স্ত্রীকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে সিএমপি সদরঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মুছা মিয়াকে সাসপেন্ড।

24

জনতার নিউজ প্রতিবেদনঃ

handcaf

স্ত্রীকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে সিএমপি সদরঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুছা মিয়াকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার পূর্বক পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, সদরঘাট থানায় কর্মরত (এএসআই) মো. মুছা মিয়া মীরসরাইয়ের বাড়িয়াখালী এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের পুত্র। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার সাথে একই উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লার মেয়ে ইসরাত সুলতানা প্রমির বিয়ে হয়। প্রমির বাবা মো. আব্দুল্লাহ’র অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে প্রমিকে নির্যাতন করে আসছিল মুছা মিয়া।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সব সহ্য করেছি। সর্বশেষ গত ৪ জুন বুধবার, নগরীর পূর্বমাদারবাড়ির একটি ভাড়া বাসায় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দু’হাত বেঁধে আমার মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় সে। মেয়েকে আটক রেখেই সন্ধ্যার দিকে বাইরে চলে যায় মুছা। পরে রাত তিনটার দিকে আমার মেয়ে কোনমতে মোবাইল নিয়ে আমাদের খবর দেয়। এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে আমার মেয়েকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করি। পরদিন বৃহস্পতিবার (৫জুন) সকালে সদরঘাট থানায় বিষয়টি অবহিত করে চিকিৎসার জন্য মেয়েকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। মেয়েকে নির্যাতনের দায়ে মুছার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলার প্রস্তুুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। মুছার স্ত্রী ইসরাত সুলতানা প্রমি বলেন, ওই দিন (গত বুধবার) আমাকে মেরে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে সে বাইরে চলে যায়। আমার মাবাবা এসে উদ্ধার না করলে আমি মরে যেতাম।

এ প্রসঙ্গে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিন আগে সকালের দিকে মুছার স্ত্রী ও শ্বশুর থানায় এসে ডিউটি অফিসারকে মৌখিক ভাবে নির্যাতনের বিষয়টি জানান। বিষয়টি আমি ডিসি (দক্ষিণ) স্যারের নিকট রিপোর্ট করি। এর ভিত্তিতে মুছাকে সাসপেন্ড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

এসি (কোতোয়ালী) শাহ্‌ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ঘটনাটি কয়েকদিন আগের। যতদূর শুনেছি উভয়পক্ষ পারিবারিকভাবে বিষয়টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here