স্বাগত ২০১৪ : ফিরুক স্বস্তি ফিরুক শান্তি

9

new-year-picজীর্ণ ঝরা পাতার মতো ঝরে গেল ২০১৩ সালের ক্যালেন্ডার। আজ ১ জানুয়ারি বুধবার উঠেছে নতুন সূর্য। এ সূর্য নতুন বছরের। এ প্রভাত নতুন দিনের, নতুন স্বপ্নের। চারদিকের হানাহানি, রক্তপাত, উদ্বেগ-শঙ্কার মধ্যেও মানুষ অসীম প্রতীক্ষা করছে নতুন সূর্যালোকিত সময়ের। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে টানা সংঘাতময় পরিস্থিতিতে পড়ে মানুষ এখন শঙ্কিত, উদ্বিগ্ন। নতুন বছরের প্রভাবে আমাদের চারদিকের রক্তপাত, হানাহানি, উদ্বেগ-শঙ্কা পেরিয়ে নতুন বছরে আসুক নিঃশঙ্ক জীবন। আসুক শান্তি। স্বাগত খ্রিস্টীয় নতুন বছর ২০১৪ সাল।

ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা পৃথক বাণীতে দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেন, ‘পুরাতন বছরের ব্যর্থতা ও গ্লানিকে পেছনে ফেলে নব উদ্যমে আমরা সোনালি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাব-এ হোক আমাদের অঙ্গীকার।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, নববর্ষ উদ্‌যাপন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য দিক। ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় তা সবাইকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসামপ্রদায়িক, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৩ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে সবার জন্য সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ‘শান্তির জনপদ বাংলাদেশের মাটি আজ রক্তে সিক্ত হচ্ছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার অস্বীকৃত।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছর সেই অন্ধকার দূর করবে মুক্তির আলোকবর্তিকায়।

বছরের নতুন দিনটি অবশ্য শুরু হয়েছে শ্বাসরুদ্ধ এক পরিস্থিতির মধ্যে। বিরোধী দল আজ থেকেই শুরু করেছে টানা অবরোধ। অন্যদিকে সরকারি দল চাচ্ছে ঘোষিত ৫ জানুয়ারিতেই নির্বাচন করতে। আর এ দুয়ের টানাপড়েনে মানুষ। তাদের মনে ভয়, এ বছরেও না জানি কী হয়!

৩১ ডিসেম্বর পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটা ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসী খ্রিস্টীয় নববর্ষ উদ্‌যাপন শুরু করে। বহু মানুষ এ দিন পরস্পর মিলিত হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। শুভেচ্ছা কার্ডে, এসএমএসে, ফেসবুকে, ই-মেইলে শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময়ের মধ্যে একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছা বিনিময় করে।

ইংরেজি থার্টিন বা ১৩ সংখ্যাকে অনেকেই বলে থাকে ‘আনলাকি’। এমন ধারণার পেছনে ঐতিহাসিক কোনো সত্য থাকুক বা না থাকুক, বাংলাদেশের জন্য গত বছরটি অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে থাকল ‘আনলাকি থার্টিন’।

কালের রথ এগিয়ে চলেছে তার নির্দিষ্ট গতিবেগে। এরপরও আমাদের মনে হয় আনন্দের দিন দ্রুত চলে যায়, দুঃখের কাল হয় বড় মন্থর। এরপরও বেঁচে থাকা পরম কাঙ্ক্ষিত বলেই আমাদের চির আক্ষেপ-‘হায়, জীবন এত ছোট ক্যানে!’

তারাশঙ্করের কবিয়াল নিতাইয়ের মতো মানুষের আক্ষেপ তো ফুরানোর নয়। কী পেলাম, কী পেলাম না, কেমন হওয়া উচিত ছিল আর কেমন হলো-এসব নানা হিসাব মেলানোর একটা তাগিদ বোধ করে মন। তখনই বেরিয়ে আসে সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান।

তবে মানুষ ব্যর্থ হতে চায় না; এই না চাওয়াটা তার স্বভাব। মানুষ সফল হতে চেয়েছে বলেই মানবেতর প্রাণীদের থেকে আলাদা হতে পেরেছে। মেধা ও উদ্যম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা-সমঝোতার ভিত্তিতেই মানুষ রচনা করেছে সমাজ-সভ্যতা, বিনির্মাণ করেছে সম্পদ ও জীবনের নিশ্চয়তা।

দেশের ক্ষেত্রেও মানুষ চায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে; এর ফলে সমঝোতা-সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। নতুন বছরে মানুষের প্রত্যাশা থাকবে নিঃশঙ্ক জীবন, সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক পরিবেশ। ২০১৪ সালের প্রথম সকালে তাদের স্বপ্ন হবে জাতীয় ও রাজনৈতিক সব ব্যর্থতার অবসান। তারা ফিরে পেতে চাইবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পুরনো বছর যেমনই যাক, নতুন বছর যেন ভালো যায়-নববর্ষের এ দিনে মানুষ সে প্রত্যাশাই করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here