সহিংসতা ও জামায়াতের সঙ্গ ছেড়ে আলোচনায় আসুন নির্বাচনোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

8

pmপ্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও সহিংসতা পরিহার এবং যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদী জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় আসার জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ সকলের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করেই সমাধানে পৌঁছানো যাবে। সেজন্য সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে, সহনশীল হতে হবে এবং সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথ পরিহার করতে হবে। আর আলোচনা চাইলে প্রধান বিরোধী দলকে অবশ্যই ধ্বংসাত্মক কাজ, সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্র, শান্তি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সন্ত্রাস, সহিংসতা পরিহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতায় উপনীত হওয়ার বিষয়ে নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী দলের প্রতি তার আহ্বানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানিয়েছি। নির্বাচনের পরও আমি চাই কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পরিবর্তে শান্তি, নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা, ধ্বংস ও নাশকতার পরিবর্তে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে চায়। নিরীহ মানুষের রক্তে আজ গণতন্ত্র রক্তাক্ত। বিরোধী দলের সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির শিকার বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ মানুষের আর্তনাদ জাতির বিবেককে আজ দংশন করছে। জাতি এর অবসান চায়।

গতকাল সোমবার বিকালে গণভবনের সবুজ চত্বরে আয়োজিত নির্বাচনোত্তর এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের বিপুল সংখ্যক সিনিয়র সাংবাদিক ছাড়াও বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যের পর হাসি মুখে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে তৃতীয় দফায় নির্বাচিত তার সরকারের প্রথম কাজ হবে যে কোন মূল্যে দেশের জনগণের যানমাল এবং রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানার উত্পাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যকে সকল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাগরিকদের স্বাভাবিক জনজীবন সুনিশ্চিত করার জন্যও নেয়া হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। জনগণের যানমাল নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে চাইলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। নির্বাচনোত্তর যে কোন সন্ত্রাস ও সহিংসতা কঠোর হাতে দমনের জন্য প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ হাজারেরও বেশি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। বিরোধী দলের ব্যাপক সহিংসতা, হুমকি-ধামকি এবং লাদেন স্টাইলে ভিডিও টেপ পাঠিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমিক সত্ত্বেও দেশের জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। তাহলে কেন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না? বহু দেশে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হলে আমাদের এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না কেন? তবে নির্বাচনে না এসে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া একুল, ওকুল দুই কুলই হারিয়ে বসে আসেন।

একাদশ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে কিনা একজন সাংবাদিকের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনা সবকিছু নিয়েই হতে পারে। সমঝোতা চাইলে জঙ্গিবাদী সংগঠন জামায়াতের সঙ্গ বিরোধী দলকে ত্যাগ করতে হবে। কারণ উচ্চ আদালতই জামায়াতকে জঙ্গিবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। যখনই এসব বিষয়ে সুরাহা হবে, তখনই আলোচনা বা সমঝোতা হতে পারে। তিনি বলেন, বিরোধী দল হরতাল-অবরোধ দিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তা মানছে না। তারা (বিরোধী দল) সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি নির্বিচারে বৃক্ষনিধন করছে, নিরীহ গরুও তাদের নির্মম সহিংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দশম জাতীয় নির্বাচনকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে অনেকে বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ দেয়ার কথা বলছেন। সাংবাদিকরা এ প্রসঙ্গটি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কী এমন অপরাধ করেছে যার জন্য অর্থনৈতিক অবরোধ দেবে? দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতায় যারা বিশ্বাস করেন তারা এসব কথা বলছেন। অবশ্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে তাদের মূল্য থাকে। এরা দেশকে শেষ করে দিতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী সকল ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে সাহসের সঙ্গে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সরকার, দল ও জনগণের পক্ষ থেকে ভোটারদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত দশম জাতীয় নির্বাচন ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দলের অনাকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য সন্ত্রাস, সহিংসতা, হত্যা, জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ, উস্কানি, ত্রাসসৃষ্টি ও বোমাবাজির মধ্যদিয়ে সকল অপপ্রয়াসকে প্রত্যাখ্যান করে জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে। এ নির্বাচনে বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের এবং পরাজয় হয়েছে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির। দেশকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করায় প্রধানমন্ত্রী সর্বশক্তিমান আল্লাহ তালার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শত হুমকি ও সন্ত্রাসী-কর্মকাণ্ড উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা এ নির্বাচনকে সফল করার জন্য কাজ করেছেন তাদের সকলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসার, কোষ্টালগার্ডসহ সকল আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল সদস্যকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তারা সাহসিকতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, বিএনএফ, ১৪-দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবিলা করে নির্বাচন বানচালের সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশপ্রেমিক হিসাবে যে ভূমিকা রেখেছেন সে জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। দেশের মিডিয়া ও সংবাদ কর্মীরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সে জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলুন আপনারা কী চান? দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থাকুক, নাকি গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকুক? এ সিদ্ধান্ত আপনাদেরও নিতে হবে।

নির্বাচনের হলফনামায় অনেক মন্ত্রী-এমপির সম্পদ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রয়েছে, আগামী মন্ত্রিসভায় দুর্নীতিবাজরা ঠাঁই পাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। কারোর (মন্ত্রী-এমপি) সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে দুদক তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা কোনো দুর্নীতিবাজকে ‘প্রটেকশন’ (রক্ষা) দিতে যাব না। তবে এই পাঁচ বছরে সবার আয় কয়েকগুণ বেড়েছে এটি সবাইকে বুঝতে হবে।

