রাজধানীতে শক্তির মহড়া আওয়ামী লীগের

17

AL Misilদীর্ঘদিন পর রাজধানীতে সাংগঠনিক শক্তির মহড়া দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলের ডাকা ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচির নামে সহিংসতা ও নাশকতা মোকাবেলায় গতকাল রবিবার গোটা রাজধানী ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। রাজপথ দখলের এ মহড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে বিরোধী দলকে মোকাবেলায় রাজপথে এমন শক্তির প্রদর্শন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেশ চাঙ্গা করে তুলেছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আহূত ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে দেশবাসীকে সামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজধানীর নয়া পল্টনে সমবেত হওয়ার জন্য জোটের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া। এ নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার কমতি ছিল না। কিন্তু বিরোধী দলের এই কর্মসূচি সফল হয়নি। বিএনপি-জামায়াতসহ জোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের রাজপথে দেখা মেলেনি। বরং গোটা রাজধানী ছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থকদের দখলে। গণতন্ত্র রক্ষা এবং জনগণের যানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি তারা যৌথ বাহিনীকে সহায়তা করতে রাজধানীর সড়ক এবং প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমন্ডিস্থ দলের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিরোধী দলের যে কোন সহিংসতা ও নাশকতা মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি ছিল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অপরাহ্নে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ রাজধানীর শতাধিক স্থানে জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করে।

রবিবার ভোর থেকে নগরীর ঢোকার আটটি পয়েন্টে (গাবতলী, আমিনবাজার, উত্তরা, খিলগাঁও, বাবুবাজার, সদরঘাট, যাত্রাবাড়ি ও ডেমরা) পতাকা ও লাঠি হাতে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনেও জড়ো হতে থাকেন যুবলীগ, স্বেছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ ও সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোটের নেতাকর্মীরা। অধিকাংশ নেতাকর্মীর হাতে বাঁশের লাঠি, ক্রিকেট স্টাম্প ছিল। শনিবার রাত থেকেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও রাজধানী প্রবেশমুখগুলোতে বসানো হয়েছিল বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা। এ জন্য নগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে রাতে নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়। এছাড়া দিনভর দলের সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে মনিটরিং সেলের মাধ্যমে রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের কার্যক্রম, গতিবিধি পর্যাবেক্ষণ করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ টিমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সার্বক্ষণিক ঢাকার বিভিন্নস্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ঢাকা শহরের প্রতিটি পয়েন্টে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন। আমার জানা মতে, কোনো নেতাকর্মী এখনো পর্যন্ত কোথাও কাউকে আঘাত করেনি। আইনভঙ্গ করলে সেটি দেখবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু অরাজকতা করলে তার জবাব দেবে আওয়ামী লীগ।

দলীয় নেতাকর্মীরা গতকাল ভোর থেকেই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেত হয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মানববন্ধন করে। এ সময় বিক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ ও সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোটের নেতাকর্মীরা। দলীয় কার্যালয় থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ গেট, জিরো পয়েন্টে, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট এলাকায় মিছিল সমাবেশ করে। আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রেসক্লাবে এবং বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সঙ্গে কিছুটা ইট-পাটকেল বিনিময় হলেও সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে তা বেশিদূর গড়ায়নি।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান সমাবেশ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসীদের মহড়াকে কঠোর হস্তে দমন করেছে। বিরোধী দলের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসীদের দিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তা ভেস্তে গেছে।

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যখন সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয় তখন তো এ অবস্থা হবেই। বিএনপি কর্মসূচির নামে ঢাকা শহরে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে চায় কিন্তু আমরা তা হতে দিতে পারি না।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, আমরা জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্র রক্ষায় লাঠিহাতে শনিবার থেকেই মাঠে নেমেছি, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে অবস্থান করবো। খালেদা জিয়ার আহ্বানে ঢাকায় একটা মাছিও প্রবেশ করেনি। তার (বেগম জিয়া) ডাকে মানুষ আর রাস্তায় নামে না। তার ক্ষমতা শেষ। এ অবস্থায় উনার উচিত বিএনপির চেয়ারপার্সনের পদ থেকে পদত্যাগ করা।

রাজধানীর আজিমপুরে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে মিছিল সমাবেশ করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গাবতলীতে মিছিল সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আসলামুল হক এমপি। এ ছাড়া আবদুল্ল¬াহপুরে আরেকটি সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর উত্তর। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। ধানমন্ডিতে আওয়ামী সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১ ও শেওড়াপাড়া, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর, কদমতলী, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমাকের্ট, নীলক্ষেত, ফামগেট, মহাখালি, তেজগাঁও, কাওরানবাজার, বিশ্বরোর্ড, বিমানবন্দর এলাকাসহ রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here