রাবিতে কুপিয়ে ছাত্রলীগ নেতার গোড়ালি বিচ্ছিন্ন

14

bsl2 bsl5জনতার নিউজঃ

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদ হাসানের বাম পা কেটে দিয়েছে শিবিরের দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার সাথে থাকা ছাত্রলীগের ছাত্র-বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক টগর মোহাম্মদ সালেহীকেও কুপিয়ে আহত করে তারা। আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাবিবুর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ শিবিরকে দায়ী করেছে। গুরুতর আহত মাসুদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আয়াতুল্লাহ বেহেস্তির ছোট ভাই। টগর মোহাম্মদ সালেহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আহত দুজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সকের পরামর্শে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে তাদের ঢাকার জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

তাদের সঙ্গে থাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান জানান, তাদের বহনকারী এ্যাম্বুলেন্সটি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার হূদরোগ ইনস্টিটিউটে পৌঁছে। সেখানে ভতির্র পরই আগে থেকে প্রস্তুত থাকা চিকিত্সকরা মাসুদ ও টগরের শরীরে জরুরী অস্ত্রপচার শুরু করেছেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাদের শরীরে অস্ত্রপচার চলছিল বলেও জানান তিনি। চিকিত্সকের বরাত দিয়ে আতিকুর রহমান আরো জানান, মাসুদের ডান পা গোড়ালী থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সেটি আর জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। তার বাম পায়ের পাতা জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছেন চিকিত্সকরা। এছাড়া তার মাথায় ও দুই হাতে একাধিক গুরুতর আঘাত জণিত ক্ষত রয়েছে। তবে মাসুদ এখনও আশঙ্কা মুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে টগরের ডান হাত ও ডান পায়ের রগ কেটে গেছে। তার মাথায়ও একাধিক ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। এর আগে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সকদের পরামর্শে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে দু’জনকেই উন্নত চিকিত্সার জন্য এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার অভিযোগ, শিবির ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবেই হামলা চালিয়েছে।

যে কারণে শিবিরের হামলা

পুলিশ এবং ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো বলছে, মাসুদ ও সালেহ উভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের আবাসিক ছাত্র। গত শনিবার রাত ১২টার দিকে মাদার বখ্শ হলের ২২১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র এবং ওই হল শাখা ছাত্রশিবিরে সভাপতি ওয়ালিউল্ল্লাহকে হলের ১০৫ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনায় মাসুদ হাসানের ভূমিকা ছিল মূখ্য। ওই ঘটনার পর থেকেই প্রতিশোধ নিতে শিবিরের একাধিক ক্যাডার গ্রুপ প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ওই ঘটনার জেরধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুত থাকা শিবির ক্যাডাররা মঙ্গলবার সকালে সুযোগ বুঝে মাসুদ হাসানের উপর নৃশংস হামলা চালিয়ে তার দু’পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা অপর ছাত্রলীগ নেতা টগর মোহম্মদ সালেহীর হাত-পায়ের রগ কাটে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে শিবির ক্যাডাররা তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়েব শাহরিয়ার দাবি করেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শিবির জড়িত নয়। গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা মহড়া দিয়ে আসছে। ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। গত শনিবার রাতে মাদার বখশ হলের সভাপতির উপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে শিবিরই এই হামলা চালিয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে মাদার বখশ হল শাখা শিবির সভাপতি ওয়ালিউল্লাহকে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দিয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ ও অনিক সাহা। তবে পুলিশ ওয়ালিউল্লাহ শিবিরের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

জড়িত সন্দেহে আটক ১৫

এদিকে এক ছাত্রলীগের নেতার পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন এবং আরেক ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কাটার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নগরীর মতিহার থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে। ঘটনার পরপরই মহানগর পুলিশ নগরীজুড়ে অভিযান শুরু করে। তবে আটকৃতদের নামপরিচয় জানানো হয়নি। অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here