সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ড. মাহবুবউল্লাহ’র উপর হামলা

9

mahbubulla

news

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ’র ওপর সুপ্রীম কোর্ট চত্বরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা তাকে কিল-ঘুষি মারে এবং পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। গতকাল শনিবার দুপুরে সেখানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বেরিয়ে আসার পথে এ হামলার শিকার হন ড. মাহবুব উল্লাহ।

প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ জানান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য শেষ করে আসার সময় ৫-৬ জন সন্ত্রাসী তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা কিল-ঘুষি-চড় ও লাথি দিয়ে মাহবুব উল্লাহকে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত পান এবং তার জামাকাপড় ছিঁড়ে যায়। হামলার  বিষয়টি বুঝতে পেরে অনুষ্ঠানের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। পরে তিনি সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-অ্যাব এর মহাসমাবেশে চলে আসেন।

মাহবুব উল্লাহ যখন মিলনায়তনে আসেন তখন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বক্তব্য যখন শেষ করে এনেছিলেন তখন বিধ্বস্ত মাহবুব উল্লাহ মঞ্চে ওঠেন। মাহবুব উল্লাহকে দেখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আবার বলা শুরু করেন। তিনি জানান, এ ঘটনা তিনি আগেই শুনেছেন।

খালেদা জিয়া বলেন, সুপ্রিমকোর্টের ভিতরে মাহবুব উল্লাহ’র ওপর যে হামলা হয়েছে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। ‘আমরা মনে করি, সরকারের সন্ত্রাসীরাই মাহবুব উল্লাহ’র উপর হামলা করেছে। খালেদা বলেন, এভাবে দেশ চলতে পারে না। এভাবে দেশ চলতে দেয়া যায় না ।

পরে ড. মাহবুব উল্লাহ মহাসমাবেশে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমি সাধারণত সভা-সেমিনারে কাউকে আক্রমণ করে কোনো বক্তব্য দেই না। সত্য ও তথ্যনির্ভর কথাগুলোই বলার চেষ্টা করি। ‘আমি একজন শিক্ষক। তারপরও আমার উপরে এই বর্বরোচিত হামলা হলো, আমি এর বিচার চাই।

ড. মাহবুব উল্লাহ বর্তমানে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহের উপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুবউদ্দিন খোকন এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

বি চৌধুরীর নিন্দা

অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, মাহবুবউল্লাহর ওপর হামলা গণতন্ত্রের ওপর জঘন্য আক্রমণ। মানুষ যেন কথা বলতে না পারে, এ ঘটনা সেটিরই প্রমাণ। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, সরকার বাকশাল কায়েম থেকে কত দূরে? ভিন্নমতের প্রতি এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অপরাধী যে বা যারাই হোক, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, আর এটিই হবে সরকারের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here