স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করুন : প্রধানমন্ত্রী –

15

প্রধানমন্ত্রী-শেখ-হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধান, গণতন্ত্র ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বানচাল করতে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। যে কোন মূল্যে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে দেশবাসী এবং প্রবাসী সকল বাঙালিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাব্বিশে মার্চ আমাদের জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের দিন, পরাধীনতার শিকল ভাঙ্গার দিন। স্বাধীনতা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; যাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি প্রিয় স্বাধীনতা।
শেখ হাসিনা স্বাধীনতা দিবসের বাণীতে যাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিজয় অর্জিত হয়েছে সেইসব ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি এ উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, আমি সম্মান জানাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের; যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাঁদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সকল বন্ধুরাষ্ট্র, সংগঠন ও ব্যক্তিদের প্রতি যাঁরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অকৃপণ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, একাত্তরের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টার ও তত্কালীন ইপিআর-এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই ঘোষণা প্রচারিত হয়। এর পূর্বে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার ডাক দেন। বঙ্গবন্ধু ভাষনে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি বাঙালি জাতিকে শত্রুদের মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই অর্জনকে অর্থপূর্ণ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে, স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক নতুন প্রেক্ষাপটে আমরা এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছি। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে আবার দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছে। আমাদের ওপর জনগণের এ আস্থার পূর্ণ মর্যাদা আমরা দেব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,বিগত পাঁচ বছরে আমরা দেশের আর্থ-সামাজিক প্রতিটি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে প্রতিটি বাঙালি দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে আত্মনিয়োগ করবেন; বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here