২০১৮ সালে পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলবে :প্রধানমন্ত্রী

13

‘এই সেতুর জন্য কারো কাছে হাত পাতবো না’

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজ চলতি জুন-জুলাইয়েই শুরু হবে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণ কাজ চার বছরে শেষ হবে। অর্থাত্ ২০১৮ সালে এই সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। তবে এর আগেই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার প্রচেষ্টা রয়েছে সরকারের। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। কারও সাহায্যে নয়, নিজ অর্থেই আমরা এই সেতু করব। এখন কে কী দেবে, সেদিকে আর তাকাতে হবে না। সেতু নির্মাণের নিজস্ব শক্তি আমাদের আছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে আমরা আর কারো কাছে হাত পাতবো না।

তিনি বলেন, হঠাত্ করে কোনো কারণ ছাড়াই মিথ্যা অজুহাতে কোনো কোনো ব্যক্তি বিশেষের যোগসাজশে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ ও সরকারকে হেয় করতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। সততা ছিল বলেই কোন ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি। কথিত দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে সঙ্গে-সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে ডকুমেন্ট চেয়েছিলাম। দুটি কাগজ দিয়ে যেসব ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে এবং তাতে যে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে তা ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের, আমাদের সরকারের সময় নয়। এ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন অবস্থায় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ওয়াদা করি, নিজস্ব অর্থায়নেই আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। এরপরও নানা ষড়যন্ত্র ও খেলা চলে। সেতু নির্মাণে আমাদের যথেষ্ট অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে, রিজার্ভও ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আর কারো কাছে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরবে না, আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কেউ বৈদেশিক সাহায্য দিলে নেব।

রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা সংসদকে জানান, ইতিমধ্যে মূল সেতু নির্মাণের কাজের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। চীনের এ কোম্পানি ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণের দরপত্র দাখিল করেছে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে শুধু নির্মাণ কাজই বন্ধ করে দেয়নি, স্থান পরিবর্তনেরও চেষ্টা করেছিল। ২০০৮ সালে পুনরায় আমরা ক্ষমতায় এসেই নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেই। অনেক আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সহযোগিতার জন্য আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসে।

জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা এবারের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া যথেষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের রিজার্ভ রয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত ছিল। সেতুটি নির্মাণ হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুঃখ ঘুচে যাবে, ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। যেহেতু নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি, তাই অর্থ জোগানে শেয়ার মার্কেটের সহযোগিতা নেয়া হবে কি-না, তা পরবর্তীতে ভেবে দেখা যাবে।

পদ্মা সেতু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পদ্মা সেতুর কারিগরি ও আর্থিক দরপত্র মূল্যায়ন করে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব গত ২২ মে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই সেতু নির্মাণে নদী শাসন কাজের ঠিকাদার নিয়োগে কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। আর্থিক প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে, যা ২৯ জুন দাখিল করবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আরিচায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এ সরকারের মেয়াদকালেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা, বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়ন এবং বৈদেশিক অর্থ সংগ্রহ করে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগে বাংলাদেশ সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারবে, বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রাংশ, কাঁচামালও সহজে এদেশে এনে উত্পাদন করতে পারবে। প্রবাসী বাঙালিদেরও বিভিন্নখাতে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে নানারকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সাতটা বিভাগে সাতটি আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here