স্থগিত সাতটি আসনে ভোট কাল, প্রস্তুত ইসি সেনাবাহিনী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত

31

image_101352দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া ৮টির মধ্যে ৭টি আসনে আগামীকাল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৩৯০টি কেন্দ্রের ভোটাররা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্নের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা-বলয় গড়ে তুলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ছাড়াও প্রায় ১৪ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। যদিও স্থগিত ৮টি আসনের মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রেখেছে কমিশন। এ ছাড়া বগুড়া-৭ আসনটিতে হরতাল দিয়ে রেখেছে ১৮ দলীয় জোটের সমর্থকরা। বিরোধী-জোটের ভোট প্রতিহতের ঘোষণার বিপরীতে ভোটারদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ  বলেন, ‘স্থগিত আসনগুলোর পুনঃনির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য আগের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কমিশন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে ৬ জেলায় আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। স্ট্র্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনও শেষ। নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে নবগঠিত সরকার। গত ৫ জানুয়ারি দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ৫৩৯টি কেন্দ্রে এবং বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী উপকরণ পুড়ে যায়। পরে কমিশন ওই সব কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। এর মধ্যে ৬ জেলার ৮টি আসনের ৩৯২টি কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে আজ হাইকোর্ট কুড়িগ্রাম-৪ আসনের দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে। ফলে এখন ভোট হবে ৫ জেলার ৭টি আসনের ৩৯০ ভোটকেন্দ্রে। এরই মধ্যে ৭০৬ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে দিনাজপুর-৪, কুড়িগ্রাম-৪, গাইবান্ধা-১, ৩ ও ৪, বগুড়া-৭, যশোর-৫ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ বাদে স্থগিত ৭টি আসনের ৩৯০ ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ১০ লাখ ২ হাজার ৮৭১ জন। কেন্দ্র হিসেবে দিনাজপুর-৪ আসনের ৫৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৯ জন। গাইবান্ধা-১ আসনের ৫৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ জন। গাইবান্ধা-৩ আসনে ৮০টি কেন্দ্রে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩০২ জন। গাইবান্ধা-৪ আসনে ৭২টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৭৭ জন। বগুড়া-৭ আসনের ৪৬ কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৬৫ জন। যশোর-৫ আসনে ৬০ কেন্দ্রে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৯৬ জন। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ২১ কেন্দ্রে ৫০ হাজার ২৭৯ জন। আদালতে স্থগিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ২ কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ৭ হাজার ২৫৭ জন। আজ বিকালে আদালতের রায়ের কপি নির্বাচন কমিশনে এলে কমিশন এ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। বাকি অন্য আসনগুলোতে যথাযথই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কুড়িগ্রামের ওই আসনে ১০৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫ জানুয়ারি ১০৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী রুহুল আমীন বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৩০ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতিকের জাকির হোসেন পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৪৬ ভোট। তাদের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৬ হাজার ৫৯৮। আর এই দুই আসনের ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ২৫৭।

নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ৩০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৮ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে। পুনরায় ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর আগে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হলেও সহিংসতার আশঙ্কায় আরো দুই দিন বেশি থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রতি ১০ কেন্দ্রের জন্য ৪৩ জন সশস্ত্রবাহিনী থাকছে।

অতীতের তুলনায় স্থগিত ৭টি আসনের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকগুণ বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ১০ জন অস্ত্রধারী পুলিশসহ ২৫ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। আট আসনের স্থগিত ৩৯০টি কেন্দ্রের জন্য গতকাল থেকে আগামী শুক্রবার চার দিনের জন্য ৩০ জন ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল টিমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সহিংসতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে ডিসি-এসপিদের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। আনসার ও পুলিশের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব ও আর্মড পুলিশ। ব্যাটালিয়ান আনসার সহযোগী ফোর্স হিসেবে পুলিশের সঙ্গে মোবাইল টিমে থাকবে। ভোটারদের জন্য ভোটদানের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ ইউনিটসমূহ কাজ করবে। প্রতি ৩ কেন্দ্রের জন্য ১৩২ জন পুলিশ সদস্য, ৫ কেন্দ্রের জন্য ৮২ জন র্যাব সদস্য এবং ১০ কেন্দ্রের জন্য ৪৩ জন করে বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৫ জানুয়ারির ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে সহায়তা করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। তারা নির্বাচনী অপরাধ খতিয়ে দেখবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গঠিত সমন্বয় সেল এবারো কাজ করবে। এতে পুলিশ, আনাসার, বিডিআর, সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার একজন করে প্রতিনিধি থাকবে। তারা ভোটগ্রহণের আগে থেকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা সমন্বয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং ইসির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে। পুনঃভোটগ্রহণ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আগামীকাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করা হয়।

