স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানবজীবন আটা ও চিনিতে চক পাউডার সরিষার তেলে মরিচের গুঁড়া

13

newবেঁচে থাকার জন্য আমাদের খাবারের বিকল্প নেই। আর সেই খাবারে যদি মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায় তাহলে কোথায় যাবে মানুষ, কী খাবে তারা? আমরা দৈনন্দিন জীবনে কী খাচ্ছি তা কি কখনো যাচাই করে দেখেছি? আর সেই সুযোগই বা আছে কী? তাই জেনেশুনে আমরা প্রতিদিন বিষ খাচ্ছি।

দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জন্য খাদ্যপণ্য হিসেবে উৎপাদিত হয় চিনি। আর এই চিনিতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত চক পাউডার এবং সরিষার তেলে মেশানো হচ্ছে মরিচের গুঁড়া। শুধু চিনিতে নয়, বিষাক্ত চক পাউডার মেশানো হচ্ছে আটা, ময়দাতেও। যা দেখার বা যাচাই করার কেউ নেই বললেই চলে। আর এসব মারাত্দক পণ্যে সয়লাব হয়ে পড়েছে দেশের বাজারগুলো। এসব খাদ্যপণ্য খেয়ে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। আর এমন ভয়ানক তথ্য বেরিয়ে এসেছে দেশের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে।

রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে জানা গেছে, ভোগ্যপণ্য হিসেবে আমরা যা খাচ্ছি তার বেশির ভাগই অস্বাস্থ্যকর এবং মানবদেহের জন্য মারাত্দক ক্ষতিকর। প্রতিনিয়ত বাজার থেকে যেসব পণ্য কিনে বাসাবাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি তার বেশির ভাগই এক প্রকার বিষ। সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানের তথ্যে আরও জানা গেছে, বিষাক্ত ফরমালিন মেশানো দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় মিষ্টি। চিনিতে মেশানো হয় চক পাউডার ও ইউরিয়া সার। আটা ও ময়দাতে মেশানো হয় বিষাক্ত চক পাউডার। দুধে মেশানো হয় ফরমালিন ও স্টার্চ। মাখন ও ঘিতে মেশানো হয় ক্ষতিকর মার্জারিন এবং পশুর চর্বি। সরিষার তেলে মেশানো হয় রেড়ির তেল এবং মরিচের গুঁড়া ও খনিজ তেল। সয়াবিন তেলে মেশানো হয় পাম অয়েল ও ন্যাপথলিন। এভাবেই মেশানো হচ্ছে শত শত ভোগ্যপণ্যে। জানা যায়, এসব পণ্যের অনেকগুলোই বিএসটিআইয়ের নজরদারির আওতাভুক্ত নয়। আর এ কারণেই এসব পণ্যের ফরমালিন ও বিষাক্ত উপাদান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দায়িত্ব এড়িয়ে থাকে বিএসটিআই। কিন্তু আইনের এই ফাঁকফোকরের সুযোগে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিষাক্ত ফরমালিন, কেমিক্যালসহ নানা ধরনের উপাদান দেদার মেশানো হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ফল, মাছসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে বিষাক্ত ফরমালিন মেশানোর সুযোগ পাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এসব পণ্যের মান পরীক্ষা করার দায়-দায়িত্ব কেউ নিচ্ছেন না। খাদ্যপণ্যে ভেজাল বন্ধের মূল দায়িত্বে আছে বিএসটিআই। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, জেলা প্রশাসন, র্যাব, পুলিশসহ ছয় মন্ত্রণালয়ের ১০টি বিভাগের প্রতি রয়েছে ভেজাল রোধে বিশেষ নির্দেশনা। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বলতে কিছুই নেই। যে কারণে মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্য। এক সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ- দৌলার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেললেও এখন আর হচ্ছে না। বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত করা ও প্রতারণা থেকে ক্রেতাদের রক্ষা করতে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বেশ কিছু সংস্থার কার্যক্রম রয়েছে। কিন্তু ওইসব সংস্থা সফল হতে পারেনি এতটুকুও। উপরন্তু অভিযোগ আছে দেদার। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএসটিআই যেহেতু মান ঠিক করে, লাইসেন্স দেয় ও তদারকি করে, সেহেতু তাদের দায়িত্বই বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here