সাত খুনের প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

27

 জ়নতার নিউজ ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছে, পত্রিকায় এসেছে এই অপহরণ ও খুনের ঘটনার ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন; কিন্তু পুলিশের আইজির পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিবেদনে সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। আমরা সব সাক্ষীকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলছি না, তবে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ডিবির পাশাপাশি সিআইডিকে দিয়ে খুনের মামলার তদন্তের আদেশের বিষয়ে আদালত বলেন, তদন্তের অধিকতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ‘পাবলিক পারসেপশন’ (জনগণের ধারণা) ভালো রাখার স্বার্থেই এই আদেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে উনিশ-বিশ হতে পারে; কিন্তু বড় ধরনের গড়মিল যেন না থাকে সেটা নিশ্চিত করাই আদালতের উদ্দেশ্য। এখানে দুইটি সংস্থার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের ডিভিশন বেঞ্চে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি, পুলিশের আইজি, র্যাব ও সিআইডির পাঠানো অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করে এটর্নি জেনারেল পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরো চার সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। সময় মঞ্জুর করে আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেন, এ সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হলে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে।

আইজিপির পাঠানো প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে এটর্নি জেনারেল বলেন, অনেক সাক্ষী গণমাধ্যমের সামনে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ ঘটনার সাক্ষাত্কার দিচ্ছেন; কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি তারা ভাবছেন না। তখন আদালত বলেন, এসব বিষয়ে মিডিয়ার সচেতন থাকা উচিত। কারণ গণমাধ্যমের সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। এসময় এফিডেভিট আকারে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না করায় এবং নিজে হাজির না হয়ে পুলিশ সুপারের মাধ্যমে প্রতিবেদন দেয়ায় আদালত আইজিপির উপর বিরক্ত প্রকাশ করেন।

র্যাবের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

র্যাব মহাপরিচালকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র্যাব-১১তে কর্মরত ৫৬ জন সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই ঘটনায় র্যাব সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কিনা তার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কোন সদস্য অপহরণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত কিনা বিভাগীয় কমিটি তার তদন্ত শুরু করেছে। তখন এটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আদালত বলেন, আমরা র্যাবকে বিভাগীয় তদন্ত করতে বলেছি। খুনের মামলার তদন্ত করতে বলিনি। তাহলে কেন তারা ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৬১ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করছেন? তখন এটর্নি জেনারেল বলেন, ১৬১ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ না করার ব্যাপারে আদালতের মনোভাব তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে।

সিআইডি প্রধানের পাঠানো প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আদালতের উদ্দেশে এটর্নি জেনারেল বলেন, এই সাত খুনের ঘটনায় করা হত্যা মামলাটি শুরু থেকেই তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা তদন্তে অনেকদূর এগিয়েও গেছে; কিন্তু হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে- ডিবির পাশাপাশি সিআইডিও তদন্ত করবে। এতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এ পর্যায়ে সিআইডিকে তদন্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া যায় কি? তখন আদালত বলেন, তদন্তে উনিশ-বিশ হতে পারে; কিন্তু বড় ধরনের গড়মিল যেন না থাকে সেই জন্যই একাধিক সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। আদালত বলেন, মামলার সকল আলামত ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে থাকবে। সিআইডি সমন্বয় করবে।

আদালতে উপস্থাপিত সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণ শুনানিতে ১৫২ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার আরো ৬৪ ব্যক্তির পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য র্যাব-১১-এর সদস্যদের সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া এ পর্যন্ত সংগৃহীত সাক্ষ্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আরো চার সপ্তাহ সময় প্রয়োজন।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এই মামলার অন্যতম আসামি নূর হোসেনের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন কোন সদস্যের সখ্য রয়েছে বলে পত্রিকায় প্রতিবেদন বেরিয়েছে। এটাও তো পেশাগত অসদাচরণ। এরপর আদালত ৯ জুলাই পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এসময় ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এসএম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here