হরতালে মাঠে নেই শীর্ষ নেতারা : পিকেটিংয়ে শিবির : হতাশা বিএনপির তৃণমূলে

16

১৮ দলীয় জোটের ব্যানারে হরতাল ডাকলেও পিকেটিংয়ে আছে কেবল শিবির ক্যাডাররা। বিচ্ছিন্নভাবে দু’একটি ককটেল ফাটিয়ে পালন করা হচ্ছে হরতাল। মাঠে নেই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা। নেই বিএনপি-জামায়াতপন্থি পেশাজীবী সংগঠনও। পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। এতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছেই। টানা চার দিনের হরতালের প্রথম দিন গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হরতালের পক্ষে ১৮ দলের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীকেই রাজপথে দেখা যায়নি। হয়নি কোন পিকেটিং। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসের সামনেও গতকাল নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়নি। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের আগাম অবহিত করে কিছু অলিগলিতে ককটেল ও আতশবাজি চালিয়েছে শিবির কর্মীরা। রাজপথে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। খিলগাঁও, মতিঝিল, মালিবাগ, মগবাজার, ফার্মগেট, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকা ঘুরে রাস্তার কোথাও কাউকে পিকেটিং করতে দেখা যায়নি।

রাজধানীর একটি থানার যুবদলের সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদকে বলেন, ‘হরতালে আর মার খেয়ে লাভ নেই। কারণ বিএনপি পর্যায়ক্রমে ‘জাতীয়তাবাদী জামায়াতে ইসলামীতে’ পরিণত হচ্ছে। জামায়াতের চাপেই বারবার হরতাল দিচ্ছে, যা দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন করছে।’

টানা চার দিনের হরতালসহ এই বছরে মোট ৪৯ দিন হরতাল পালন করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় আলাদাভাবেও অনেকদিন হরতাল পালন করেছে বিএনপি-জামায়াত। এর আগে সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে এককভাবে জামায়াতের ডাকা হরতালের সময়ে যে ধরনের পিকেটিং হতো এবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে সে অনুযায়ী পিকেটিং দেখা যাচ্ছে না।

এই হরতালে জনসমর্থন না থাকায় মাঠে নামছে না বিএনপিপন্থি শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে দেখা যায় না। শুধু হরতালের মধ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি সীমাবদ্ধ থাকায় বিএনপি-জামায়াতপন্থি পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। তারা আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি প্রত্যাশা করছেন। তারা হরতাল দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পক্ষে নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here