১/১১’র কুশীলবরা ফের সক্রিয় :প্রধানমন্ত্রী অসাংবিধানিক পন্থায় তারা গাড়িতে পতাকা চান

17

PM Meeting

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক এগারোর কুশীলবরা আবার সক্রিয় ও সোচ্চার হয়েছেন। এদের ব্যাপারে সবার সজাগ থাকতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে গণভবনে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, এক এগারোর কুশীলবরা এখন অনেক কথা বলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় যখন হরতাল দেয়া হয়েছে, তখন কেন তাদের চেতনা জাগ্রত হয়নি? ৫ জানুয়ারি নির্বাচন স্থগিতের পরামর্শদাতা কথিত ‘বিশিষ্টজনরা’ অসাংবিধানিক পন্থা চাইছেন কিনা সে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন একটা পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন নির্বাচন বন্ধ করতে হলে অসাংবিধানিক পন্থায় যেতে হবে। বিশিষ্টজনরা কী সেই পন্থা চান? অবশ্য অসাংবিধানিক পন্থা থাকলেই ‘বিশিষ্টজনদের কদর বাড়ে’। তাদের অবশিষ্ট কাজটুকু হয়ে যায়, গাড়িতে পতাকা লাগাতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, কিছু বিশিষ্টজন হঠাত্ করেই বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেককে আগেও দেখা গিয়েছিল। এক এগারোর সময়ও এরা সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একটি অংশ সঙ্কট এড়িয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ প্রশস্ত করতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিতের পরামর্শ দেন। ‘সঙ্কটে বাংলাদেশ, নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই বৈঠকে চার ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেন ৫৪ জন। গোলটেবিলটি যৌথভাবে আয়োজন করে চার সংগঠন সিপিডি, আইন ও সালিশ কেন্ত্র, সুজন ও টিআইবি।

নাগরিক সমাজের এই প্রতিনিধিদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জিজ্ঞাসা, উনাদের এই চেতনা এতো দেরিতে কেন এলো? যখন হরতাল অবরোধে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল, বাসে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারল, তখন উনাদের এই চেতনা কোথায় ছিল? হেফাজত যখন তাণ্ডব করল, আমার আহ্বানের পরও বিরোধী দলীয় নেতা সংলাপে সাড়া দিলেন না, তখন কেন বিশিষ্টজনদের চেতনা জাগ্রত হলো না? ‘অন্য কিছু হলে’ এই বিশিষ্টজনদের ডাক পড়তে পারে এই আশাতেই তারা বসে থাকেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে যখন মানুষ খুন করছে, সন্ত্রাস করছে, গাছ কেটে ফেলছে তখন পরিবেশবীদদের কেউ তো একটি বিবৃতি দিলেন না। সুশীল সমাজও এনিয়ে একটা কথাও বলল না।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সকাল ১০টায় গণবভনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে জেএসসি ও জেডিসি’র ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সমাপনী পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৮৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী। গত বছর জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী পাসের হার বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিরোধী দলের লাগাতার কর্মসূচির পরেও ঘোষিত সময়ের মধ্যে জেএসসি-জেডিসির ফল প্রকাশ করার শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেয়ার পরিবেশ ছিল না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ দেয়ায় বাচ্চাদের মানসিক প্রস্তুতি নষ্ট হয়ে যায়, তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পরীক্ষা দেয়া কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফল দিয়ে আপনারা সবাই অসাধ্য সাধন করেছেন। আপনারা সবাই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগেই শিক্ষামন্ত্রী তাকে জানান, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা দিনরাত পরিশ্রম করায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩৫ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। হরতাল-অবরোধের মধ্যেও পরীক্ষা দিয়ে ফল ভালো হওয়ার সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে শিক্ষায় সংখ্যার দিক দিয়ে মেয়েদের এগিয়ে থাকার প্রসঙ্গ তুলে হাসতে হাসতে শেখ হাসিনা বলেন, এখন জাতিসংঘকে বলতে হবে বাংলাদেশে শিক্ষায় ছেলেদের সংখ্যা বাড়িয়ে সমতা আনতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here