সামি জঙ্গি, ও আমার ছেলে হতে পারে না। সামির বাবা,

27

জনতার নিউজ

‘জানলে নিজের জান দিয়ে ছেলেকে থামাতাম’

গুলশানে হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে সনাক্ত করেছেন তার পরিবার। ছেলে সামি জঙ্গি, বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা মীর হায়াত কবীর।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার বার তিনি বলছিলেন- ‘ও আমার ছেলে হতে পারে না। আমি যদি জানতাম ও সেখানে যাচ্ছে তবে জীবন দিয়ে হলেও তাকে থামাতাম।’

গত ২৯ ফেব্রুয়ারির নিখোঁজ হয়ে যায় সামিহ মোবাশ্বির। পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক ক্লাসে অংশ নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর কেটে যায় চার মাস। সামির কোনও হদিস পায়নি পরিবার।

পরিবার ভাবতে থাকে হয়তো সামি কারও প্রেমে পড়েছে আর তাকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। আবার কখনও তাদের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়, সামিহকে হয়তো অপহরণ করা হয়েছে। তবে এসব আশঙ্কার পাশাপাশি আরও একটি আশঙ্কাও উঁকি দিয়েছিল স্বজনদের মনে। তারা ভাবছিলেন সামিহ ইসলামি চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগ দেয়নি তো!

শেষ পর্যন্ত সামিহকে নিয়ে তাদের সবচেয়ে বাজে আশঙ্কাটিই সত্যি হয়েছে। শুক্রবার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার পর শনিবার প্রকাশিত ‘হামলাকারী’দের ছবির মধ্য থেকে সামিকে শনাক্ত করেন স্বজনরা।

সামিহ মোবাশ্বিরের বাবা হায়াত কবীর একটি টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানির এক্সিকিউটিভ।

তিনি জানান, মুসলিম পরিবারের সন্তান সামিহ সবসময় ধর্মের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। পরিবার কখনও তার ধর্মবিশ্বাসকে নিরুৎসাহিত করতো না। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা ছেলে যেন ইসলামের ব্যাপারে বিকৃত ধারণা না পায় সে ব্যাপারে তার বাবার সচেতনতাও ছিল। তিনি সামিহকে পবিত্র কোরআনের ইংরেজী সংস্করণ দিয়েছিলেন এই বিবেচনায় যে সেখানে বিকৃত ব্যাখ্যা থাকবে না ইসলামের।

বাবা হায়াত কবীর চাইতেন, ছেলে অন্য কোনও জায়গার বিকৃত ব্যাখ্যা থেকে প্রভাবিত না হয়ে যেন সরাসরি ইসলামের মতবাদ নিজেই অনুসন্ধান করে নিতে পারে। নিজের বিশ্বাস নিজেই গড়ে তুলতে পারে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সামিহ। তার বাবা বলেন, তার বয়স মাত্র ১৮। সে এই সিদ্ধান্ত নিজে নেয়নি। নিশ্চয়ই তাকে কেউ প্রভাবিত করেছে।

শেষে ছেলের হয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান হায়াত কবীর। সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here