৭ আসনে প্রার্থী যারা:

দিনাজপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী এনামুল হক সরকার। গাইবান্ধা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম লিটন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল কাদের খান। গাইবান্ধা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. ইউনুস আলী সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি। গাইবান্ধা-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বগুড়া-৭ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুহম্মাদ আলতাফ আলী, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী এ টি এম আমিনুল ইসলাম। যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান টিপু সুলতান, স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী এম আউয়াল আর স্বতন্ত্র প্রার্থী সফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩২, জাতীয় পার্টি ৩৩, ওর্য়াকার্স পার্টি ৬ এবং জাসদ ৫টি আসন পায়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি), তরিকত ফেডারেশন, বিএনএফ পায় একটি করে আসন। আর সতন্ত্র প্রর্থীরা পায় ১৩টি আসন।

দিনাজপুর-৪ আসনে ব্যাপক প্রস্তুতি:

দিনাজপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান—দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের স্থগিত ৫৭টি কেন্দ্রের নির্বাচন উপলক্ষে জেলা নির্বাচন অফিস ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা নির্বাচন অফিসের মো. নুরুজ্জামান জানান—খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-৪ আসনের স্থগিত ৫৭টি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনী সহিংসতার কারণে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের দুটি উপজেলায় ১২০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ৬৮,০৮৮টি ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী এনামুল সরকার হাতুড়ি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১,৩৮০টি।

যশোরে ৬০ কেন্দ্রে ভোট

যশোর অফিস জানিয়েছে—যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে স্থগিত হওয়া ৬০ কেন্দ্রের সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রশাসন। ভোটের গতকাল থেকেই সেখানে যৌথবাহিনীর একাধিক টহলদল টহল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের আগের রাত থেকেই যশোর-৫ আসনের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা হয়। ফলে এ আসনের ১২২ কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টিতেই ভোটগ্রহণ স্থগিতে বাধ্য হন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইটিং অফিসাররা। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান জানান—ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে ৬০টি কেন্দ্রকে ২৩টি ছোট ছোট ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি ক্লাস্টারে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। প্রতি কেন্দ্রে ১৫ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। একই সাথে বিজিবির ১৬টি পেট্রোল দল থাকবে। আর র্যাবের ১০টি ইউনিট নিরাপত্তা দিতে কাজ করবে।

যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) রেশমা শারমিন জানান—মনিরামপুরের নির্বাচনী এলাকায় ১৪০০ পুলিশ এবং ৬০০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া, মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যবহারে দুটি এপিসি গাড়ি মনিরামপুরে রাখা হয়েছে। এককথায়—নিরপাত্তা-বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে ভোট কেন্দ্র এলাকায়।

বগুড়ার-৭ আসনে হরতাল:

আমাদের বগুড়া প্রতিনিধি জানান—বগুড়ার গাবতলীতে দশমম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্থগিত কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দিনে আগামীকাল সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে ১৮ দল। উপজেলা ১৮ দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম পিন্টু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হরতালের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সহিংসতার কারণে ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের স্থগিত হয়ে যাওয়া বগুড়া-৭ আসনের ৪৬টি কেন্দ্রের নির্বাচন নিয়ে উত্কণ্ঠিত সাধারণ মানুষ। নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি আগের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও সংশয় কাটছে না।

গাইবান্ধায় ৩টি আসনের ২০৬ কেন্দ্রে ভোট:

আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান—গাইবান্ধায় ৩টি আসনের ২০৬টি স্থগিত ভোট কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ জন্য ওইসব ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কেন্দ্র এবং ব্যালট ও ভোট বাক্সে অগ্নিসংযোগ, সহিংসতাসহ নানা কারণে গাইবান্ধা জেলার ৪টি আসনের ৪৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ৩টি আসনের ২০৬টি স্থগিত ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১০৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত হয়। যে ৫৫টি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন (নৌকা) ৪৫ হাজার ৩৮৩ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খান (জাপা) ৫ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ এই আসনের স্থগিত ভোট কেন্দ্রগুলোর মোট ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে ১৩০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত হয়। ৫০টি কেন্দ্রে ডা. ইউনুস আলী সরকার (নৌকা) ৭০ হাজার ৬৬৪ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি (স্বতন্ত্র) ১২ হাজার ৭৮১ ভোট পান। এই আসনের স্থগিত ভোট কেন্দ্রগুলোর মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ৩০২।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়। এ সব কেন্দ্রে মোট ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ৭৭ জন। ৫৮টি ভোট কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৮৬২ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী (নৌকা) ১৮ হাজার ৮০৬ ভোট পান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here