হরতালের দ্বিতীয় দিনে নিহত ৫

14

image_81647ঝিনাইদহে বিএনপি, জামালপুরে যুবলীগ, টাঙ্গাইলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতা, চাঁদপুরে শিশু ও চট্টগ্রামে ট্রাক চালক নিহত

ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল নিক্ষেপ, গুলি আর সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সারাদেশে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা তিন দিনের হরতালের গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। গতকাল বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে ৬ জেলায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে জামালপুরে যুবলীগ কর্মী, ঝিনাইদহে বিএনপি নেতা, টাঙ্গাইলে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতা এবং চাঁদপুরে এক শিশু ও চট্টগ্রামে ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এছাড়া এসব সংঘর্ষের সময় আহত হয়েছেন শতাধিক পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মী।

জামালপুরের ইসলামপুরে রামভদ্রা বাজারে হরতালের সমর্থনে মিছিল শেষে যুবলীগ কর্মী শাহজাদার (৪৫) ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এর আগের দিন হরতাল সমর্থকরা দোকান বন্ধ করতে বললে শাহজাদার ছেলে সামিউল প্রতিবাদ করেন। সেই ঘটনার জের ধরে গতকাল শাহজাদাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হরতালের কর্মসূচি শেষে ফেরার সময় ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু থানা বিএনপি’র সভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনকে (৫৬) দুর্বৃত্তরা বোমা মেরে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জামায়াত-শিবিরের পিকেটারদের ইটের আঘাতে মো. ওয়াসিম (২৮) নামে এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলীম সিকদারকে (৩০) প্রতিপক্ষরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়া চাঁদপুরে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কর্মীদের সংঘর্ষের সময় আরজু ঢালি (১৪) নামে এক নিরীহ কিশোর প্রাণ হারায়। তবে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেছেন, নিহত আরজু তাদের কর্মী। আরজুকে হত্যার প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনের হরতাল ডেকেছে ছাত্রদল।

ঝিনাইদহে থানা বিএনপি সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ও হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু থানা বিএনপি’র সভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনকে (৫৬) দুর্বৃত্তরা বোমা মেরে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দখলপুর বাজারে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তিনি দখলপুর গ্রামের আব্দুল গফুর মণ্ডলের ছেলে। দলীয় নেতা হত্যার প্রতিবাদে ১৮ দল বুধবার ঝিনাইদহ জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। আবুল হোসেন নিহত হওয়ার পর হরিণাকুণ্ডুতে সংখ্যালঘুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সংখ্যালঘুদের দোকান নয়, তারা যে দোকান পেয়েছে তাতেই হামলা করে। অবশ্য পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, আবুল হোসেন কয়েকজন সঙ্গীসহ হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। দখলপুর বাজারে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে প্রথমে কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তারপর তারা তাকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর হরিণাকুন্ডু জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ ১৮ দলের কর্মীরা হরিণাকুন্ডু উপজেলা মোড়ে আওয়ামী সমর্থকদের ১৫/১৬টি দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। হরিণাকুন্ডুতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। তিনি দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, ১৮ দলীয় জোটের হরতাল কর্মসূচি পালন শেষে ফেরার সময় আবুল হোসেনের উপর হামলা চালানো হয়। অপরদিকে ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিজুর রহমান বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেউ আদৌ জড়িত নয়। সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

জামালপুরে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, হরতাল সমর্থকরা একদিন আগে জামালপুরের ইসলামপুরে রামভদ্রা বাজারে দোকান বন্ধ রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু এর প্রতিবাদ করেছিলেন যুবলীগ কর্মী শাহজাদার (৪৫) ছেলে সামিউল। সেই ঘটনার জের ধরে গতকাল শাহজাদাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, গত রবিবার সন্ধ্যায় বিএনপি-জামায়াত জোটের লোকজন স্থানীয় রামভদ্রা বাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলে। সে সময় নিহত শাহজাদার ছেলে রিকশা চালক সামিউল এর বিরোধিতা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রামভদ্রা বাজারে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। এরপরই শাহজাদার উপর হামলা করা হয়। নির্মমভাবে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে হরতাল সমর্থকরা।

তবে জামালপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যার ঘটনাটি দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণেই ঘটেছে বলে জানা গেছে। তারপরও পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী মণ্ডল ও পৌর মেয়র আব্দুল কাদের শেখ বলেন, হরতালকারীদের পিটুনিতে যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুর রহমান আনছারী এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে বিরোধে শাহজাদা মারা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন- আশরাফ সরকার (৩০), বাদশা সরকার (৩৫), রাশেদ সরকার (২৫), রশিদ (৩৫), রমিজল (৩৫), শাহীন (৩৬), আনোয়ার (৪০), নান্ডা (৩৫), লোকমান (২০), রাজ্জাক (৫০), সাজু (২৫), মোফাজ্জল (৪৫) ও মুকুলকে (২৫) ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জামালপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইলে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতা হত্যা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জের ধরে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলীম সিকদারকে (৩০) প্রতিপক্ষরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মির্জাপুরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আলীমের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বিকালে সংবাদ সম্মেলন এবং প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আলীমকে হত্যার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম নয়াসহ কয়েকজনকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এস এম মহসীন, জুলহাস উদ্দিন, খ. জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রাজ্জাক ও ফিরোজ হায়দার খান।

