সমঝোতা না হলে রাস্তায় নামবে শ্রমিকরা :বিজিএমইএ

16

সংকট সমাধানের দাবিতে রাজপথে ব্যবসায়ী নেতারা

image_91627

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট দূর করে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকদের তিন সংগঠন। বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন না হলে শ্রমিকদের নিয়ে রাস্তায় নেমে দুই নেত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলেও হুমকি দেন সংগঠনগুলোর নেতারা। তারা বলেন, দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। তিন মাস ধরে কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাস্তায় বের হলেই ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের শিকার হতে হচ্ছে। পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, যানবাহনে অগ্নি সংযোগ ও ভাংচুর করা হচ্ছে। এ সব বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেবো।

গতকাল কারওয়ান বাজারে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ভবনের সামনে এক সমাবেশ ও মানববন্ধনে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। চলমান অস্থিতিশীলতার জন্য অর্থনীতিকে সচল রাখতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি একে আজাদ, বর্তমান সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, বিটিএমএ’র সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন, বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাতেম, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, আনিসুর হক, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আনিসুর রহমান সিনহা, গোলাম মোস্তফা কুুদ্দুসসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে বিজিএমইএ’র সভাপতি বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাত আবার সংকটে পড়েছে। তাজরীন, রানা প্লাজা ধসের কারণে সৃষ্ট ইমেজ সংকট থেকে পোশাক খাত যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময় রাজনৈতিক সংকটে এই খাত বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অস্থিরতার কারণে বছরজুড়ে আকাশ পথে পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। মাসব্যাপি হরতাল-অবরোধের কারণে এর পরিমাণ আরো বেড়েছে। চলতি বছরের ১১ মাসেই ১ লক্ষ ৩২ হাজার টন পণ্য এয়ারফ্রেইট (বিমানযোগে পাঠাতে) করতে বাধ্য হয়। এতে পোশাকখাতের লোকসান ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বিরাট সংখ্যক ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। গাড়ী বাস্তায় বের করা হলে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আপনারা অবরোধ-অগ্নি সংযোগ বন্ধ না করলে শ্রমিকদের মজুরি, বিদ্যুত্-গ্যাস বিল এবং ঋণের টাকা দিতে পারবো না। এ টাকা রাজনীতিকদের পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়-দায়িত্ব রাজনীতিকদেরই নিতে হবে।

আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, তিন-চার দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেবো। আমাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।

আনিসুল হক বলেন, স্ট্যান্ডার্ড কারখানা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার পর থেকে আমরা প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে আছি, কখন কোন কারখানা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই প্রধানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি আপনাদের সন্তান, আপনাদের বাড়ি পুড়তো বুঝতে পারতেন সহিংস রাজনীতি কি ক্ষতি করেছে। দেশকে আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। আপনারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করে এই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবেন না।

এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মানুষ মারার অসুস্থ রাজনীতি আমরা চাই না।

সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের টাকা দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা হয়। আমরা রাজস্বের ৭৪ শতাংশ জোগান দেই। আপনারা দেশের রাজনীতির নামে সহিংসতা বন্ধ করতে না পারলে অবসরে যান।

সকাল ১১ টায় ব্যবসায়ীদের একটি মিছিল বিজিএমইএ ভবনের সামনে থেকে হোটেল সোনারগাঁও পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে বিজিএমইএ ভবনের সামনে যেয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে যোগ দেয় এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, আইসিসি, বিএএফএফএ, বিজিসিসিআই, বিজিবিএ, ন্যাশনাল এক্সেসরিজ ও কলম্বিয়া মাল্টিটেক, বিজিইএ, ডিসিএএ, এজিএনআইএস, বারভিডা, বিটিটিএলএমইএ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এবং সব শ্রমিক সংগঠন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পোশাক খাত সংশ্লি¬ষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here