সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন, হামলা চলছেই গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটে ২ জনের মৃত্যু

51

Fireদেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চলছেই। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হিন্দু লাৈকজনদের খড়ের গাদা ও ধানে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ায় তাদেরকে হুমকি দেয়া অব্যাহত আছে। এক কথায় বলতে গেলে চরম আতংকে দিন যাপন করছেন হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন। এদিকে পৃথক ঘটনায় গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটে নিহত হয়েছেন দুই জন।

সিংড়া (নাটোর) : উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাতে হিন্দু পাড়ায় অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই পাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে নির্বাচনবিরোধী পপ্ট। তাদের কথা না শুনে ভোট দেয়ায় মঙ্গলবার রাতে পাড়ার লালচাঁন, উপেন ও নিখিল নামে ৩ জনের বাড়ির আঙ্গিনায় রাখা বিশাল কয়েকটি খড়ের স্তুপে একযোগে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে গ্রামবাসী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাড়ার হিন্দু লোকজনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি জুনাইদ আহমেদ পলক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের সোনাকুল গ্রামে তাপস নামে এক সংখ্যালঘুর বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুন আতংকে ও তা নেভাতে গিয়ে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তার কাকা সুজেন চন্দ্র দাস (৬০) । খবর পেয়ে রাতেই কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর মন্ডল ঘটনাস্থলে যান। গতকাল বেলা ১১টায় জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম, পাঁচবিবি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সেলিমসহ র্যাব-পুলিশের কমৃকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঝিনাইগাতী (শেরপুর): উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের গির্জার গেটে মঙ্গলবার রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর পরপরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ঝিনাইগাতী থানার ওসি (তদস্ত) গোলাম মোর্শেদ তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আমের আলী (৬২) নামে একজনকে আটক করেছে ।

রাণীনগর (নওগাঁ): মঙ্গলবার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা কুবড়াতলি এলাকার রেজাউলের তুলার মিলের পাশে রাখা তুলা বোঝাই একটি গাড়িতে, পশ্চিম খট্টেশ্বরের আব্দুর রাজ্জাকের ২টি, তাজিমুদ্দিনের ১টি, আবুলের ১টি, মোসাদ্দেকের ২টি, শ্রী চরণের ১টি, গোপী মোহনের ১টি, প্রাণ চরণের ১টি ও সদাশ্রী চরণের ২টিসহ ১১ টি খড়ের গাদায় আগুন দিয়ে চলে যায়। এতে সবকটি গাদা ও তুলা বোঝাই গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয় বলে জানা যায়। এব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি (তদস্ত) ছামছুর রহমান জানান, রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে তুলা বোঝাই ভটভটি ও খড়ের খাদাগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা ) : উপজেলার গোপালপুরে গত মঙ্গলবার রাতে পুলকেশ বসুর আঙিনায় রক্ষিত ধানের গাদায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছে দুর্বত্তেরা। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ধান পুড়ে যায়। পরে বাড়ির মালিকসহ আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নবর্নিবাচিত সংসদ সদস্য স.ম জগলুল হায়দার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত বাবু ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছগীর মিয়া। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

গাইবান্ধা : ‘দুর্বৃত্তদের’ হামলায় আহত খোকা রাম (৫৫) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার ভোরে মারা গৈছেন। তার বাড়ি জেলার কুপতলা ইউনিয়নের বেড়াপাড়া গ্রামে। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ১৮ দলের কর্মীরা নির্বাচনের দু’দিন আগে তাদের বাড়ি এসে খাৈকা রামকে নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে না যাবার জন্য হুমকি দেয়। এসময় তাদের সঙ্গে খোকা রামের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ১৮ দলের কর্মীরা খোকা রামকে পিটিয়ে আহত করলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সদর উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যস্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদি গ্রামের ননী গোপাল বলেন, মামলা দায়েরের পর দুইদিন পেরিয়ে গেল অথচ কেউ গ্রেফতার হলো না। হামলাকারীরা এখনো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গতকাল সিপিবি জেলা শাখার সভাপতি ওয়াজিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল প্টতিগ্র’্ত পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

সীতাকুল্প (চট্টগ্রাম) : ভাৈট কৈন্দ্রে যাওয়ার কারণে সীতাকুল্পের কয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের হুমকি দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। পৌরসদর এলাকার দত্তবাড়ি স্কুল ভোট কেন্দ্রের আশপাশে, আমিরাবাদ গ্রামে, সৈয়দপুর ইউনিয়নে, বাড়বকু্ল নামার বাজার ও কুমিরার হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজনকে নির্বাচনের আগে থেকেই হুমকি দেয়া হচ্ছিল। বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন জানান, ভোট দেয়ায় গত সোমবার বারৈয়াঢালা এলাকার লালানগর গ্রামের ননীবালা শর্মা (৭২) ও বকুল দত্তকে (৬০) পিটিয়ে গুরূতর আহত করে কয়েকজন যুবক। এছাড়া ভোটের দিন বাড়বকুল্পে তপন বড়ুয়া ও শেখেরহাটে অনিল নামে দুই সংখ্যালঘুর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। সীতাকুল্প পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন চৌধুরী বাবু জানান, ভোটের দিন থেকে বেশ কিছু যুবক সদরের ভোলাগিরি, প্রেমতলা, বৃন্দার মা’র দিঘীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে হিন্দুদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সংখ্যালঘু জানান, ভয়ে-আতংকে তারা হুমকি দাতাদের নাম প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছেন না। সংখ্যালঘুএদর মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। সীতাকুল্প থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট কারো বিরূদ্ধে অভিযোগ করেনি। তারপরও যেসব এলাকা থেকে এ ধরনের নাশকতার হুমকির খবর আমরা পাচ্ছি সেখানে আইন-শৃংখলা বাহিনী প্রৈরণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here