সংঘাত ও নৈরাজ্যর পথ পরিহার করে সমঝোতায় আসতে বিএনপির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

24

hamidসংঘাত ও নৈরাজ্যর পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসার জন্য বিএনপি জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, রাজনীতির নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা দমন করতে হবে। জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। গত পাঁচ বছর শান্তি গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হেটেছি সে পথেই বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সংশ্রব ত্যাগ করে উদার, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করা এবং সরকারের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্যে এসে গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে সাহায্য করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস হিংসার রাজনীতি কখনো দেশ, সমাজ ও অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। বরং তা রাজনৈতিক পরিবেশকে অন্ধকারাচ্ছান্ন করে তোলে।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার সময় বিউগল বাজানো হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর আগামী মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অধিবেশন মূলতবি করা হয়। দীর্ঘ এক যুগ পর সংসদে প্রবেশের সময় রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনের প্রেসিডেন্ট প্লাজা ব্যবহার করেন।
জামায়াত-বিএনপির কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২০০৯ সালে কতিপয় বিরোধী রাজনৈতিক দল অসহযোগিতা ও সংঘাতের পথ গ্রহণ করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠে। তারা ক্রমাগতভাবে সংসদ বর্জন এবং সংবিধান সংশোধনের কাজে সহযোগিতা করেনি।
বিএনপিবিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধ্যকতা অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচন প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে সহিংসতা এবং নির্বাচন পরবর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার সমালোচনাও করেন তিনি বলেন রাজনীতির নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির এ ধরনের অপচষ্টো দমন করতে হবে। জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ কর্মচঞ্চল সুখী সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সকলের কাম্য। দেশ গড়ায় সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিতাপের বিষয় এই কর্মযজ্ঞে সব দলের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের দায়িত্বহীন আচরণ দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার হীন তৎপরতা দেশে কৃত্রিম বিভাজন ও সংশয় সৃষ্টি করতে পারে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা যাহাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য দেশবাসীকে সদা সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। জাতীয় ঐকমত্য ব্যতিত শান্তি ও সমৃদ্ধি স্থায়ী রূপ পেতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও হিংসার রাজনীতি পরিহার কখনো দেশ, সমাজ ও অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। বরং তা রাজনৈতিক পরিবেশকে তমসাচ্ছন্ন করে তোলে। সুতরাং আমি নির্বাচন বর্জনকারী দলসমূহকে অনুরোধ করব সংঘাত ও নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসুন। সাম্পদায়িক ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সংশ্রব ত্যাগ করে উদার, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সরকারে সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্যে এসে গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে সাহায্য করুন। রাজনীতি থেকে হিংসা, হানাহানি ও সংঘাত অবসানের মাধ্যমে সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখুন। নির্বাচনকালীন সরকারে প্রশ্নে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আমন্ত্রণ সংসদের তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল প্রত্যাখ্যান করে। বিরোধী দলকে সর্বদলীয় সরকারে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তারা যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণে আগ্রহী, সে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী দল সরকারের সে আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার পথ বেছে নেয়।
প্রধান বিরোধী দলের অসহযোগিতার প্রেক্ষাপটে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিকুল পরিবেশ সত্ত্বেও অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনকালীন সহিংসতায় ধ্বংস করা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
ভাষণে রাষ্ট্রপতি গত পাঁচ বছরে শেখ মহাজোট সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তার প্রশংসা করেন, সমালোচনা করেন বিএনপির সংসদ বর্জনের। যুদ্ধাপরাধের বিচারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং একাত্তরের চেতনা পুনরুজ্জীবনের ‘মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। এই বিচার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ার বিষয়টিও আসে রাষ্ট্রপতির ভাষণে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here