শতাধিক উপজেলা ১৮ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ।

12

newধাপে ধাপে এবার চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসাবে আজ রবিবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে একশর অধিক উপজেলায় ১৮ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেই এই নির্বাচন করতে যাচ্ছে ইসি। এদিকে, উপজেলা নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রের তালিকা চেয়ে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে কামিশন।

উপজেলা নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ফেব্রুয়ারিতে দেশজুড়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও ওই সময়েই কিছু উপজেলায় নির্বাচন করতে হচ্ছে।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, আজ রবিবার সকাল ১১টায় সিইসির সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে গতকাল সিইসির সভাপতিত্বে ইসি কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। এতে সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কমিশন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলাগুলোর যে তালিকা দেয়া হয় তাতে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ১১৩টি উপজেলায় নির্বাচন করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানায় ইসি। এ ব্যাপারে কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে ধারণা দেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণা করা হলে কমিশনকে পর্যাপ্ত সহায়তা করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

ইসির পাশাপাশি আজ সকালের মধ্যে স্থানীয় মন্ত্রণালয় থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা পরিষদের একটি তালিকা পাঠানোর কথা রয়েছে। ওই তালিকা সমন্বয় করে তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। বেশ কয়েকটি উপজেলা পরিষদের ক্ষেত্রে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া তিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ও উপজেলা নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইসিকে জানান হয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে এসএসসির হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা একটু পরিবর্তন করা হলে ১৮ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা সম্ভব। যদিও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের ছুটি রয়েছে। এছাড়াও মার্চ মাসে ১৮ থেকে ২৫ মার্চ দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা যেতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরো জানান হয়েছে, পুরো এপ্রিল জুড়ে এইচএসসি পরীক্ষা থাকবে। ওই সময়ে ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। তবে আলোচনা সাপেক্ষে মে মাসে ভোট গ্রহণ হতে পারে। মার্চ মাসের প্রথমার্ধে পরীক্ষা থাকার কারণে ২৫ মার্চ পর্যন্ত যে উপজেলাগুলোতে নির্বাচন বকেয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার নির্বাচনও ফেব্রুয়ারিতেই হবে। এই হিসাব ধরলে প্রায় আড়াইশ উপজেলায় নির্বাচন হতে পারে। কমিশন গতকাল রাত পর্যন্ত যে তালিকা করেছে তাতে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। তবে কত উপজেলার তফসিল ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।

বৈঠক শেষে কাজী রকিবউদ্দীন বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম দফায় মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা নির্বাচন করা হবে। কখন কিভাবে নির্বাচন করা যায় সে ব্যাপারে কমিশন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছে। কারণ, সামনে ছাত্র-ছাত্রীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। তাদের অসুবিধা না করে নির্বাচন করতে চায় কমিশন। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় নির্বাচন করতে হচ্ছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধান অনুসারে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন করার দায়িত্ব ইসির নয়। আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। সরকার চাইলে গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার পরেও এ নির্বাচন করতে পারে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন পিছাতে পারবে।

১৯৮২ সালে উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন হয়। ১৯৮৫ সালে প্রথমবারের মতো এবং ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে আবার উপজেলা পদ্ধতি চালু করে; কিন্তু ওই সময়ে নির্বাচন হয়নি। ১৯ বছর পর ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের তৃতীয় নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর উপজেলা পরিষদগুলোর প্রথম বৈঠক হয় ওই বছরের ২৩ ফেব্রয়ারি থেকে ২৭ মের মধ্যে। আইন অনুসারে প্রথম বৈঠকের দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর হচ্ছে উপজেলা পরিষদের মেয়াদ। এ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। দেশে বর্তমানে ৪৮৭টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। এরমধ্যে নলডাঙ্গার গেজেট বিজ্ঞপ্তি পায়নি ইসি। তারাকান্দায় ভোট হয় ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালী, বগুড়া ও রাজবাড়িতে নবগঠিত চার উপজেলা রয়েছে। এ ছয়টি বাদ দিয়ে ৪৮১টি উপজেলার মধ্যে ১১৩টি উপজেলার নির্বাচনের মেয়াদ ১০ মার্চের মধ্যে শেষ হচ্ছে। কমিশনের মতে, ফেব্রুয়ারিতে ৪৮ জেলার ১১৩টি, মার্চে ৫৯ জেলার ২২১টি, এপ্রিলে ২৬ জেলার ৩৬টি এবং মে মাসে ৩৫টি জেলার ৮৬টি উপজেলাসহ জুন-জুলাই মাসেও বেশকিছু উপজেলার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here