যারা এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন সেসব নতুন প্রজন্মের প্রতি বিশেষ অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু গণতন্ত্রের জন্যই নয়, ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে একটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ও অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য এবারের নির্বাচন। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখা, বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিরোধী দলসহ সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন আরো প্রতিযোগিতামূলক ও ইতিবাচক হতে পারতো। আমাদের সকলের প্রত্যাশা ছিলো প্রধান বিরোধী দল গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে আমি বিরোধী দলের সম্মানিত নেত্রীসহ সকলকে বারবার সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আহ্বান জানাই। কিন্তু তাঁরা আমার উদ্যোগ ও অনুরোধে সাড়া না দিয়ে সন্ত্রাস, সহিংসতা, নৈরাজ্য, নাশকতা ও ধ্বংসের পথ বেছে নিয়ে দেশকে অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী জনগণের উপর চাপিয়ে দিলেন। তাদের সন্ত্রাস ও নাশকতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হলো দেশের নিরীহ নাগরিক, ধ্বংস হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি এবং ব্যাহত হচ্ছে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্।

দেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘসহ সকল বন্ধু রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ ও কূটনীতিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। আমাদের দেশে শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সকল আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে জনগণ যে ম্যান্ডেট আমাদের দিয়েছে সেজন্য আমি জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। আমি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আমাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, নির্বাচন বিরোধী দুষ্কৃতিকারীদের অগ্নি সংযোগে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা অতিসত্ত্বর মেরামত করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিএনপি ও জামাত-শিবিরের সন্ত্রাস ও নাশকতার শিকার আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার আহত ও নিহত সদস্যদের পরিবারকে সকল প্রকার আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। সাধারণ মানুষ যারা সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকেও সহায়তা করা হবে। যারা আহত তাদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করে যাচ্ছি এবং তা অব্যাহত থাকবে। ক্ষতিগ্রস্তদেরও সহায়তা দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে অর্জনকে দেশ ও জাতির কল্যাণে অব্যাহত রাখা হবে। এ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট কার্যকর করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করবো। জনগণ আমাদের পাশে থাকবে।

জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসী দল জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে কী না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতে একটি রীট মামলা চলছে। বিচারাধীন বিষয়ে কোনো কিছু করা যায় না। রীটটি নিষ্পত্তির পর দেখা যাবে। নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে কিছুটা ব্যর্থতা সম্পর্কে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার ভোটারদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। জামায়াত-শিবির ও বিএনপি পুরো নির্বাচনকেই বানচাল করতে চেয়েছিল। একটি ভোটারও যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায় সে নির্দেশও দিয়েছিলেন আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রী। কিন্তু জনগণ তাঁর ডাকে সাড়া দেননি।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলনে কোনো জনসম্পৃক্ততা নেই। তারা চোরাগোপ্তা হামলা করে সন্ত্রাস চালিয়েছে। কিন্তু এসব আর সহ্য করা হবে না। আন্দোলনের নামে যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে, আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে। জনগণের জানমাল নিয়ে খেলবে, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করবে, তাদের মোটেও ছাড়া হবে না। অবশ্যই এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এরশাদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (এরশাদ) তো ভালই আছেন। চিকিত্সা নিচ্ছেন, গলফ খেলছেন। দেশি ও আন্তর্জাতিক কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন কীনা, এমন প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, আমি কখনো কী কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছি? তিনি বলেন, কোনো চাপ আমার নীতি-নৈতিকতা থেকে সরাতে পারবে না। নীতি ও আদর্শের কাছে কখনো আপস করিনি, আগামীতেও করবো না। কমিউনিস্ট পার্টি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঘা বাঘা কমিউনিস্ট নেতারা তো আমাদের সঙ্গে রয়েছে। বাইরে কিছু কমিউনিস্ট পার্টি রয়েছে, যারা ক্রমেই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে তারা সবাই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আর যারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তারা নির্বাচনে না এসে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তাদের কারণে ধ্বংস হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, ধ্বংস হচ্ছে গণতন্ত্র। প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষের। আর স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিদের নিয়ে আমাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে, আগামীতেও অটুট থাকবে।

এবার কেমন ধরনের সরকার হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবাই যদি সরকারে আসতে চায় তবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সংসদে বিরোধী দল তো থাকতে হবে। সংবাদ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়িত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী, প্রবৃদ্ধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে, দেশকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি, সামাজিক নিরাপত্তা গড়ে তুলেছি, রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দেশ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে- এসব সফলতা কী তারা দেখছে না? দেশকে যারা শেষ করে দিতে চায়, তারা পারবে না। কারণ, দেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আবুল মাল আবদুল মুহিত, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, রহমত আলী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ওবায়দুল কাদের, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাহারা খাতুন, এইচ এন আশিকুর রহমান, হাসানুল হক ইনু, দিলীপ বড়ুয়া, এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, ড. গওহর রিজভী, আবদুস শহীদ, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সতিশ চন্দ্র রায়, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ড. আবদুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, ফারুক খান, নূরুল ইসলাম নাহিদ, ড. হাছান মাহমুদ, কামরুল ইসলাম, শিরিন আখতার, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ফজলে রাব্বি মিয়া, আবদুল মতিন খসরু, এনামুল হক শামিম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here