সংসদে প্রধানমন্ত্রীঃ রাষ্ট্রপতি বলেছেন নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করতে

9

PM-in-JSপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজ নবম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনের শেষ কার্যদিবস। আমি সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে জানিয়েছি, আমরা সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। রাষ্ট্রপতি আমাকে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন।’

আজ বুধবার নবম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনের শেষ কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো জরুরি অবস্থা না হলে আর এই সংসদ বসবে না। নতুন নির্বাচিত ব্যক্তিরাই আগামীর সংসদে বসবেন।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে আসুন। জনগণ ভোট দিলে উনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার গেজেট হবে। এ সময় মন্ত্রীরা রুটিন কাজ করবেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন আমি গঠন করি নাই। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সবার সঙ্গে কথা বলে এই কমিশন গঠন করেন। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বঙ্গভবনে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি। একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের অধীনে অতীতের নির্বাচনগুলো যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছে, আগামীর নির্বাচনও সেভাবে সুষ্ঠু হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে ক্ষমতা ছাড়ার সময় নানা সংকট হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর এই ৩৮ বছরে মাত্র একবার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল ২০০১ সালে। এ ছাড়া আর কখনো সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। এটা জাতির জন্য দুঃখজনক।

কাল নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার গেজেট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার গেজেট কাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে। এ সময় মন্ত্রীরা রুটিন কাজ করবেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। গত সোমবার আটজন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এর তিন দিন পর কাল নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার গেজেট প্রকাশ হবে।

যথাসময়ে আগামীর নির্বাচন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সময় যত নির্বাচন হয়েছে, কোনোটাতেই কোনো অনিয়ম হয়নি। কারণ, সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। মিডিয়াও সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো খবর প্রকাশ করেনি। যথাসময়ে আগামীর নির্বাচন হবে।’

খালেদাকে ধন্যবাদ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংসদ ৪১৮ দিন চলেছে। বিরোধীদলীয় নেতা মাত্র ১০ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি সাত ঘণ্টা ১১ মিনিট বক্তৃতা দিয়েছেন। এই অধিবেশন সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখে শুরু হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ১০ দিন হলেও তো তিনি সংসদে এসেছেন। এ জন্য উনাকে ধন্যবাদ।

সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পন্থা রেখে যেতে চাই

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা রেখে যেতে চাই। যেটা মানুষের অধিকার, তার জন্য কেন মানুষকে রক্ত দিতে হবে? পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়, সেভাবে আমাদের দেশেও হবে। আমরা চাই না, আর অসাংবিধানিকভাবে যেন ক্ষমতা পরিবর্তন হোক। এ দেশের নাগরিকদের জন্য সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পন্থা রেখে যেতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে ফোন দিয়েছিলাম। দুপুর একটা থেকে তাঁকে ফোন করা শুরু করি। উনাকে সন্ধ্যা ছয়টায় পেয়েছি। এরপর তাঁর সঙ্গে যে কথা হয়েছে, তা জাতি জানে। উনি আমাকে যা বলেছেন, তা শুনে যে ধৈর্য আমি দেখিয়েছি এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমি ফোন করে হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানালাম। উনি তা শুনলেন না।’

যুদ্ধাপরাধের রায় কার্যকর আমাদের সময়েই

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। আমরা সেই বিচার সম্পন্ন করেছি। এত কম সময়ে এত বেশিসংখ্যক আসামির বিরুদ্ধে রায় পৃথিবীর ইতিহাসে আর হয় নাই।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায়ও আমাদের সময়ে কার্যকর হবে।’

বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল

সংসদে আজ প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের গৃহীত নানা উন্নয়ন চিত্র ও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যসেবা কেন্দ্র, দুর্নীতি কমাতে অনলাইনে টেন্ডার দেওয়া কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে আর কোনো হাওয়া ভবন নেই। এমডিজির এক থেকে ছয়টি আমরা বাস্তবায়ন করেছি। এমডিজির বাস্তবায়নের হার দেখে জাতি সংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। এখন দেশে তিন কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। দেশে এখন ১০ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক আছে।’

মানুষ এখন শান্তিতে ঘুমায়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী ঘোষণা দিয়েছেন হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চান। এর মানে কি তিনি আমার মৃত্যু চান। সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, আহছানুল্লাহ মাস্টার, আইভি রহমানসহ অনেককে চারদলীয় জোটের সময় হারাতে হয়। আমাকে সরাতেও গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। আমরা ক্ষমতা আসার পর মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে।’

ইশতেহার শুধু বাস্তবায়ন নয়, অনেক বেশি করেছি

বর্তমান সরকারের সময়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার শুধু বাস্তবায়নই করিনি, অনেক বেশি বাস্তবায়ন করেছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here