শুধু জানতে চাই বেঁচে আছে কী না অপহূত আওয়ামী লীগ নেতার স্বজনরা

16

waliullahআটদিন হতে চললো। এখনো জানতে পারিনি ওলিউল্ল্যাহর অবস্থান। প্রতিদিন অপক্ষোয় থাকি, এই বুঝি তিনি ফিরলেন। প্রতীক্ষার প্রহর তো আর শেষ হয় না। শুধু জানতে চাই তিনি বেঁচে আছেন কী না? সন্তানরা জিজ্ঞাস করে, তাদের বাবা কবে ফিরবে। কিন্তু তাদের জবাব দিতে পারি না। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অপহূত হাজী মোঃ ওলিউল্ল্যাহর স্ত্রী চার সন্তানের জননী রেবেকা আক্তার রেখা। খানিক্ষণ কথা বন্ধ রেখে আবার তিনি বলেন, ইদানীং অনেকেই অপহূত হচ্ছেন, আবার অনেকে ফিরেও আসছেন স্বজনদের কাছে। আমিও সেই আশায় আছি। তিনি আরও কিছু বলতে চেয়েও কথাই বলতে পারেননি। অঝোরে কেঁদেছেন। হাজী মোঃ ওলিউল্ল্যাহ পেশায় ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা।

রাজধানীর কাফরুলের স্থানীয় বাসিন্দা হাজী মোঃ ওলিউল্ল্যাহ (৪০) এক সময় সৌদি আরব ছিলেন। সেখান থেকে ৫ বছর আগে দেশে ফেরেন। ডিশ ব্যবসার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে তিনি যুক্ত। বাসা মিরপুর-১৩ সেকশনের বি ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ৪৫ নম্বর। ৬ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। গত ২১ এপ্রিল সোমবার রাত দশটার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ঐ ঘটনায় কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ এপ্রিল একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপহূত ওলিউল্ল্যার বড় ভাই মো. সালামত উল্ল্যাহ বলেন, ওলিউল্ল্যাহ ব্যবসার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা ছিল। প্রতিদিনের মতোই ঘটনার দিন (২১ এপ্রিল, সোমবার) রাতে এলাকার অপূর্ব ক্লাব থেকে বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু বের হবার সঙ্গে সঙ্গে ১০/১২ জনের একটি টিম অস্ত্রের মুখে তাকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। আর ঘটনার পর থেকেই তার দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, অপহরণের পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তারা যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তার ব্যাপারে কেউ কোন তথ্য জানাতে পারেনি।

কারো সঙ্গে বিরোধ ছিল কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে ওলিউল্ল্যাহ ডিশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। সম্প্রতি এ ডিশ ব্যবসা নিয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল।

এ বিরোধের জের ধরে তাকে অপহরণ করেছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন কিছুকেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, অপহরণের পর থেকে চরম আশংকার মধ্যে দিয়ে গোটা পরিবার দিনাতিপাত করছি। যেখানে খবর পাই, সেখানেই ছুটে যাচ্ছি। ছুটে গিয়েছি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার দফতরে। কিন্তু কেউ কোন ধরনের তথ্য আমাদের জানাতে পারেনি।

ভাইয়ের কথা বলতে বলতে সালামত উল্ল্যাহর কণ্ঠস্বর একসময় ভারী হয়ে ওঠে। তিনিও একই প্রশ্ন করে বলেন, আমরা জানতে চাই, ওলিউল্ল্যাহ কী বেঁচে আছে ?

কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ঘটনার পর থেকে ওলিউল্ল্যার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তার বন্ধু- বান্ধব, ব্যবসায়ী সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তবে এ মুহূর্তে কোন নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওলিউল্ল্যার সঙ্গে কারো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কী না এমন প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো মাথায় নিয়েই তদন্ত চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মুকুল মিয়া বলেন, ঘটনার পর কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। আর ঘটনার ৬ দিন পর শনিবার নিয়মিত মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগাম কিছু বলা বা কোন ধারণার কথা বলা সম্ভব না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here