র‌্যাবের হাতে হত্যার শঙ্কায় নজরুলের শ্বশুর

16

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

 

র‌্যাবের হাতে হত্যার শঙ্কায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের নিহত কাউন্সিলর নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। সাত খুনের ঘটনায় অনুষ্ঠিত গণশুনানির দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সাক্ষ্যপ্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো চাপ আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমার ওপর কোনো চাপ নেই। তবে র‌্যাবের বিরুদ্ধে কথা বলার পর থেকে আমি জীবনের নিরাপত্তায় শঙ্কিত। আমাকে র‌্যাব মেরে ফেলতে পারে। মিডিয়ার মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই আমার জীবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হোক।’

নজরুল ইসলাম ও চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র‌্যাবকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেয়ার পর থেকেই র‌্যাব তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শহীদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তৃতীয় আসামি হাসমতউল্লাহ হাসুর গ্রেফতার প্রসঙ্গে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘হাসু আমার আপন ছোট ভাই। সে গ্রেফতার হয়েছে শুনেছি। কিন্তু কোথায় আছে তা জানি না। হাসু কোথায় আছে এটা মিডিয়াও বলতে পারছে না। আমরা কিভাবে বলবো।’

এদিকে নজরুল ইসলামের ভাই আবদুস সালাম গণশুনানি অংশ নিয়ে বলেছেন, ‘এভাবে ডিসি অফিসের সার্কিট অফিসে এসে লোকজন স্বাক্ষ্য দিতে ভয় পায়। কারণ এখানে অনেক মিডিয়াসহ লোকজনের নজর থাকায় অনেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও কেউ আসেনি। তাই তদন্ত কমিটির উচিত ঘটনাস্থলসহ সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়ে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা। কারণ আদালত এলাকাতেও নূর হোসেনের প্রচুর লোকজন আছে।’ পরে তার দাবির প্রেক্ষিতে প্রেক্ষিতে শুনানির দিন আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী শনিবার সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজে এ গণশুনানি হবে।

দুপুর সোয়া দুইটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজে দ্বিতীয় দিনের গণশুনানি চলাকালে তদন্ত কমিটির প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলীর মোল্লা এক ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, ১২ ও ১৫ মে দুইদিন সার্কিট হাউজে গণশুনানিতে ইতোমধ্যে অনেক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এসব প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

র‌্যাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান আলী মোল্লা জানান, যাকে প্রয়োজন হবে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জানা গেছে, আজকের গণশুনানিতে ৮৭ জন নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৬০ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন। স্বাক্ষ্য প্রদানকারী সকলেই ৭ খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও নূর হোসেনকে দায়ী করেছেন।

তারা বলেছেন, নূর হোসেনের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই নূর হোসেন টাকা দিয়ে র‌্যাবের মাধ্যমে নজরুলকে হত্যা করিয়েছে। এর আগে গত ১২ মে একই স্থানে গণশুনানির প্রথম দিনে ছয়জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here