২০ জানুয়ারি গণসমাবেশ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট

12

-Khaleda২০ জানুয়ারি সারা দেশে গণসমাবেশ ও ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় সমাবেশ করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এটাই খালেদা জিয়ার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

এ ছাড়া ১৯ জানুয়ারি সারা দেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন পালন ও ২৯ জানুয়ারি সারা দেশে বিক্ষোভ দিবস ও শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা মিছিল করবে এই জোট। এ সময় খালেদা জিয়া দেশের বেশ কিছু অঞ্চল সফর করবেন বলে জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে গণতন্ত্রের হত্যাকারী এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সমঝোতার জন্য আমরা তাঁদের বারবার আহ্বান জানিয়েছি। রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলেছি। কিন্তু তাঁরা সে আহ্বানে সাড়া দেননি। আমরা তাঁদের আবারও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, তারা কারসাজির মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই প্রহসনকে গণতন্ত্রকামী মানুষ মেনে নেয়নি। ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে কেবল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল নয়, মহাজোটের বাইরে অন্য কোনো দলই যোগ দেয়নি। ভোটাররাও ভোটকেন্দ্রে যাননি। সারা দেশে গড়ে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। অথচ সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এভাবে প্রতারণা করে, সন্ত্রাস করে, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁরা বেশিদিন গায়ের জোড়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এখন তাদের আচরণ ও ভাষা অরাজনৈতিক, অশালীন ও বেসামাল হয়ে পড়েছে। তারা রাজনীতিকে কলুষিত করে ফেলেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনের নামে ৫ জানুয়ারির প্রহসন প্রমাণ করেছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি কতটা যৌক্তিক ছিল। প্রমাণ হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে ভোট সুষ্ঠু হতে পারে না। প্রমাণ হয়েছে, কারসাজির এই প্রহসনের নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে, তারা এই সরকার চায় না। তারা তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে চায়।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা সহিংসতা ও হানাহানিতে বিশ্বাস করি না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারায় রাজনীতি করতে চাই। সে পথ বন্ধ করলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার দায় যারা বাধা দেয়, তাদের। আমাদের আন্দোলন ক্ষমতার জন্য নয়। এই আন্দোলন গণতন্ত্রের জন্য, মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। আমাদের বিজয় অনিবার্য। এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘১৫৩ আসনে তারা কোনো নির্বাচনই করতে পারেনি। বাকি আসনগুলোতে জঘন্য কারসাজি ও জালিয়াতি করেছে। এটা গায়ের জোরে এক অবৈধ সরকার। এটাই আমাদের আন্দোলনের এক বিরাট সাফল্য। নির্বাচনের নামে তামাশার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় ৫ জানুয়ারি ২২ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ২২ হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছে। গুম করা হয়েছে কয়েক শ রাজনৈতিক নেতাকে। যৌথ বাহিনীর নামে শাসক গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী বাহিনী নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ এভাবেই মানুষের ওপর হামলা করেছে। জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। এবার তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে বিরোধীদলীয় নেতাকে কোনো কারণ ছাড়াই গৃহবন্দী করেছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, তাঁরা সরকারে গেলে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেবেন। পদক্ষেপগুলো হলো—সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা; সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা কঠোরভাবে দমন করা; মেধা ও যোগ্যতাই হবে মূল্যায়নের মাপকাঠি, বিরোধী দলকে যথাযথ মর্যাদা; অখণ্ড জাতিসত্তা গড়ে তোলা; সংঘাতের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সুস্থ রাজনীতি ফিরিয়ে আনা; সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আরও জোরদার করা; বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা; সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা; নারী শিক্ষা, নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নকে প্রসারিত করা; গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত রাখা এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। এ ছাড়া বিদ্যুত্, জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে বিশদভাবে তুলে ধরা হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নিরপরাধ নেতাদের ওপর অত্যাচার বাড়ানো হয়েছে। অথচ সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি এই ঘটনার সঙ্গে শাসকদলের লোকজনই জড়িত।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here