সহিংসতা দমনে যৌথবাহিনীর কঠোর অভিযানের পরিধি বাড়ছে

7

new
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর অভিযানের পরিধি বাড়ছে। সন্ত্রাস বা অপরাধ দমনে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত এ বাহিনী ইতিমধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ একটি জেলায় অভিযান শুরু করেছে। দুই-একদিনের মধ্যে রাজধানীতেও শুরু হচ্ছে যৌথ অভিযান। বিরোধী দলের চলমান অবরোধের মধ্যেই আরো কয়েকটি জেলায় অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে এ বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে যৌথবাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথমে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ জেলা এবং পর্যায়ক্রমে অন্য জেলায় অভিযান পরিচালনার পদক্ষেপ নেয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতি বুঝে যৌথবাহিনী নামানোর নির্দেশনা দেয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনী কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করা না হলেও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন তদারকি করছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু  বলেন, জামায়াত-শিবিরসহ যারা যেখানে নাশকতা, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, পুলিশ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়, আগুন দেয়, সংখ্যালঘুদের বাড়ি ও মন্দিরে আগুন, লুটপাট করে সেই সহিংস প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যৌথ পরিকল্পনায় যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, আমি গত তিন মাস ধরে বারবার সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে যে কোনো ধরনের নাশকতা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছি। যদি তারা কথা না শোনে তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কোনো উপায় থাকবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রয়োজনে ঢাকায়ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী নামানো হবে। দুই-একদিনের মধ্যেই অভিযান পরিচালনা হতে পারে। আগামী ৫ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করে ঘোষিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় ঘোষণার প্রতিবাদে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা সাম্প্রতিক টানা হরতাল ও অবরোধে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে। সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির, পুলিশ কার্যালয়, সরকারি দফতরে আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়। চলে সংঘর্ষ। এই সহিংসতায় গত দুই মাসে অন্তত দুই ব্যক্তি শতাধিক নিহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এসব জেলাকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা হরতাল-অবরোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ১৭ জেলায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পেশ করে। গোয়েন্দাদের পরামর্শ অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী, যশোর, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার, গাজীপুর, পটুয়াখালী, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, খাগড়াছড়ি, ফরিদপুর ও পাবনার জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সমন্বয়ে যৌথবাহিনী অভিযানে নামে। গত সোমবার সাতক্ষীরা জেলায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এতে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতের ৫ জন নিহত হয়।
উল্লেখ্য, সহিংসতা দমনে ব্যর্থ হওয়ায় সাতক্ষীরা ও দিনাজপুরের পুলিশ সুপার এবং রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজিকে ১৫ ডিসেম্বর প্রত্যাহার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here