সন্দেহ দানা বাঁধছে পাইলটকে ঘিরে শেষ বার্তাটি কে পাঠিয়েছিলেন? অভিযানে অংশ নিচ্ছে ২৫ দেশ

22

resize.php মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের শেষ বার্তা ছিল ‘সব ঠিক আছে, শুভ রাত্রি’। কিন্তু এই বার্তাটি কে পাঠিয়েছিল? পাইলট না কি তার কোনো সহকারী? না কি বিমানের ককপিটে অন্য কেউ ছিল? এরকম নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নিখোঁজ বিমানের তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মনে। এগুলোর কোনো উত্তর নেই। কিন্তু এসব উত্তর খঁজতে এখন সন্দেহ দানা বাধছে আলোচিত সেই পাইলটকে ঘিরে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে ২৫ টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এর আগে ছিল ১৪টি। তবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এশিয়ার দেশগুলোকে। খবর বিবিসি, সিএনএন এএফপি’র।

তদন্তকারীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিমানে অবস্থান করা সবার দিকে। তারা মনে করছেন, কেউ একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিমানটিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছেন। এমনকি বিমানের যোগাযোগ ব্যবস্থাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। মালয়েশিয়ার সরকার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ যাত্রীবাহী বিমানের তথ্য সংগ্রহের জন্য আরো অনেকগুলো দেশের কাছ থেকে রাডার এবং স্যাটেলাইট তথ্য চেয়েছে। পরিবহনমন্ত্রী হিশামুদ্দিন হোসেন বলছেন বিমানটিকে খুঁজে বের করার জন্য যে ব্যাপক তল্লাশি চলছে তাতে ২৫টি দেশ সামিল হয়েছে। হোসেন বলেন, এসব দেশের তরফে যে সাড়া পাওয়া গিয়েছে তা অভূতপূর্ব। বিমানটি সম্ভ্যব্য গতিপথ বিবেচনা করে মালয়েশিয়ার সরকার দুটি এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। একটি উত্তরমুখী এবং অন্যটি দক্ষিণমুখী। বিমানে যে দুজন পাইলট ছিলেন কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পর্কেও খোঁজখবর নিচ্ছে। এদের বাড়িঘরেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্ত চলছে বিমানের অন্যান্য ক্রু এবং যাত্রীদের সম্পর্কেও। শুরু হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি তদন্ত।

শনিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক নিখোঁজ বোয়িং-৭৭৭-এর যোগাযোগ ব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো বলে জানানোর পর বিমানটির ২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রুদের ভাগ্য নতুন করে গভীর আশংকাজনক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রবিবার মালয়েশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নিউ স্ট্রেইট টাইমসের প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনাম করা হয়, ‘কে? কেন? কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে ‘ছিনতাই’ শব্দটি ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তিনি বলেন, নতুন তথ্যে প্রতীয়মান হয় যে, বিমানে থাকা কেউ একজন জেনে-বুঝেই যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে অনুসন্ধানের আওতায় নতুন করে কাজাখস্থান থেকে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত এক বিস্তীর্ণ এলাকায় সমপ্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশগুলোর নেতাদের মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিফও করা হয়েছে। কাজাখাস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগজিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, মিয়ানমার, লাওস এবং থাইল্যান্ড আছে এই তালিকায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে বোয়িং ৭৭৭ সম্পর্কে বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন। এতে করে জাহাজের বিমানটির ক্যাপ্টেন জাহারি আহমদ শাহ ও তার ফার্স্ট অফিসার ফারিক আবদুল হামিদ সম্পর্কে অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এয়ারোস্পেস কনসালটেন্সি লী হ্যাম কো-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্কট হ্যামিলটন বলেন, নাজিবের বিমানটি হাইজ্যাক হওয়ার কথা নিশ্চিত করতে অস্বীকার করার বিষয়টি অর্থপূর্ণ। হ্যামিলটন বলেন, এতে আমার কাছে মনে হয়েছে পাইলটদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নাকচ করা হচ্ছে না। তিনি (নাজিব) বলেন, তিনি কেবল হাইজ্যাকারদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here