শাহ আমানতে ফের কোটি টাকার সোনা আটক, সাত রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার

14

goldচট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এক যাত্রীর হাতের সঙ্গে কৌশলে পেঁচানো অবস্থায় রাখা ২৪টি সোনার বার আটক করা হয়েছে। তবে আটক ওই বিমানযাত্রী কাস্টমস কক্ষ থেকে পালিয়ে গেছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে ওই যাত্রী চট্টগ্রামে আসে।

এ ছাড়া মঙ্গলবার রাতে পরিচয় গোপন করে সৌদি আরবে যাওয়ার সময় মিয়ানমারের সাতজন রোহিঙ্গা নাগরিককে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অবৈধভাবে আনা সোনার চালান আটকের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মশিয়ার রহমান মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিজি ০৩৮ বিমানে নিয়মিত তল্লাশির সময় যাত্রী মো. ইসমাইলের হাতের সঙ্গে পেঁচানো অবস্থায় ২৪টি সোনার বার আটক করা হয়। এগুলোর বাজারমূল্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা। তাকে বিমান থেকে নামিয়ে কাস্টমসের কক্ষে বসিয়ে রেখে অন্য যাত্রীদের তল্লাশি করছিলাম। এ ব্যস্ততার ফাঁকে সে হঠাৎ দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়।’

কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, ওই যাত্রীর পাসপোর্ট, মোবাইল ও ব্যাগ তাঁদের হেফাজতে রয়েছে। ওই যাত্রীর বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায়। নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করার পর ফেরারি আসামি হিসেবে মামলা করা হবে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি জেদ্দা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা গেছে। ইসমাইল নামের এ ব্যক্তি ঢাকার যাত্রী ছিল। উল্লেখ্য, কয়েক মাসে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও রাজধানীর হয়রত শাহজালাল বিমানবন্দরে ব্যাপক হারে অবৈধ সোনার চালান আটকের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাচারের চেষ্টাকালে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে ১৭ কেজি সোনা আটক হয়েছে।

সাত রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার : মঙ্গলবার রাত ১২টায় চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দাগামী বাংলাদেশ বিমানের ০৩৭ ফ্লাইটের যাত্রী ছিল আটক সাত রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বোর্ডিং কার্ড সংগ্রহের চেষ্টাকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়। তারা হলো খোরশেদ আলম, শাহ আলম, মহিউদ্দিন, মো. আজিজ, আমেনা বেগম, জহুরা বেগম ও রেহেনা বেগম।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার নূর-ই-আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে জেদ্দা যাওয়ার জন্য কাউন্টার থেকে বোর্ডিং কার্ড নিতে লাইনে দাঁড়ায় তারা। এ সময় দায়িত্বরত সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক।’

বন্দরের ব্যবস্থাপক জানান, আটককৃতদের পাসপোর্টে ঠিকানা দেখানো হয়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা। এ ছাড়া আটককৃতদের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here