লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা আজ

11

main_logo৪৩তম স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণ করতে আজ সারাদেশের মানুষ গেয়ে উঠবে জাতীয় সঙ্গীত। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ এ গানের সুরে ভাসবে পুরো দেশ। বুধবার বেলা ১১ টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে সমবেত মানুষের সঙ্গে একই সময়ে সুর মিলিয়ে গাইবে সারাবিশ্বের বাঙালীরাও। ‘জাতীয় সংগীত গাইব, বিশ্ব রেকর্ড গড়বো’ স্লোগান নিয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডে সমবেত হবেন তিন লাখ মানুষ। সবাই এক সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সৃষ্টি করবে এক অনন্য ইতিহাসের। এর আগে কোথাও এত মানুষ একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে একজোট হয়নি। ‘গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর প্রত্যয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেয়া হয়েছে অনন্য এই উদ্যোগ। এই অভূতপূর্ব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

আজ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশের জন্য দুয়ার উন্মুক্ত করে দেয়া হবে সকাল সাড়ে ছ’টায়। শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে সকাল পৌনে ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বেলা ১১টায় লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে জাতীয় সঙ্গীত। পরপর তিনবার গাওয়া হবে গানটি। শুধু প্যারেড গ্রাউন্ডেই নয়, সারাদেশের মানুষকেই সকাল ১১টায় যে যেখানে রয়েছেন সেখানে দাঁড়িয়ে এ জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন। তিনি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রবেশ করবেন এবং সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেবেন। এরপরই শুরু হবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন পর্ব।

সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় আব্দুল জব্বার, ফাতেমা তুজ জোহরা, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মীতা হক, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তপন মাহমুদ, তিমির নন্দী, বুলবুল মহলানবীশ, শাহীন সামাদ, সুজিত মোস্তফা, ফরিদা পারভীন, চন্দনা মজুমদার এবং ফকির আলমগীরসহ দেশ বরেণ্য শিল্পীরা অংশ নেবেন।

এই বিশাল আয়োজনকে স্বীকৃতি দিতে গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের মনোনীত প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকবেন। প্রতি ৫০ জনে কমপক্ষে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করবেন। সঠিক সুরে, সঠিক সময়ে, উচ্চৈঃস্বরে একসাথে জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম ১০ লাইন গাইতে পারলেই বাংলাদেশ স্থান করে নেবে গিনেজ বুকে। তবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫ শতাংশও যদি গুনগুন করে অথবা ভুল করে তাহলে এই আয়োজন সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হবে।

যেসব রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করা যাবে

প্যারেড স্কোয়ারের মোট পাঁচটি প্রবেশ দ্বার দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভেন্যুতে প্রবেশ করবেন। প্যারেড স্কোয়ারের উত্তর দিক থেকে আসা অংশগ্রণকারীগণ মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর দিয়ে এসে রোকেয়া সরণির উত্তর প্রান্ত দিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করবেন। পশ্চিম দিক থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা শ্যামলীর শিশু মেলার রাস্তা ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের রাস্তা দিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করবেন। দক্ষিণ থেকে আসা অংশগ্রহণকারীগণ বিজয় সরণির পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে সামরিক জাদুঘরের পাশের রাস্তা হয়ে বিজয় সরণির দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করবেন। ছাত্র-ছাত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে প্যারেড স্কোয়ারের পেছন দিক দিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করবে।

প্রতিটি গেট থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণকারীদের গাইড করে জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারের ভেন্যুতে নিয়ে আসবেন। এছাড়াও সমাবেশ স্থলে প্রবেশ, অবস্থান ও স্থান ত্যাগের ব্যাপারে সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্যরত সদস্যদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদেরকে ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ ইত্যাদি সঙ্গে নিতে নিষেধ করা হয়েছে।

যেসব রাস্তা বন্ধ রাখা হবে সেগুলো হলো

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সংসদ ভবন এলাকারখেজুর বাগান, বিজয় সরণি মোড় হতে চন্দ্রিমা উদ্যান, শ্যামলী শিশু মেলা থেকে আগারগাঁও মোড়, মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে এর উত্তর পাশের রাস্তা এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তায় যানবাহন চলবে না। অংশগ্রহণকারীদের পূর্ব নির্ধারিত গাড়িতে বহন করা হবে। শুধু আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া ব্যক্তিগত কোন গাড়ি আনা যাবে না।

রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ এবং মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), রাজশাহ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাবি ও রুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ নগরীর বিভিন্ন শহীদ মিনারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’য় একযোগে জাতীয় সংগীত গাইবে বলে জানা গেছে।

যশোর অফিস জানায়, শহরের টাউন হল ময়দান, পালবাড়ি ভাস্কর্যের মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, মণিহার চত্বর, মুড়লির মোড় ও চাঁচড়ার মোড়ে বেলা ১১টা জাতীয় সংগীত গাওয়া হবে। সবাইকে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের সাথে একই সময়ে লাখো মানুষের কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ কর্মসূচিকে সফল করতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বরিশাল অফিস জানায়, বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বেলা ১১টায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিত রাখার জন্য বরিশাল শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিত চিঠি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসব স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত গাওয়ার চর্চা করতে বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here