‘হরতাল অবরোধের মধ্যেও রফতানি বেড়েছে’

15

pmপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনকালে বলেছেন, বিরোধী জোটের টানা হরতাল-অবরোধ সত্ত্বেও ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারে অচল হয়নি। শত প্রতিকূলতার পরও রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮ শতাংশ। সরকারের সতর্কতার কারণে সব বাধা অতিক্রম করে রপ্তানি বেড়েছে। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে ব্যবসায়ীদের অতীতের সেই হাওয়া ভবনের মতো কোন ভবনে গিয়ে কমিশন দিতে হয়নি। তারা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করেছেন। দেশের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার সরকার তা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শুধু রপ্তানি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকেও সম্প্রসারিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আজ শনিবার বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই বাণিজ্য মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে মাসব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষ নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। এ আন্দোলনে জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাদের আন্দোলন মানেই মানুষ হত্যা। তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার অপরাধে বিরোধী দল সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে। উনি (খালেদা) যেন একটা প্রতিহিংসা পরায়নতার মেতে উঠেছেন। হরতাল-অবরোধের নামে তাদের নাশকতা স্মরণ করিয়ে দেয় একাত্তরের সেই ভয়াবহতাকে। তবে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা এবং দেশের যে ক্ষতি করা হয়েছে সেজন্য খালেদা জিয়াকে দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম রুখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। এই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ দিন শেষে ক্ষতি আপনাদেরই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার সাথে অনবরত সংগ্রাম করে দেশ দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা বাণিজ্য যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। ব্যবসা বাণিজ্য সমপ্রসারণে নতুন নতুন বাজার খোঁজার প্রতি মনোনিবেশ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাবে। পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে মানের সঙ্গে আপোষ না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যে পণ্য আপনারা বিদেশে রফতানি করবেন তার মান যেন ঠিক থাকে, বাংলাদেশের বদনাম যাতে না হয়। আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে। এছাড়া শ্রমিকদের প্রতি যত্নবান হতেও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনার কারখানা চালান। শ্রমিকদের ভালোমন্দ আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রেও সরকার সব সময় আপনাদের সহায়তা দিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে গেছে। বিশ্ব মন্দার কারণে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অনেক দেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেত পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অগ্রযাত্রা সবসময়ই নিষ্কন্টক থাকেনি। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ অনেক সময় আমাদের যাত্রাপথকে বাধাগ্রস্ত করেছে। যেমনটি জনগণ বিগত কয়েক মাস ধরে দেখছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের ভরাডুবি ভুলতে পারেননি। সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে পাশে নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজি আকরামউদ্দিন, রফতানী উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বোস প্রমুখ।

আজ থেকে শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরসহ ১২টি দেশের ২৭টি সংস্থা এই মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় ৯৬টি প্যাভেলিয়ান, ৪৯টি মিনি প্যাভেলিয়ান ও ৩১৬টি স্টল থাকছে। মেলার প্রবেশ মূল্য বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। এ বছরের বাণিজ্য মেলার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন ইকো-পার্ক, ই-সপ, চিকিত্সা ও রক্তদান কেন্দ্র এবং লোক সঙ্গীত পরিবেশনা। তরুণ সমাজের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বিগত বছরগুলোর ন্যয় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভেলিয়ান’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মেলায় খাদ্য এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা অধিদফতরের একটি পৃথক বুথও খোলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here