রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের জন্য খালেদার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা ॥ নাসিম

20

nasimআওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, যাদের ভুল পরামর্শে বিএনপি ডুবেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তাহলে বৈরী অবস্থা থেকে দলকে রক্ষা করতে পারবেন। আর সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অভিযান নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যথাসময় প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া একটি দেশকে ইঙ্গিত দিয়ে এদেশের যৌথবাহিনীর সদস্যদের ভিনদেশী বলে বক্তব্য দিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
তিনি বলেন, শান্তির জন্য মাঝে মাঝে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। সে কারণে যৌথবাহিনীও একটু কঠোর হয়েছে। উনি (খালেদা জিয়া) রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে ‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে’ চাপানোর চেষ্টা করছেন। মাঠে ও নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও জয়লাভ হওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আসলে তাঁর (খালেদা জিয়া) শান্ত হওয়া দরকার।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ভবিষ্যতেও সংবিধান অনুয়ায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। এরমধ্যে সংলাপের সুযোগ নেই, নির্বাচনেরও কোন সুযোগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান প্রসঙ্গে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদক সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাদের এখতিয়ার অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবে। তাছাড়া সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে।
বৈঠকে বিএনপির জামায়াতের নানা নৈরাজ্যের পরও শান্তিপূর্ণভাবে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। বৈঠকে বিচারপতি হাবিবুর রহমান, সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহান ও নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত সবার প্রতি শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও তরিকত ফেডারেশনকে ১৪ দলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনের আগের বৈঠকে গত ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ছাড়া শরিক অন্য দলের নেতাদের দাওয়াত না দেয়ায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে বৈঠকের সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নাম লিখে নেন। আগামী দিনে যেকোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দেয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেন। এছাড়া সাম্প্রদায়িক হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেও বক্তব্য দেন ডা. অসীত বরণ রায়সহ কয়েকজন নেতা।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, মহাসচিব লায়ন এম এ আওয়াল, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাসদ একাংশের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here