সংলাপে বসিয়েছি, এটাই সন্তুষ্টি :তারানকো

13

Tarancoটানা পাঁচদিন বিরামহীন দূতিয়ালির পর নিউইয়র্ক ফিরে গেলেন তারানকো। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার তারানকো ঢাকা ছাড়ার আগে বলেন, বিবদমান দুই দলকে দুই দফা সংলাপে বসিয়েছি, এটাই সন্তুষ্টি। এখন তারা আরো সংলাপ চালিয়ে যাবেন। তৃতীয়বার সংলাপ করবেন। তবে রাজনৈতিক সংকট আর অচলাবস্থা কাটাতে সহিংসতা বন্ধ, বিরোধী নেতা কর্মীদের মুক্তি আর নির্বাচনী সিডিউল সম্পর্কে সবপক্ষের ঐকমত্য হওয়া দরকার।

জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তার ঢাকা সফরের বিস্তারিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এর আগে সকালে গুলশানে ১১০ নম্বর সড়কে ইউএনডিপির একটি অফিসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আটজন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসেন। দুই ঘণ্টার বেশি স্থায়ী সংলাপে কার্যত কোন ফল আসেনি। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও গওহর রিজভী এবং বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এ মঈন খান ও শমসের মবিন চৌধুরী যোগ দেন।

৫ জানুয়ারি ঘোষিত নির্বাচন পেছানো, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদলে অন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান, সহিংসতা আর সন্ত্রাস বন্ধ করাসহ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে তারানকোর মধ্যস্থতায় দুই দফা বৈঠকে দুই দল একমত হতে পারেনি। এ অবস্থায় ক্লান্ত ও অবসন্ন জাতিসংঘ দূত তারানকো সাংবাদিকদের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি সন্তুষ্ট। সংলাপ চলবে। আমি মনে করি দু’দলের মধ্যে সমঝোতাও হবে। অচলাবস্থার মধ্যেও তারা দুইবার বসেছেন। নেতৃত্ব, সাহস আর সদিচ্ছা কাজ করেছে। উত্তেজনা আর শঙ্কা কমবে। বর্তমান সংকটের প্রতিটি ইস্যুই আলোচনায় এসেছে।

কোন সুনির্দিষ্ট ইস্যু বা আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ না করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারানকো বলেন, বিস্তারিত কিছু বলব না। যা অর্জন করার জন্য এসেছি তা পেরেছি।

দুই দলের মধ্যে সংলাপ না হওয়া আর সহিংসতা ছিল বড় সংকট। সংলাপ ইস্যুতে অর্জন হয়েছে। সংলাপ ছাড়া সমঝোতা হওয়া কঠিন। সংলাপ ব্যর্থ হলে কি হবে এটা সবারই জানা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সাক্ষাত্ কর্মসূচি বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তারানকো বলেন, আজ (বুধবার) আমার সারাদিন খুবই ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে। অনেক কিছু করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আমার সিডিউলের সমস্যার কারণে দেখা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, সহিংসতা মুক্ত ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের পক্ষে। এদেশের জনগণের উপরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সমঝোতার মনোভাব থাকলে এটা অর্জন সম্ভব।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ দূত আরো জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোন দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বা পরিচালনার কোন নিয়ম নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here