লাগাতার অবরোধে গতকাল রাজধানী ছিল কর্মচঞ্চল

16

newবিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধের প্রথম দিন গতকাল বুধবার রাজধানীতে ছিল না কোন ধরনের পিকেটিং। ঘটেনি কোন সহিংস ঘটনা, ফোটেনি ককটেল। নগর জীবন ছিল অনেকটা কর্মচঞ্চল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিল আগের মতোই সতর্ক অবস্থানে। গণপরিবহনের চলাচলও ছিল চোখে পড়ার মত। ট্রেন ও নৌ চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

ঢাকার আশপাশের এলাকায় বাস চলাচল করলেও দূরপাল্লার কোন বাস ছাড়েনি। তবে মহাসড়কে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে বেশকিছু পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলতে দেখা গেছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবনের সামনে থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে। তবে বালুর ট্রাক দিয়ে যে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছিল তা সরানো হয়নি।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটক গতকালও ছিল তালাবদ্ধ। কোন নেতাকর্মীকে সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামান মোতায়েন রয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিল অনেকটা খোশ মেজাজে। নাইটিঙ্গেল ও ফকিরাপুল মোড়ের ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়েছে। ফলে সকাল থেকেই যান চলাচল শুরু হয়। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল এলাকায় অধিকাংশ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় যেসব গলি থেকে ককটেল ছোঁড়া হত সেসব এলাকায় পুলিশ ছিল সতর্ক অবস্থায়।

সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সকালের দিকে ৭টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। আর এ সময় দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা থেকে ৪৮টি লঞ্চ ঢাকায় পৌঁছে বলে টার্মিনালসূত্র নিশ্চিত করেছে।

আগামী ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে ১৮ দলীয় জোট ২৬ নভেম্বর থেকে পাঁচ দফায় মোট ২২ দিন অবরোধ পালন করে। গত ২৪ ডিসেম্বর বিকাল ৫টায় এ অবরোধ শেষ হয়। এরপর দুইদিন (২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর) ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি সফল করতে না পারায় গত সোমবার রাতে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি (নৌপথ রেলপথ ও সড়ক অবরোধ) ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন। গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here