সহিংসতা প্রতিরোধের প্রত্যয়

28

image_93955

স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল  *  মানব পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বিশ্বরেকর্ড

 

 

 

 

বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ, সব যুুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করা, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা, স্বাধীনতাবিরোধীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও স্বনির্ভর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি গতকাল সোমবার পালন করল মহান বিজয় দিবস। শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধানবত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দেয় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। সেখানে সর্বস্তরের লাখো মানুষের ঢল নামে। দেশের সব বিভাগ ও জেলা শহরের চিত্রও ছিল প্রায় অভিন্ন। ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়’ শিরোনামে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এবার সবচেয়ে বড় ‘মানবপতাকার’ বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এতে অংশ নেয় ২৭ হাজার ১১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪টা ৩১ মিনিটে তিন লাখেরও বেশি বাঙালি এক সময়ে একসঙ্গে গাইলেন জাতীয় সঙ্গীত। এক্ষেত্রেও বিশ্বরেকর্ড গড়লো বালাদেশ।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয় বিজয় দিবসের কর্মসূচির। সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিন বাহিনীর একটি দল শহীদদের প্রতি জানায় সশস্ত্র সালাম। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী ৪৩তম বিজয় দিবস উপলক্ষে তাঁর সরকারি বাসভবনে একটি স্মারক ডাক টিকেট ও একটি উদ্বোধনী খাম উন্মোচন করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী নিয়োজিত থাকায় এ বছর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করার দাবিতে এবার একাত্তরের মতোই জেগে উঠেছিল গোটা জাতি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের পাশাপাশি সারাদেশে বিভিন্ন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া কোটি আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার চোখে-মুখে গতকাল যেমন ছিল বিজয়ের আনন্দ, ঠিক তেমনি ছিল একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণা, ধিক্কারের বহিঃপ্রকাশ। তবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এবার বিজয় উল্লাসে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। সবার চোখে-মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ, রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব, নিষ্ঠুরতার বিচার করতে পারার তৃপ্তি। ‘রুখে দাঁড়াও পরাজিত শক্তির হুংকার, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবার’ এমন স্লোগান নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নতুন প্রজন্মের ছিল বাঁধভাঙ্গা স্রোত।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা হুইল চেয়ারে বসে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ওবায়দুল কাদের, শাহজাহান খান, ড. হাসান মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আতিউর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক পৃথকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কূটনীতিকরা চলে যাওয়ার পর সকাল ৮টা থেকে স্মৃতিসৌধ সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলে স্মৃতিসৌধের পাদদেশে লাখো মানুষের ঢল নামে। সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি স্মৃতিসৌধের বেদীমূলে পুষ্পস্তপক অর্পণ করেন। এ সময় বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ড. মঈন খান, ড. ওসমান ফারুক, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তার নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকি আবু, দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, সহ-দপ্তর সম্পাদক জীবন কষ্ণ বৈরাগী, ক্রীড়া সম্পাদক আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর জাতীয় পাটির (এ) মহাসচিব রুহুলআমিন হাওলাদার ও জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি, জাসদ (রব), আ স ম রবের নেতৃত্বে জেএসডি, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে এলডিপি পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল ইনস্টিটিউট, জনতা ব্যাংক লিঃ, কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, সাব-এটিটরস কাউন্সিল, জাতীয় শ্রমিক লীগ. সিআরপি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আফিসার সমিতি, কর্মচারি সমিতি, নিট্রাড, বেগম খালেদা জিয়া হল জাঃবিঃ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, এসো পড়ি, কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুদ্ধ খামার, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, ঢাকা সিটি কলেজ, টিআইবি, সচেতন নাগরিক কমিটি (সাভার), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণস্বাস্থ্য এন্টিবায়টিক লিঃ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন বাংলাদেশ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্বঃ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাকের পাটি, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলদেশ স্যামবাদী দল, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্ট, জাতীয় পেশাজীবী পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্বঃ, বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, খেলাঘর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, একাত্তরের ঘাতক দালার নির্মূল কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, সাভার পৌরসভা, বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাভার উপজেলা কমান্ড, সজাগ, প্রজন্ম-৭১ সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের বেদীমূলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জনতার ঢল

