সবকিছু কঠোর হস্তে দমনের ফলে দেশে শান্তি ও স্থিতি ফিরে এসেছে্‌ সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।

20

pm1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাস চালিয়ে গত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার হরণে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তিনি বলেছেন, নতুন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রাপ্ত বার্তা ও বক্তব্যে এটাই সুস্পষ্ট যে, নির্বাচন ও নবনির্বাচিত সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে মহল বিশেষের অসত্ উদ্দেশ্য ও অপতত্পরতা সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

রাজশাহী-৪ আসনের এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীর সকল প্রকার সহিংস তত্পরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অপচেষ্টার বিপক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলকে ইতিবাচক অর্জন হিসেবেই গ্রহণ করেছে। ১২ জানুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত ৩৭টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়াও জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ ১১টি সংস্থার প্রধানরা নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের সরকার বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সাথে গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের ধারাকে সচল রাখতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

হাজী মো. সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর সবকিছু কঠোর হস্তে দমনের ফলে দেশে শান্তি ও স্থিতি ফিরে এসেছে। এর প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে পড়েছে। ফলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ছাড়িয়ে যাবে বলে সরকার আশা করছে।

হাজী সেলিমের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে মূলত দেশের সড়ক ও রেল পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি সাধনের ফলে গত তিন মাসে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাধাগ্রস্ত হয়। পণ্যের বিক্রি ও বাজারজাতকরণেও কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ে এবং বৈদেশিক সম্পদ ব্যবহারের গতিও শ্লথ হয়ে পড়ে। রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস পণ্যের উত্পাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয় চরমভাবে।

একই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের স্থূল জাতীয় উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ নেমে আসতে পারে মর্মে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। অবশ্য একই সময়ে উন্নত দেশসমূহের গড় প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে মর্মেও প্রতিবেদনে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কার মূল কারণ গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসে সংঘটিত সহিংস কর্মকাণ্ডের দ্বারা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন।

হাজী সেলিমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরো বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রতিটি জায়গা থেকেই বিনিয়োগ আসছে। নতুন নতুন বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারে সরকার অবশ্যই সফল হবে।

গোলাম দস্তগীর গাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস কার্যক্রমের কারণে যে যে খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো যেন সচল থাকে, সেজন্য সরকার ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। আরো পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিদ্যুতের মূল্য আবারও বৃদ্ধি করা হবে কিনা, স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর এমন এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্পাদন খরচ তো দিতেই হবে। বিল নিয়ে চিত্কার না করে বিদ্যুতের ব্যবহারে আমাদের আরো সাশ্রয়ী হতে হবে, যেন বিল কম আসে। তাছাড়া অন্যান্য দেশে বিদ্যুতের মূল্য কত সেটিও মাথায় রাখতে হবে। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বিগত পাঁচ বছরে দেশে ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। এখন টার্গেট ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের। ভারত থেকে ইতোমধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আনা হয়েছে। নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকেও আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা সংসদকে জানান, দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের আমদানি-রপ্তানির ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান দুইটি সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here