১৫ নবেম্বর তরিকত ফেডারেশনের শাপলা চত্বরে সমাবেশের সিদ্ধান্ত

18

log5আগামী ১৫ নবেম্বর রাজধানীর শাপলা চত্বরে বিতর্কিত সংগঠন হেফাজতের মহাসমাবেশের বিরুদ্ধে একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছে দেশের বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে একই সময়ে একই স্থানে মহাসমাবেশ করবে ফেডারেশন। রবিবার কলাবাগানে দলের মহাসচিব লায়ন এমএ আউয়ালের কার্যালয়ে দলের এক জরুরী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মহাসচিব বলেন, দলগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ১৫ নবেম্বর শাপলা চত্বরে আমরা মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৫ মে ধর্মের নামে হেফাজতের তা-ব ইসলামকে কলঙ্কিত করেছে। আর ধর্মের নামে তান্ডব চলতে পারে না।
এমএ আউয়াল আরও বলেন, সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ এই তিনটি দাবিতে আমরা ১৫ নবেম্বর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করব। এজন্য দলীয় আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদনের প্রস্তুতি চলছে। আশা করি আমাদের সমাবেশ সফল হবে। হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঠেকাতেই এই কর্মসূচী কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়াল বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে সমাবেশ করার চেষ্টা করছি। সেই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় ১৫ নবেম্বর শাপলা চত্বরে সমাবেশের আহ্বান করা হয়েছে। এর আগে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে তারা (হেফাজতে ইসলাম) জামায়াতের মতো আচরণ করেছে। এর এদিকে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পার্বতী হাইস্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বিভাগীয় সমাবেশ থেকে শাপলা চত্বরে কর্মসূচী দেয়া হয়। পূর্বঘোষিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন, গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং ‘কওমী মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩’ পাসের চেষ্টার প্রতিবাদে এ কর্মসূচী ঘোষণা করে হেফাজত। তরিকত ফেডারেশন হেফাজতে ইসলামকে ‘সন্ত্রাসী ও ইসলামের বিকৃতকারী’ বলে মনে করে। সংগঠনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সভাপতিত্বে রবিবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সকল দলের অংশগ্রহণে সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে এবং বাংলাদেশকে আফগানী তালেবান রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবং দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আগামী ১৫ নবেম্বর শুক্রবার শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ সৈয়দ হাবীবুল বশর মাইজভান্ডারী, মহাসচিব লায়ন এম. এ আউয়াল, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, যুগ্ম মহাসচিব ডা. আবু দাউদ মসনবী হায়দার, যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ সৈয়দ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মুহাম্মদ আলী ফারুকী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভান্ডারী, দফতর সম্পাদক মোঃ সেলিম মিয়াজী এবং প্রচার সম্পাদক জাহানগীর হাসান প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here