সিলেটবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

11

pm1

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে তিনি সবার প্রতি এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব যেমন বিসিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের, তেমনি স্থানীয় জনগণেরও। সবার সহযোগিতায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। খেলা চলাকালে যাতে কোনো অঘটন না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

সিলেটবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, আগামী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সকল খেলার ক্ষেত্রে আপনারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। বিশ্বকাপ চলাকালে যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুতে রূপান্তর করতে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়নকাজসহ কিছু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় বলে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা জানায়। সবুজ পাহাড়-টিলাবেষ্টিত এ স্টেডিয়ামটি দেশের প্রথম গ্রিন গ্যালারির স্টেডিয়াম হিসেবে সমাদৃত। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের ছয়টি ম্যাচ হবে সিলেটে। ২৩ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২৪টি ম্যাচই হবে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে।

সিলেট নগরের উপকণ্ঠে লাক্কাতুরা চা-বাগান ঘেরা সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম দেশের প্রথম গ্রিন গ্যালারিসমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু। এ স্টেডিয়ামের উন্নয়নসহ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত করায় বিএনপি জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নকাজে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। হরতাল-অবরোধ-সহিংসতা চালিয়ে উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সিলেটবাসীসহ দেশবাসী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সর্বোচ্চ সহযোগিতায় আমরা এসব কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করতে পেরেছি। এজন্য দেশবাসীসহ সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’

সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি এ এন এম জিয়াউল আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে স্মারক উপহার তুলে দেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী।

sylhet
সিলেট আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন
বিশ্বকাপ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে সকলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

 

 

 

 

দেশের মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে সব মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোন অবস্থা সৃষ্টি না করার জন্যও তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। কেউ বাংলাদেশের অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা। কারণ এদেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেণ, আমরা তিনহাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত থেকে এখন ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা।

সকাল সোয়া ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে যান এবং নামাজ এবং মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার এবং পরে হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার জেয়ারত করেন। বিকেল সাড়ে চারটায় প্রধানমন্ত্রী সিলেট আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যান এবং সেটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এন.এম. জিয়াউল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যাণ্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি।

সুধী সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ আর হানাহানি চায়না। তারা এখন শান্তি চায়। তিনি বলেন, জাতির জনকের নেতৃত্বে আমরা এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। আমাদের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম করেছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধে বিজয় এনে দিয়েছে। যেহেতু আমরা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি তাই আমরা ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত। তাই আমরা জানি দেশটাকে কিভাবে উন্নত করতে হবে। যারা মুফতে ক্ষমতা দখল করে বা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তাদের দেশের প্রতি কোন মায়া মমতা থাকেনা। তারা দেশের উন্নতি চায়না। পচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা দেশের উন্নতির চেয়ে নিজেদের আর্থিক উন্নতির দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ একটি জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে সে অপবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

সিলেটের পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে একটি পাঁচতারকা হোটেল এবং ছাত্র-পর্যটকদের জন্য কমমূল্যে থাকার আরও একটি হোটেল নির্মাণ করা হবে। সিলেটকে অপূর্ব সুন্দর ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামীলীগ যখনই ক্ষনতায় আসে তখন সিলেটবাসী কিছু পায়। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে সিলেটে এসে খেলা দেখার ইচ্ছের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখি সময় পেলে হুট করে এসে এখানে খেলা দেখব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম.এ. মান্নান, ক্রীড়া উপ মন্ত্রী আরিফ খান জয় প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here