রিজভী কারাগারে, রিমান্ড শুনানি হবে আগামি ৪ ডিসেম্বর

10

image_89615রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হওয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ শনিবার ভোরে দলীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে তাকে এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। এ সময় ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে বিএনপির কার্যালয় তছনছ করা হয়। পরে রিজভীকে শাহবাগে বাসে আগুন দেয়ার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিকালে ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ মামলায় পুলিশ তাকে ১০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছে। অন্য দিকে, রিজভীর জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। আগামী ৪ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম আশিকুর রহমান।

১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি শুরুর পৌনে ২ ঘণ্টা আগে আজ ভোর সোয়া ৪টার দিকে রিজভীকে আটক করে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে ১৮ দলের ৭১ ঘণ্টা অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। এতে ১৮ জন অগ্নিদগ্ধ হন, যার মধ্যে দুজন এরই মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় পুলিশের করা মামলায় রিজভী ছাড়াও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সালাউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য-সচিব আব্দুস সালাম ছাড়াও আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার পর শনিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে রিজভী ও বেলাল আহমেদকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

বাইরে পুলিশের কড়া অবস্থানের মধ্যেই বেশ কিছু দিন ধরে ফটকে তালা আটকে দলীয় কার্যালয়েই থাকছিলেন রিজভী। সেখানে থেকে সংবাদ সম্মেলনসহ দলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন তিনি। বিএনপি কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান—সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দড়ি ও মই বেয়ে ভবনের দোতলায় উঠে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর তৃতীয় তলার দরজা ভেঙে রিজভীকে আটক করে নিয়ে যায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ মাস আগেও অভিযান চালিয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়। তখন রিজভীও গ্রেপ্তার হয়ে কিছু দিন কারাগারে ছিলেন।

রিজভীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সরকার বর্বরভাবে দমনীতির মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে। তিনি অবিলম্বে রিজভীসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত এক মাসে হরতাল-অবরোধের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো. নাছির উদ্দিন ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here