১২ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ দেড় শতাধিক

12

12 lashমুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত নয়টা পর্যন্ত ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন দেড় শতাধিক যাত্রী। জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানিয়েছেন, লঞ্চে ২ শতাধিক যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে জীবিত অবস্থায় তীরে উঠতে পেরেছেন ৪০ জন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরে সন্ধা সাতটার দিকে ৮০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকা লঞ্চটি সনাক্ত করা হয়। এরপরই শুরু হয়েছে উদ্ধার তত্পরতা।

উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ের পেটি অফিসার এম এইচ এ মাসুদ জানান, ৮০ ফুট পানির নিচে কাত অবস্থায় পরে থাকা লঞ্চটি সনাক্ত করা হয়েছে। ম্যাজেঞ্জার লাইন পাস হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে সিলিং পাস করে লঞ্চটি টেনে তোলা হবে। এটি করতে রাত ১২টা হতে পারে। দ্বিতীয় তলা ১২০ ফুট দীর্ঘ প্রস্ত ৩৫ ফুট লঞ্চটির আনুমানিক ওজন ১১০ টন। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ের ধারণ ক্ষমতা ২৫০ টন।

নৌপরিবহন সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া লঞ্চ মিরাজ-৪ দুপুরে ঢাকার সদরঘাট থেকে শরীয়তপুরের সুরেশ্বরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে মেঘনার নদীর গজারিয়া এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে।

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে নিখোঁজদের স্বজনরা আসতে শুরু করেছেন। আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে মেঘনার বাতাস। লঞ্চ থেকে উদ্ধার পাওয়া যাত্রীরা দাবি করছেন, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও লঞ্চ চালকের ভুলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

উদ্ধার কাজ তদারিক করছেন, নৌপরিবহনমন্ত্রী মো. শাহজাহান খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহ তালুকদার, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জের ডিসি সাইফুল হাসান বাদল ও নারায়ণগঞ্জের ডিসি মো. আনিছুর রহমান মিঞা ও মুন্সীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন মজুমদার। দুর্ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে মন্ত্রী শাজাহান খান।

উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে তিনটি লাশের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের জমাল হোসেন (৫০), নড়িয়া গ্রামের সেতার বেগম (৫০) ও লিটনের স্ত্রী টুম্পা বেগম (৩০)। লিটনের ৮ বছরের মেয়ে সুমনা ও ৬ বছরের ছেলে মাহিম নিখোঁজ রয়েছে। লিটনের স্ত্রীর লাশের পাসে বসে নিখোঁজ দুই সন্তানের জন্য বুকফাটা আর্তানাত করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here