স্বামীর টাকা হাতিয়ে নিতে স্ত্রীর এ কী কাণ্ড!

26
newমাদকাসক্ত সাজিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা

নগরীর বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৬)। ২৪ বছর ধরে থাকেন সৌদি আরবের জেদ্দায়। গতমাসে তিনি দেশে আসেন। দেশে আসার পর টাকা-পয়সা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে হঠাৎ একদিন তার ঝগড়া বাঁধে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্বামীর থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে স্ত্রী তাকে মাদকাসক্ত সাজিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন’ সেই চেষ্টা বিফলে যায়।
গত রোববার গভীর রাতে বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকায় ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে বাসার সামনে থেকে ছয়-সাতজন যুবক জাহাঙ্গীরকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়ার সময় স’ানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ দু’জনকে হাতেনাতে আটক করে। আটক করা হয় মাইক্রোবাসটিও।
আটক দু’জন হলেন নগরীর হালিশহর নয়ন মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মচারী জাহাঙ্গীর ও মাইক্রোবাসের ড্রাইভার বাচ্চু।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন  বলেন, ‘প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের দুই স্ত্রী। সর্বশেষ বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। তার অনেক সহায়-সম্পত্তি। বিদেশ থেকে আসার পর টাকা-পয়সা নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে তার প্রায় সময় ঝগড়া হতো। এক পর্যায়ে স্ত্রী তার দুই মামার সহযোগিতা ও পরিকল্পনায় স্বামীকে মাদকাসক্ত সাজিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর চেষ্টা করেন।’
ওসি জানান, গভীর রাতে জাহাঙ্গীর আলমকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে তোলার সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এসময় খবর পেয়ে পুলিশও সেখানে যায়। পুলিশ দেখে মাইক্রোবাসে থাকা ৬ থেকে ৭ যুবক পালিয়ে গেলেও ঘটনাস’ল থেকে দু‘জনকে আটক করা হয়।
মূলত জাহাঙ্গীর আলমের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতে তাকে মাদকাসক্ত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানান ওসি মহসিন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে অপহরণের চেষ্টা ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বেলাল ও শওকতুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়। কিন’ সংসার ও তিন সন্তানের কথা চিন্তা করে জাহাঙ্গীর তার স্ত্রীকে মামলায় আসামি করেননি বলে জানিয়েছেন ওসি মহসিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here