হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হল তারেক-আরিফকে আট দিনের রিমান্ড

23

rabঅবশেষে নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক ও লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মাহমুদ ও মেজর (অব.) আরিফ হোসেনকে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। আর সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। এদিকে খুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল সেই আলোচিত র্যাব-১১ এর সদস্য বিজিবি’র হাবিলদার কামাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অনুসরণ করার সময় আদালতে কনস্টেবল ওমর ফারুক ও রফিক র্যাবের এক সদস্যকে আটক করে। ঐ সময় হাবিলদার কামাল উদ্দিন র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গতকাল বিকালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় র্যাবের সাবেক এই দুই কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে হাজির করেন। আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে শুনানিশেষে আদালতের এজলাসের ভেতরে বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আসামি তারেক সাঈদ মাহমুদকে লাঞ্ছিত করেন।

আদালতে পুলিশের দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, তারা দুইজন সেনাবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তা। সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের সাথে তাদের গভীর সখ্য ছিল। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে তারা দুইজন হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

রিমান্ড শুনানির সময় তারেক সাঈদ মাহমুদ বলেন, আমাদের ঘৃণার চোখে দেখা হচ্ছে, আমাদের সহমর্মিতার চোখে দেখা হোক। সত্য সত্যই আর মিথ্যা মিথ্যাই। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। যখন সত্য প্রমাণিত হবে তখন আমাদের সহানুভূতির চোখে দেখবে সবাই। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য চিকিত্সক দেয়া হচ্ছে না। আমরা আইন সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের আইনের সহযোগিতা দেয়া হোক। আমাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হোক। আমাদের ১ দিন, ১০ দিন, ১০০ দিন রিমান্ড দেয়া হোক, তাতে কোন আপত্তি নাই। আমরাও এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই। সেইসাথে আমরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

এর আগের শুনানিতে আসামিপক্ষের কোন আইনজীবী না থাকলেও গতকাল র্যাবের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য ঢাকা বারের অ্যাডভোকেট মোজ্জামেল হক নাম লেখান। কিন্তু শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে তিনি কোন কথা বলেননি। পরে আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বিচারক এজলাস ছেড়ে যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এজলাসের ভেতরেই তাকে লাঞ্ছিত করে।

এ সময় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সাত হত্যাকাণ্ডের আসামিরা মানুষের মাংস খেয়েছে। তাদের পক্ষে কোন আইনজীবী দাঁড়ালে তারাও মানুষের মাংস খাবে। তাই কোন আইনজীবী যেন তাদের পক্ষে না দাঁড়ায়। র্যাবের অসাধু কর্মকর্তারা নূর হোসেনের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছে সেই টাকা কোথায় কোথায় ব্যয় করা হয়েছে এবং কাকে কাকে দেয়া হয়েছে এর হিসাব দিতে হবে।

নূর হোসেনকে ধরতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি : প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ধরতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা তথা ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। গতকাল সকালে পুলিশ সদর দফতরের ইন্টারপোল শাখায় এ চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে নূর হোসেনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি রেড ওয়ারেন্ট ইস্যুর কথাও বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, নূর হোসেনকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলকে চিঠি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারণ, দেশের বাইরে থেকে আসামি ধরতে হলে ইন্টারপোলের সাহায্য প্রয়োজন। এছাড়া দেশের সব সীমান্তবর্তী এলাকাতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

সাবেক ডিসি ও এসপিকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত কমিটি : সাত খুনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সদ্য প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি। আগামী রবিবার ঢাকায় সচিবালয়ে এ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউসে দুইজন পুলিশ ও একজন র্যাব সদস্যের সাক্ষ্য গ্রহণের সময়ে তদন্ত কমিটির প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী এসব কথা জানান। তিনি আরো জানান, সাক্ষ্য প্রদানকারী দুইজন হলো পুলিশের কনস্টেবল ওমর ফারুক ও রফিক এবং র্যাব সদস্য কামাল উদ্দিন।

তদন্ত কমিটিসূত্রে জানা গেছে, কামাল উদ্দিন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে র্যাব-১১ এর একটি মাদক আইনে দায়ের করা মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। আদালতে পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তিকে তিনি র্যাব সদস্য হিসাবে শনাক্ত করেন। তবে ঐ ব্যক্তির তিনি নাম জানেন না। র্যাব-১১ এর কার্যালয়ে সৈনিকদের খাবারের মেসে ওই ব্যক্তিকে তিনি দেখেছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here