হাতিরঝিলে কিশোর প্রেমের সলিল সমাপন চলে গেল কিশোর তন্ময়

95

tonmoyএক স্কুলে একই ক্লাসে পড়াশুনা করতে গিয়ে ওদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু কিশোর বয়সের এই প্রেমের সম্পর্ক উভয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। এদের মধ্যে মেয়েটির সঙ্গে কয়েকদিন আগে এক ব্যবসায়ীর বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়। এতে এই দুই কিশোর-কিশোরী হতাশ হয়ে পড়ে। এই প্রেমের সম্পর্ক থেকে ঘর বাঁধতে না পেরে তারা আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দুজনে রাজধানীর হাতিরঝিলের একটি সেতু থেকে ঝাঁপ দেয়। বেঁচে যায় মীম, না ফেরার দেশে চলে যায় ১৬ বছর বয়সী তন্ময়।

গতকাল শুক্রবার ভোরে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এহসানুল হক তন্ময় ও সেহরীনা রহমান মীম মগবাজার দিলু রোডের প্রভাতী উচ্চ বিদ্যা নিকেতনের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

সেহরীনা রহমান মীম সাংবাদিকদের জানায়, সে মগবাজারের দিলু রোডের প্রভাতী উচ্চ বিদ্যা নিকেতনের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তন্ময় ছিল তার সহপাঠী। প্রায় এক বছর আগে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্কুলে দুজনের দেখা হতো, পাশাপাশি মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা হতো তাদের। একপর্যায়ে তাদের প্রেমের বিষয়টি দুজনের পরিবার জানতে পারে। অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। কিন্তু দুজনের পরিবারের কেউ-ই এই সম্পর্ক মানতে রাজি হননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মীমের পরিবার তড়িঘড়ি করে মেয়ের বিয়ে ঠিক করে। কিছুদিন আগে মৌচাকের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শাহজালালের সঙ্গে মীমের বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়। আগামী ১০ জানুয়ারি তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান করার দিন ধার্য হয়। এর পর বিষয়টি নিয়ে অনেকবার তন্ময় ও মীমের কথা হয়। কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে তারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

সাংবাদিকদের মীম জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে দুজনে তাদের বাসা থেকে বের হয়। হাতিরঝিল এলাকায় তারা ঘুরে বেড়ায়। কথা বলতে বলতে রাত গড়িয়ে ভোর হয়। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাতিরঝিলের রামপুরা অংশের প্রথম সেতুতে অবস্থান নেয় তারা। প্রথমে ঝাঁপ দেয় তন্ময়, এরপর তাকে অনুসরণ করে মীম। দুজনের কেউই সাঁতার জানতো না। ঘটনাস্থলের আশেপাশে উপস্থিত লোকজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মীমকে ঝিলের পানিতে হাবু-ডুবু অবস্থায় দেখে সেতুর ওপরে থাকা এক ভ্যানচালক তার সঙ্গে থাকা দড়ির এক প্রান্ত পানিতে ছুঁড়ে দেন। মীম ডুবে যাওয়ার আগ মুহূর্তে দড়িটি ধরে ফেলে। তখন তাকে টেনে ঝিলের পারে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে তন্ময় পানিতে তলিয়ে যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তন্ময়ের লাশ উদ্ধার করেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মা শাহনাজ আক্তার রুনার সঙ্গে নিউ ইস্কাটনের ১১৪ নম্বর বাসায় থাকতো তন্ময়। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল ছোট। তার বাবা ব্যবসায়ী একরামুল হক কামাল মেয়ে সুমাইয়া হক অনিমাকে নিয়ে পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের বাসায় থাকেন। মীম তার পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার বাসায় থাকে।

শাহানাজ আক্তার রুনা সাংবাদিকদের জানান, তন্ময়ের সঙ্গে এক সহপাঠীর প্রেমের বিষয়টি তিনি আগেই জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু তারা আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটাবে-এমনটা ভাবেননি তিনি। তিনি আরো জানান, তন্ময় বৃহস্পতিবার বিকালে বেরিয়ে রাতেও বাসায় না ফেরায় অনেক স্থানে খোঁজ-খবর করা হয়। কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রাতেই রমনা থানায় একটি জিডি করা হয়। সকালে পুলিশ ফোন করে লাশ উদ্ধারের খবর জানায়। বাড্ডা থানার ওসি বলেন, আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া-দুটিই আইনের চোখে অপরাধ। মেয়েটি স্বীকার করেছে, তারা দুজন দুজনকে আত্মহত্যায় উদ্বুদ্ধ করে এবং সেই অনুযায়ী তারা ঝিলে ঝাঁপ দেয়। এ কারণে মেয়েটিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here