সন্ত্রাসীর গুলিতে পাক সাংবাদিক হামিদ মীর আহত

31

jurnalistপাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর গতকাল শনিবার করাচিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছেন। জিও টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক ও জনপ্রিয় উপস্থাপক হামিদ মীরের সাথে একজন টেলিভিশন সমন্বয়কও গুলিতে আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বন্দর নগরী করাচির নাথা খান এলাকার শরয়ী ফয়সাল নামক স্থানে তার ওপর মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, গাড়ি লক্ষ্য করে বেপরোয়া গুলি চালানো হলে হামিদ মীরের শরীরে দুটি গুলি লাগে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভর্তি করানোর পর কিছুক্ষণ অচেতন ছিলেন তিনি। পরে জ্ঞান ফিরলে চিকিত্সকরা জানান, জীবনের ঝুঁকি আর নেই। এয়ারপোর্ট থেকে নিজের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় এ হামলা চালানো হয়। হামিদ মীরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসাইন ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খান। ইমরান খান টুইটার বার্তায় লিখেছেন, এই ঘটনায় আহত ও বেদনাবোধ করছি। সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের রাতের গণহত্যার ভয়াবহতা স্বচক্ষে দেখতে একদল শিক্ষার্থী নিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন প্রয়াত অধ্যাপক ও সাংবাদিক ওয়ারিস মীর। নির্মমতার চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ওয়ারিস তা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক জং পত্রিকায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য ওয়ারিসকে সমপ্রতি সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ সরকার। সেই ওয়ারিস মীরেরই সন্তান হামিদ মীর।

উল্লেখ করা যেতে পারে, হামিদ মীরই একমাত্র সাংবাদিক যিনি নিহত আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন। গতকাল তার উপর হামলার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। তবে কেউ এখনো পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি। এর আগে ২০১২ সালে মীরের গাড়িতে বোমা পেতে রেখেছিল তালেবান। পাকিস্তানের ডন পত্রিকা জানিয়েছে, মীর তার বন্ধুদের বলেছেন, তাকে যদি হত্যা করা হয় তবে আইএসআই তার জন্য দায়ী হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here