শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই জিএসপি সুবিধা: ড্যান মজীনা

19

mojinaমার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ওবামা যখন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছিলেন তখনই তিনি একটি কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী পোষাক শিল্পকে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। এদেশে তাজরীন ফ্যাশন ও রানা প্লাজার মতো বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না।

২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বরিশাল বিভাগের ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেরিয়েছেন এই রাষ্ট্রদূত। পরে আজ শুক্রবার বিকেলে বরিশাল সার্কিট হাউজে সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বক্তৃতা করেন। সেখানে তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নিরলস পরিশ্রমের চিত্র। বাংলাদেশের পরিশ্রমী মানুষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ঘুরে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে বাংলাদেশের মানুষ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষ।

মজীনা তার দক্ষিণাঞ্চল সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বৈচিত্রময় দেশ। এখানে একদিকে ঔষধ কোম্পানি রয়েছে, চীনামাটির জিনিস, তৈরি জুতা, পাটসহ বিশাল গার্মেন্টস সেক্টর রয়েছে। এদেশের যশোর অঞ্চলে ফুলের চাষ আবার বরিশাল অঞ্চলে ফসল ও মত্স্য চাষ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।

তিনি বলেন, এখানের মাটি উর্বর, প্রচুর পানি রয়েছে। বিরাজমান জলবায়ুতে চারটি ফসল উত্পাদন করা খুবই সহজ। বরিশালের কৃষি ও মত্স্য খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ড্যান মজীনা বলেন, আমি নিজ চোখে দেখেছি এ অঞ্চলের মানুষে তাদের পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বদ্ধপরিকর। নিজের বাড়িতেই কৃষকের খামার দেখে আমি অতীত স্মৃতি স্মরণ করেছি। আমি নিজেও কৃষক পরিবার থেকে এসেছি। জীবনের ২০ বছর গাভী গরুর দুধ সংগ্রহ করতে হয়েছে আমাকে। এ অঞ্চলের মানুষ কৃষি কাজ, মাছ চাষ ও বাগান তৈরি করে খাদ্য শস্য উত্পাদন করছে। তারা এত সহনশীল ও উদ্যমী যে এমন গুণাবলী সম্পন্ন লোক আমি আর পৃথিবীর কোনো দেশে দেখেনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরাও এখন অনেক সচেতন। তারাও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। গার্মেন্টস মালিকরা এ খাতকে আরো শক্তিশালী খাতে রূপান্তর করতে পারবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে পৃথক বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আমাদের বক্তব্য প্রদান করব। আর বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে গত ১১ জানুয়ারি ঢাকা সফরে এসে নিশা দিশাই যে বক্তব্য প্রদান করেছেন সেখানেই স্পষ্ট করা হয়েছে। ঐ বক্তব্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য। আমি তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here