হেফাজতের সমাবেশ নিয়ে নেতাদের ভিন্নমত!

12

shofitetul hujurহেফাজতে ইসলামের ঢাকার শাপলা চত্বরের সমাবেশ নিয়ে গতকাল সোমবার ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। সংগঠনটির নেতারা সমাবেশ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ঢাকা না যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দিনভর ছিলো নানা গুঞ্জন। কেউ বলেছে এটা ছিলো সাজানো নাটক, আবার কেউ বলেছে পুলিশের ভয় ভীতি দেখানো ও হুমকির কারণে তিনি ঢাকায় যেতে পারেননি।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের পূর্বঘোষিত ‘বিভাগীয় মহাসমাবেশ’ হওয়ার কথা ছিলো। কিন’ গতকাল ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নুর হোসেন কাসেমী সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি কর্মসূচি স্থগিত করার কথা না বলে তিনি বলেন, ‘যাবতীয় প্রস’তি থাকা সত্ত্বেও সরকারের বাধার কারণে আমাদের মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’ তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গতকাল হেফাজত নেতারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী গতকাল হাটহাজারীতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা ঢাকায় যেতে না পারলেও সেখানে আল্লার বান্দারা আছে সমাবেশ হবে, নির্দেশ দেয়া আছে।’
সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈিনুদ্দিন রুহি বলেন, ‘আমরা কর্মসূচি স্থগিত করিনি। আগামীকাল (আজ) সমাবেশের ৩ ঘন্টা আগ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। কেননা, গত ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশটি পুলিশ আমাদের অনুমতি দিয়েছিল ৩ ঘন্টা আগে।’
কিন’ ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক মাওলানা নুর হোসেন কাসেমী গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদিকদের বলেন, ‘মহাসমাবেশ যে হচ্ছে না সেটা অনেকটা নিশ্চিত। কেননা প্রশাসন শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছে যে, আমাদেরকে তারা কোথাও সমাবেশ করতে দেবে না। তাই সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি আমি জানিয়ে দিয়েছি।’
সমাবেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভিন্ন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমাবেশ যে হবে না সেটা আমি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে অবহিত করেছি। এরপরও নেতারা এ ধরনের বক্তব্য কেন দিচ্ছে সেটা আমি বুঝতে পারছি না।’
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতি ছিল। কিন্ত’ সরকারের বাধার কারণে সমাবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না।’ তবে এটাকে তিনি সমাবেশ স্থগিত করা নয় বলে দাবি করেন।
আল্লামা শফীর ঢাকা যাওয়া নিয়ে দিনভর নানা গুঞ্জন
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ঢাকা যাওয়া নিয়ে গতকাল দিনভর নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল পুলিশি বাধার কারণে আল্লামা শফী ও সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ঢাকায় যেতে পারেননি।
গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, ‘এটা হেফাজত নেতাদের সাজানো নাটক। নেতাকর্মীদের সমালোচনা থেকে মুখ রক্ষার জন্য তারা এ নাটক করেছেন’ । আবার কেউ বলেছেন, ‘পুলিশ নানা ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেয়ায় হেফাজত নেতারা পিছু হটেন।’
হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ‘আল্লামা শফী ঢাকায় যেতে রাজি হননি। কিন’ ঢাকার হেফাজত নেতারা হুজুর (আল্লামা শফি) না আসলে সমাবেশ করবে না বলে হুমকি দেন। পরে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহিসহ আরও কয়েকজন নেতা আল্লামা শফীকে অনুরোধ করে রাজি করান।’
এদিকে অন্য আরেকটি সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের একটি অংশ আল্লামা শফীর ঢাকায় যাওয়ার মনোভাব বুঝতে পেরে সরকার ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে রোববার রাত থেকেই হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লামা শফীর সফরসঙ্গী হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈিনুদ্দিন রুহি গতকাল সংবাদিকদের বলেন,‘আপনারা কি চান, আমরা পুলিশের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হই। পুলিশ বাধা দেয়াতে আমরা ফিরে আসি। আমরা তো আর পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করতে পারবো না।’
এরআগে গতকাল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন আল্লামা শফী ও সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। আমাদের হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, তারা গাড়ি নিয়ে মাদ্রাসার মূল ফটকে আসলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।
হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ ফ ম নিজামউদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইসমাইলসহ পুলিশের ৫০ জনের একটি দল তাদের থামায়। তারা এই অবরোধ পরিসি’তিতে ঢাকায় না যাওয়ার জন্য হেফাজতের এ দুই শীর্ষ নেতার প্রতি অনুরোধ করেন। এসময় শতশত মাদরাসার ছাত্র মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়ে পুলিশের দিকে মারমুখি হয়ে তেড়ে যান। পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের প্রায় ২০ মিনিট হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশের অনুরোধ মেনে নিয়ে মাদ্রাসার ভেতর ফিরে যান হেফাজতের এ দুই শীর্ষ নেতা। এরপর পুলিশ মাদ্রাসা গেট থেকে চলে যায়। পরে মাদ্রসায় প্রবেশের পর আল্লামা শফীর উপসি’তিতে এক ব্রিফিংয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের বাধার মুখে আমরা আজ ঢাকায় যেতে পারিনি। তবে আমরা যেতে না পারলেও সেখানকার নেতাকর্মীরা সমাবেশ করবে। যদি সমাবেশের অনুমতি না দেয়া হয় তাহলে ঢাকা অবরোধ ও সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান তিনি। ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here