সাতক্ষীরাবাসীর আতংক কাটেনি

23

new

কিছু হিন্দু ভারতে চলে গেছেন, কিছু দোদুল্যমান

বিরোধী দলের হরতাল অবরোধ শেষ হয়ে গেছে। যৌথ বাহিনীও মাঠে রয়েছে। তবুও অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে সাতক্ষীরাবাসীর। ঘর থাকতেও ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না হিন্দু সমপ্রদায়ের অনেক লোক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কি জানি কি হয়।

দীর্ঘদিন জেলায় জামায়াত-শিবির একটি মূর্তিমান আতংক হিসাবে পরিচিত থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাতক্ষীরার প্রতিটি গ্রামের প্রত্যেক ঘরে আতংক ঢুকিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। যৌথ বাহিনীর অভিযান শেষ হলে ভবিষ্যতে তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এমন আতংকে দিন কাটছে এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের।

সম্প্রতি সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে ১৮ দল তথা জামায়াত শিবির সহিংস ঘটনার মাধ্যমে যে আতংক সৃষ্টি করেছিল তা বন্ধ হলেও রেশ এখনো কাটেনি। গাছ কাটা, রাস্তা কাটা, রাস্তায় পেরেক পোতা, সড়কে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া, ভাংচুর করা, ককটেল ও বোমা ফাটানো, পিটিয়ে, জবাই করে, গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে তারা। এসব বীভত্স অতীতের কথা মনে উঠার ফলে আতংক কাটছে না।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার জামায়াতের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত আগরদাড়ি ইউনিয়নের আবাদের হাট এলাকার শ্যামল ঘোষাল জানান, জামায়াত-শিবিরের ভয়ে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের অনেক মানুষ ইতিমধ্যে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশের অবস্থা স্বাভাবিক না হাওয়া পর্যন্ত তারা হয়তো দেশে ফিরবেন না। এছাড়া অনেক সংখ্যালঘু পরিবার জামায়াত-শিবিরের ভয়ে জমিজমা বিক্রি করে ভারতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যারা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে গেছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হলে তারা ফিরবেন না।

একই গ্রামের গোপাল ঘোষাল জানান, জামায়াত-শিবির যখন গ্রামে গ্রামে তাণ্ডব চালাচ্ছে তখন তাদের রুখতে নেতৃত্ব দিয়ে গ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার মতো কোনো নেতাকে মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি জামায়াত-শিবিরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের অনেকে রক্ষা পেয়েছেন। এখন তাদের মধ্যে অনেকেই দেশ ত্যাগ করেছেন আবার অনেকে দেশ ত্যাগ করার চিন্তা-ভাবনা করছেন।

কিন্তু ভারতে বসবাস করার মত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে অনেকে যেতে চাইলেও যেতে পারছেন না। এদেশে দীর্ঘদিন বসবাস করায় অনেকে অনেক সম্পদের মালিক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েছেন। তারা এসব ফেলে যেতে চান না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত মাল্টিপল ভিসা চালু করায় অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এ সুযোগ নিয়ে সেদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন।

পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। হত্যাসহ জেলায় সাম্প্রতিক সহিংসতার সাথে জড়িতরা ছাড় পাবে না। তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। সাতক্ষীরায় সাম্প্রতিককালের সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৭টি। এরমধ্যে সদর থানায় ২টি, আশাশুনিতে ২টি, দেবহাটায় ২টি ও শ্যামনগরে ১টি। মামলাগুলো তদন্তাধীন আছে। তিনি জানান, এসব মামলা ২৮ ফেব্রুয়ারির পরে হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা পরে সংখ্যালঘুদের ওপর কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সফরে এসে সহিংস ঘটনায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিভেদে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ১৬ জন নিহত, ৫৫ জন আহত ও ৮৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব পরিবারের ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সুত্রঃ ইত্তেফাক।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here