১২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার

13

image_90390১২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ হতে পারে। তার আগে দু-এক দিনের মধ্যেই দশম সংসদের নির্বাচিত সাংসদদের শপথ গ্রহণ হবে। ২৪ জানুয়ারির আগে নির্বাচিত সাংসদদের শপথ গ্রহণে কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে আইন বিশেষজ্ঞরা সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে জানিয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ আছে। তাই এর আগে নতুন সাংসদদের শপথ গ্রহণে আইনি জটিলতা থাকার কথা কেউ কেউ সরকারের উচ্চপর্যায়কে জানিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আইন উপদেষ্টা, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সরকারকে আইনি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নবম সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আইনি বা সাংবিধানিক কোনো জটিলতা দেখা দেবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর আইন উপদেষ্টা শফিক আহমেদ। বিকেল সোয়া চারটায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে যান এবং সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় বেরিয়ে আসেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের শপথ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে আলোচনার বিষয় সম্পর্কে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবারের মধ্যে নির্বাচিত সাংসদদের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন আজকের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে পারলে কাল বৃহস্পতিবারই শপথ হতে পারে। এরপর প্রথা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হবে। ওই বৈঠকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি আহ্বান জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই নতুন সরকার শপথ নেবে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে ২৪ জানুয়ারির পর নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল। এ ব্যাপারে আইন উপদেষ্টা, আইনসচিব এবং অ্যাটর্নি জেনারেলসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বৈঠক করে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ বিদ্যমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে শপথ নেওয়া যায় কি না, তা আইন বিশেষজ্ঞদের খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তাঁদের পরামর্শেই ১২ জানুয়ারির মধ্যে শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, গত সোমবার গণভবনে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সাংসদ ও সরকারের শপথ নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। দু-তিনজন নেতা প্রধানমন্ত্রীকে ২৪ জানুয়ারির পর শপথ নেওয়ার কথা বলেন। আবার নেতাদের কেউ কেউ দ্রুত শপথ নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলেন।

নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ বলেন, সরকার গঠন না করে এভাবে দীর্ঘদিন নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্বে থাকা ঠিক হবে না। খুব দ্রুততম সময়ে নতুন সংসদ এবং সরকার কার্যকর করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের শুভানুধ্যায়ীরাও একই পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। সোমবারের বৈঠকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করে সরকার ও সাংসদদের শপথ নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here