মির্জাপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা ও হাইওয়ে থানার ওসি যুবাইদুল আলম জানান, হরতালের সমর্থনে আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের পক্ষে গোড়াই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিছিল নিয়ে হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে অপর গ্রুপ ফিরোজ হায়দারের নেতৃত্বে সহস্রাধিক কর্মী-সমর্থক মিছিল বের করে। এ সময় উভয়পক্ষে সংঘর্ষে আজাদ গ্রুপের আব্দুল্লা আল মামুন ও রাজিব আহত হন। তাদের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফিরোজ হায়দার গ্রুপের আব্দুল আলীম সিকদার দুপুরে সোহাগপাড়া বাজারে আসার পথে আবুল কালাম আজাদের পক্ষের ১০-১২ জন আব্দুল আলীম সিকদারের উপর হামলা চালিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ হায়দার অভিযোগ করেন। হাসপাতালে আনার পথে আলীম মারা যান।

উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা সোহাগপাড়া বাজারে বিএনপির আজাদ গ্রুপের অফিস ভাংচুর করে। এদিকে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ড এবং এমনকি মিছিলেও যাননি। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গোড়াই ও সোহাগপাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

চাঁদপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার নতুন রাস্তায় হরতাল সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কর্মীদের সংঘর্ষের সময় ইটের আঘাতে আরজু ঢালী (১৪) নামে এক শিশু মারা গেছে। আরজুর বাবা মগবুল হোসেন বলেন, তার ছেলে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন নিহত আরজু তাদের কর্মী। এছাড়া ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ দুই দলের কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীরা জানায়, গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে হরতাল সমর্থকদের সাথে যুবলীগ কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ এসে ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে উভয় দলের কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে দুই দলের কর্মীরা আবার সংগঠতি হয়ে পুরান বাজার নতুন রাস্তায় রিফিউজি কলোনি এলাকায় রাস্তার দুই মাথায় অবস্থান নেয়। সেখানে কয়েক দফা সংঘর্ষের পর টহলরত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এই সংঘর্ষের সময় আরজু ঢালী মারা যায়। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ইব্রাহীম জুয়েল সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন নিহত আরজু ছাত্রদলের কর্মী। কর্মী হত্যার প্রতিবাদে আগামী মঙ্গল ও বুধবার চাঁদপুরে দুই দিনের হরতাল আহ্বান করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশ কনস্টবল সালাউদ্দিন (২৬) ও লুত্ফুর (২৫) আহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি দাবি করেছে সংঘর্ষে যুবদল কর্মী হাকীম আলী বেপারী (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া সকালের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী ইমাম হোসেন (৩৯), আল-আমিন (২৫), মো. শরীফ (২৫), সোহাগ (২৮), সুমন (১৮) ও রঞ্জন চন্দ্র দাস (২২) আহত হন। এদিকে শহরে অবস্থার অবনতি দেখে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ সিদ্দিক দুপুর ১টা থেকে চাঁদপুর পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

সাতকানিয়ায় ট্রাক চালক নিহত

চট্টগ্রাম অফিস ও সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জামায়াত-শিবিরের পিকেটারদের ইটের আঘাতে এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. ওয়াসিম (২৮)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাত ১২ টার দিকে একটি মালবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৩৫৬২) চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ট্রাক চালক আহত হন এবং ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ট্রাকটি রাস্তার উপর গাড়িটি উল্টে যায়। এই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে চালক ওয়াসিম মারা যান। এ সময় ট্রাকের হেলপার মো. আলম (২৪) ও অতিরিক্ত ড্রাইভার মো. হোসেন (২৮) আহত হন।

গতকাল সোমবার সকালে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ লাশ ও ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত চালক চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাহাজি বাড়ি এলাকার মো. আবুল কাশেম বাচ্চুর ছেলে। দোহাজারী হাইওয়ে থানার দারোগা রমিজ উদ্দিন জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। একই রাত ৩ টার সময় উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ড্রিম হাউস এলাকায় পিকেটাররা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে কলা বোঝাই একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়া সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

কুলিয়ারচরে যুবদল কর্মীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গতকাল সকালে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে হরতাল সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় যুবদল কর্মী হাসান আলী (৩৫) আহত হলে তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কুলিয়ারচর থানার ওসি সুব্রত কুমার সাহা জানান, হার্টঅ্যাটাকে তিনি মারা যান। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, হাসান আলী যুবদলের কর্মী ছিলেন। কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় অসুস্থতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here