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে গতকাল জনতার ঢল নামে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ বাঙালির শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যায় তার প্রতিকৃতি। কারও মাথায় জাতীয় পতাকা, কারও হাতে। কেউ কেউ বুকের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল লাল-সবুজ পতাকা। বড় বড় ব্যানার আর খণ্ড খণ্ড মিছিলে ঢাকঢোল বাজিয়ে কেউ আসছে, কেউ যাচ্ছে। সকাল থেকে ছুটে আসে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ। সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের ভিড়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের গোটা এলাকা কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তাদের সবার মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়। মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই। সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই।

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার এম শওকত আলী, মন্ত্রিবর্গ ও সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শাজাহান খান, ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানব পতাকার বিশ্বজয়

বিজয় দিবসের দুপুরে লাল আর সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরল বাংলাদেশের ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর-তরুণ। শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সূর্যের দিকে মুখ তুলে হাসল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। ৪২ বছর আগে যে দিনটিতে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় পেয়েছিল, সেই দিনটিতে আরো এক বিজয়ের জন্য এই আয়োজন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রের্কডসের অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ মানব পতাকা তৈরির এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিল মোবাইল ফোন অপারেটর রবি। আর ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়’ শিরোনামে এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন।

সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমাদের জাতীয় ঐক্য তুলে ধরতেই এই চেষ্টা। অনুষ্ঠানে রবির চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকা নিয়ে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছে রবি। ৪২ বছর আগে এই দিনটিতে আমরা বিজয় অর্জন করেছি… এরপর থেকে ঠিক এমনি করে বিশ্বের সামনে আমরা আমাদের ঐক্য ও শক্তি তুলে ধরছি।’ রবির কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান তালাত কামাল জানান, ‘গিনেসের সব নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে মানব পতাকা তৈরি হলো কি না, তার প্রমাণ হিসাবে তথ্য ও ছবি পাঠাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট প্রতিষ্ঠান। নতুন রেকর্ড হলে গিনেস কর্তৃপক্ষই সে ঘোষণা দেবে।

সশস্ত্র বাহিনীর আট হাজার সদস্যের সহযোগিতায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এই মানব পতাকা তৈরি শুরু হয় গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। কয়েক দফা মহড়ার পর বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে শুরু হয় চূড়ান্ত চেষ্টা। লাল-সবুজের টুকরোগুলো ছয় মিনিট ১৬ সেকেন্ড মাথার ওপর তুলে রাখে স্বেচ্ছাসেবীরা। এ সময় মঞ্চ থেকে বেজে ওঠে গান- ‘বিজয়-নিশান উড়ছে ওই’। আর এর মধ্যে দিয়েই তৈরি হয় ‘লাল সবুজের বিশ্বজয়ের’ মঞ্চ।

গিনেস বুকে এর আগের রেকর্ডটি পাকিস্তানের। ২০১২ সালে লাহোরে জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব ইয়ুথ ফেস্টিভাল উপলক্ষে ২৪ হাজার ২০০ লোকের অংশগ্রহণে সবচেয়ে বড় জাতীয় পতাকা তৈরি করা হয়েছিল। তারা তাদের হাতে থাকা প্লাকার্ডটি একত্রে উপরে তুলে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার রূপ দিয়েছিলেন।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, ঢাকার মানব পতাকা লাহোরের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের পদক্ষেপটি দেখার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রের্কডস কমিটির একজন অনুমোদিত পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তিনি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য প্রমাণ হিসাবে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও ছবি গিনেস ওয়ার্ল্ড রের্কড কমিটির কাছে তুলে ধরবেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির দাবিদার হিসাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রের্কডসে লেখা থাকবে বাংলাদেশের নাম।

বঙ্গভবনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তাঁর পত্নী রাশেদা খানম মহান বিজয় দিবসের ৪২তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও ছোট বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার পরিবারের সদস্যরা বঙ্গভবনের সংবর্ধনায় যোগ দেন। মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের সদস্যরাও বিজয় দিবসের এ সংবর্ধনায় যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সঙ্গে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্য অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তারা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের কল্যাণে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কেক কাটেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যগণ, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সিনিয়র আইনজীবী, নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, জাতীয় অধ্যাপক, সম্পাদক, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট নাগরিকগণ এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী রওশন এরশাদ, ভারতের অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও শ্রীলংকার ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সুবির নন্দী, ফকির আলমগীর, সামিনা চৌধুরী, আবদুল জব্বার ও শাকিলা জাফর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী, আনসার ও বিজিবি’র সদস্যরা ব্যান্ডসঙ্গীত পরিবেশন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here