরা দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছি। বাংলাদেশ এখন আর কোন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দেশ নয়। অথচ আগের পাঁচ বছর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশকে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, নড়াইল, পিরোজপুর, বরিশাল, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা জনসভাস্থলে মিছিল সহকারে আসতে শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল পোষ্টার, ব্যানার, ফেষ্টুন, নৌকা প্রতীক। দুপুরের মধ্যেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জিটি স্কুলের নির্বাচনী জনসভায় আগতদের স্থান সংকুলান হয়নি। পাটগাতী বাজারসহ আশপাশের গ্রামের দাঁড়িয়ে মানুষ শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনেন। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে সড়কের দু’ পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী এসব স্থানে গাড়ির গতি কমিয়ে নেতাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় আব্দুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ কবির হোসেন,শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, বি.এম মোজাম্মেল হোসেন, মীর্জা আজম, এস.এম কামাল, চৌধুরী এমদাদুল হক, মাহাবুব আলী খান, উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল বিশ্বাস, সোলায়মান বিশ্বাস, সুভাষ চন্দ্র জয়ধর, আবুল বশার খায়ের, মোঃ ইলিয়াস হোসেন, শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, কামাল হোসেন বুলেট, শেখ সাইফুল ইসলাম, শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, রফিকুল ইসলাম রফিকসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জনসভায় কবিরুল ইসলাম মুক্তি এমপি, মীর শওকত আলী বাদশা, রাজা মিয়াবাটু, এম বদরুল আলম বদর, বিএম হাসান কবির সানু, প্রধানমন্ত্রীর এসাইমেন্ট অফিসার রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গাজী হাফিজুর রহমান লিকুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর প্রতিনিধি ও সদরপুর সংবাদদাতা জানান, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার চৌরাস্তা মোড়ের বালুর মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে, সম্পদ নষ্ট করছে তার দায়ভার বিরোধী দলীয় নেত্রীকে নিতে হবে। তিনি বলেন, এদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে বর্তমান সময়ে যারা সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে একদিন তাদেরও বিচার করা হবে। আর খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি হিসাবে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অনেকেই ভোট চাইছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি, শেখ রেহানা ও আমার মেয়ে-জামাতা ছাড়া তেমন কোন আত্মীয় নেই। যাদের কারণে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কথা আমাকে শুনতে হয় সেই দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি আমার আত্মীয় হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সন চৌধুরীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যারা পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতি করেছে তাদের আপনারা ভোট দেবেন না। যারা আমাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আপনাদের কাছে যাচ্ছেন তারা এত টাকা কোথায় পেল, কিভাবে অর্জন করলো তার হিসাব আপনারা চাইবেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নৌকা হচ্ছে শান্তির প্রতিক। আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

বেলা ২টার দিকে জেলার সদরপুর উপজেলার স্টেডিয়াম মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত আরেকটি জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। দুইটি জনসভাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ভোটারদের প্রতি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান। এর আগে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সড়ক পথে মাওয়া হয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর ৪ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী কাজী জাফরুল্লাহ এর নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ভাঙ্গা এসে পৌছান প্রধানমন্ত্রী।

জনসভা দুইটিতে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর ৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী কাজী জাফরুল্লাহ। জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, মির্জা আজম এমপি, আবদুর রহমান এমপি, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এস এম নুরুন্নবী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী জায়নুল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর কোটালীপাড়ার জনসভা আজ

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী সফরে আজ শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যাবেন। তিনি উপজেলার শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে কোটালীপাড়া ব্যাপী বইছে উত্সবের আমেজ।

প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় মুন্সীগঞ্জে লৌহজং উপজেলা কলেজ মাঠে মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি বিকেল সাড়ে ৩টায় শ্রীনগর স্টেডিয়ামে মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুকুমার রঞ্জন ঘোষের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here