সপরিবারে আটক ইংলাক শতাধিক নেতাকে সমন, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

14

 

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা এবং তার পরিবারের সদস্যদের আটক করেছে সেনাবাহিনী। তাকে রাজধানী ব্যাংককের বাইরে একটি সেনা ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। এর আগে ক্ষমতা দখলকারী সেনা কর্মকর্তারা ইংলাকসহ শতাধিক রাজনৈতিক নেতাকে এক সামরিক স্থাপনায় ডেকে নিয়ে যান। খবর বিবিসির ও রয়টার্সের।

সূত্র জানায়, থাই সেনাবাহিনী দেশের ক্ষমতা দখল করার পরদিন এসব পদক্ষেপ নেয় তারা। গতকাল ব্যাংককের একটি সামরিক স্থাপনায় ইংলাককে কয়েক ঘন্টা রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে নেয়া হয়। এ ছাড়া থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীগুলোর কয়েকজন নেতাকে ‘নিরাপদ ভবনে’ আটক রাখা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা গ্রহণের পর কারফিউ জারি অবস্থায় প্রথম রাত অতিবাহিত করেছে জনগণ। তবে প্রাথমিক আতঙ্ক কাটিয়ে দেশজুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দেশটির স্বাধীন সব টিভি ও রেডিও স্টেশন সেনাবাহিনীর নির্দেশে বন্ধ রয়েছে এবং রাজনৈতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েক’শ সশস্ত্র সেনা রাজধানী ব্যাংককের রাস্তায় অবস্থান করছে। দেশটিতে বিবিসি, সিএনএনসহ কয়েকটি বিশ্ববিখ্যাত চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে।

ব্যাংককের একজন বাসিন্দা বিরক্ত হয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মতামত দেন। তিনি বলেন, আমি ভাল বোধ করছি যে সবকিছু শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে। পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। রেড শার্ট ও ইয়োলো শার্ট বিক্ষোভকারিরা এখন ঘরে ফিরে যাবে, এটাই শান্তি। আর সাধারণ মানুষও শান্তিতে অফিস ও অন্যান্য কাজ করতে পারবে।

গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহত রাজনৈতিক সঙ্কটের পর সেনাবাহিনী মঙ্গলবার সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় সেনাপ্রধান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার ঘোষণা দেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হয়েছে এই খবরে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি তাদের মুক্তি দাবি করেন। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়াও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে, থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান জেনারেল প্রায়ুথ চ্যান-ওচা নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। সরকার প্রধানের এই পদে স্থায়ীভাবে কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তী এই সময়ে সেনাপ্রধান তার নিয়োগকৃত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকা প্রশাসনিক কাজ সম্পাদন করবেন।

এর আগে গতকাল থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাকসহ একশ’রও বেশি রাজনীতিককে তলব করে সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে বিনা অনুমতিতে ১৫৫ জন বিশিষ্ট রাজনীতিকের দেশ ত্যাগও নিষিদ্ধ করেন তিনি। বিক্ষোভকারী অনেক নেতাই এখনো আটক রয়েছেন এবং সরকারপন্থি এমপিরা এখন আত্মগোপন করে আছেন।

এদিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পরদিন ব্যাংককের রাস্তায় বিক্ষোভ হয়েছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ডেমোক্রেসি গ্রুপ নামের কয়েকশ’ লোকের একটি দল ডেমোক্রেসি মনুমেন্টের কাছে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। এছাড়া ব্যাংকক আর্টস অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারের সামনে আরো শতাধিক লোক বিক্ষোভ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here