স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে: এরশাদ

29

ershadজাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন—২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে তার দল স্বাগত জানাচ্ছে না। বরং এই বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করছেন। ‘বাজেট উচ্চাভিলাসী’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এই বক্তব্য সম্পর্কে এরশাদ বলেন, ‘উচ্চাভিলাস থাকা ভালো, উচ্চাভিলাস না থাকলে অগ্রগতি হয় না। তবে স্বপ্নবিলাস দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হোক, তা আমরা চাই না। কারণ, বাস্তবে এটি একটি স্বপ্নবিলাসী বাজেট।’ আজ শনিবার এরশাদ তার বনানীস্থ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন। প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সম্মেলন করা হয়। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এতে অনুপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেগম রওশনের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এরশাদ বলেন, ‘আমি পার্টির চেয়ারম্যান। পার্টির দায়িত্ব তো আমার। ওনার পক্ষ থেকে আমি প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। আমি দায়িত্ব নিয়েই কথা বলছি।’

‘এবার অবশ্য বিরোধীদল ছিল। তা যে ধরনের বিরোধীদলই হোক না কেন।’ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাজেট উপস্থাপনের দিন সংসদে বিরোধীদলের উপস্থিতি বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যের বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওনার এ ধরনের বক্তব্যে আমরা মর্মাহত। বিরোধীদল এই প্রথমবারের মতো বাজেটের সময় সংসদে ছিল, এতে তার সাধুবাদ জানানো উচিত ছিল। আমরা তার এ বক্তব্যর নিন্দা জানাই।’

এরশাদ বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে যত উচ্চ আশাই করা হোক না কেন এর কোনোটিতেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না যদি দেশে সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটানো না যায়। দেশে যদি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, হত্যা, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটতেই থাকে, তাহলে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায় চলে যাবে। নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনার পর বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা এমনিতেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।’

তাহলে কি দেশে সুশাসন, আইন-শৃঙ্খলা নেই—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘সুশাসন অনুপস্থিত।’ এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে আন্তরিকভাবে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকার ঘাটতি আছে এ বাজেটে। এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রী যে সব সূত্রের কথা বলেছেন, তা দেখে এ বাজেটকে স্বপ্নবিলাসীই মনে হয়। কারণ, গত এক বছরে বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে ২৪ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যায়নি। সুতরাং, বৈদেশিক উত্স থেকে অর্থ না পেলে সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ঋণ কম পাবেন। এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ নিলে নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে। এতে বাড়বে মূল্যস্ফীতি।’

এরশাদ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ রেখেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ নেয়া হলে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখা যাবে না। এখানে অর্থমন্ত্রী জাতিকে একটি স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যে স্বপ্ন সফল করা সম্ভব নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এস এম ফয়সাল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here